Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৮ ||  ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

সুবিধা নয়, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই: জিএম কাদের

সংসদ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০০:০৪, ২৬ নভেম্বর ২০২১  
সুবিধা নয়, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই: জিএম কাদের

ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদ উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রার্থীরা একটি কথা-ই বলছেন, ‘আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমরা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা চাই না।’ 

তিনি বলেন, আমরা যাতে সঠিকভাবে নির্বাচন করতে পারি সেই ব্যবস্থা চাই। তার মানে এই ব্যবস্থাটি এখন কাজ করছে না। আমার মনে হয়, স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হলেও আজও সম্পূর্ণভাবে তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। না হলে এখনও জনগণকে দাবি করতে হয় নির্বাচন ব্যবস্থা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। 

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ থাকলে কখনোই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জাতির পিতা কোনো বিশেষ দলের নিজস্ব সম্পদ নয়। তিনি এ দেশের সব দলের সব মানুষের জাতির পিতা। তাকে কুক্ষিগত করে রাখতে চাইলে তার সার্বজনীন চরিত্রকে খাটো করা হয়। বিশ্বে অনেক দেশে জাতির পিতা আছে। তারা তাদের জাতির পিতাকে যেভাবে সার্বজনীনভাবে সম্মান দিয়ে রাখে। আমাদেরও গোটা জাতির সেভাবে জাতির পিতাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে রাখতে হবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের শেষ অংশে বলেছেন, ‘‘বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের মধ্যে ঐক্য। ঐক্য গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক দলসমূহকে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আসুন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মধ্য দিয়ে লাখো শহিদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।” আমরাও মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সহমত পোষণ করি। দেশ থেকে প্রতিহিংসার রাজনীতি সমূলে বিনষ্ট করতে হবে। প্রয়াত কিংবা জীবিত জাতীয় নেতা-নেত্রী, রাষ্ট্রনায়কদের প্রতি সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে। কেউ যদি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকে অসম্মান বা গালি দিয়ে কথা বলেন, তিনি নিজে তার নেতা নেত্রীর প্রতি পাল্টা অসম্মান করার সুযোগ সৃষ্টি করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম নিয়ে অনেকেই মুখে কাঁদেন কিন্তু সবাই কি তার আদর্শ বুকে ধারণ করেন? বঙ্গবন্ধু তো দুর্নীতি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আজকে করাপশনের কথা বলতে হয়। এ বাংলার মাটি থেকে করাপশন উৎখাত করতে হবে। করাপশন আমার বাংলার কৃষক করে না। করাপশন বাংলার মজদুর করে না। করাপশন করি আমরা শিক্ষিত সমাজ। যারা আজকে ওদের টাকা দিয়ে লেখাপড়া করেছি। আজ যেখানে যাবেন, করাপশন দেখবেন। আমাদের রাস্তা খুঁড়তে যান, করাপশন। খাদ্য কিনতে যান করাপশন, জিনিস কিনতে যান করাপশন। বিদেশে গেলে টাকার উপর করাপশন। তারা কারা? আমরা যে ৫ পারসেন্ট শিক্ষিত সমাজ, আমরা হলাম দুনিয়ার সবচেয়ে করাপ্ট পিপল, আজ আমরাই করি বক্তৃতা! আমরা লিখি খবরের কাগজে, আমরাই বড়াই করি।” এভাবে সত্য কথা বলতে পারতেন বলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলার মানুষের প্রকৃত বন্ধু হতে পেরেছিলেন।

সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এই কথাটির দাবি এখনো আমরা শুনি। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কিছু দিক আমাদের সংবিধান থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ থাকলে কোনো সময়েই আমাদের দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। আজ আমরা আনন্দ উৎসাহ নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। আমি চাই তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আনন্দ উৎসাহ নিয়ে যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী উদযাপন করতে পারে। সে পথ প্রশস্ত করে যেতে হবে আমাদেরই। আজ আমাদের সকলের অঙ্গীকার হোক, বিগত দিনের ব্যর্থতা, গ্লানি মুছে ফেলে এগিয়ে যাবো ঐক্যবদ্ধভাবে।

আসাদ/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়