ঢাকা     সোমবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১১ ১৪২৯ ||  ২৯ সফর ১৪৪৪

বিনামূল্যে চিকিৎসার বাতিঘর জহুরুন্নেছা-মতিন ক্লিনিক

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫০, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১১:৪১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খোয়াই নদী। সামনে পেছনে মরা নদী। চারদিকে সবুজ গাছপালা। হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার কোর্টআন্দর গ্রামের পরিবেশ এমনই। এ গ্রামের দেওয়ানবাড়িতে জহুরুন্নেছা-মতিন ক্লিনিক নামে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এখানে বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র লোকেরা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে এ ক্লিনিককে সুচিকিৎসার বাতিঘর হিসেবে পরিচিত। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার চিকিৎসা প্রদান করা হয় এখানে। গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ জন রোগী দেখা হয় ক্লিনিকটিতে।

২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় জহুরুন্নেছা-মতিন ক্লিনিক। চালু হওয়ার পর ওই বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ক্লিনিকটিতে রোগী দেখা হয় ৩ হাজার ৪৮২জন। ২০২১ সালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩৪২ জন। সর্বশেষ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন ক্লিনিকটি থেকে।

গ্রামের রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ডা. সাবিনা ইয়াসমিন

নাবিক ইউএসএ অর্থায়নে ও ডু বেটার ফর দি চিলড্রেন (ডিবিসি) বাস্তবায়নে নাবিক সেন্টার ফর হিউমিনিটি প্রকল্পের আওতায় এ ক্লিনিকে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এই ক্লিনিকটিতে সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকটিতে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক ডা. সাবিনা ইয়াসমিন। ক্লিনিকের যাবতীয় কার্যক্রম তদারকি করতে দেখা যায় ডিবিসি নির্বাহী পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলামকে। এছাড়া প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ওষুধ নিয়ে আসেন ক্লিনিকের ম্যানেজার সৈয়দ মাহমুদুল হাসান। রোগীদের নাম লিপিবদ্ধ ও চিকিৎসকের লিখে দেওয়া ওষুধ রোগীদের মধ্যে বিতরণ করেন প্রকল্প সহকারী সৈয়দা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং সৈয়দা সালসাবিলা। দেওয়ান বাড়ির বাসিন্দা স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ ও প্রবাসী দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল মোতাস্সির মঞ্জু সার্বক্ষণিক ক্লিনিকের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখেন।

বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয় সেবা নিতে আসা রোগীদের

মূলত দেওয়ান বাড়ির বাসিন্দা ইউএসএ টিউলিইন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল মজিদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে এ ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন।
 
ক্লিনিকটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, গ্রামের সুচিকিৎসার বাতিঘর এ ক্লিনিক। সবাই এখানে এসে সেবা পাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়ে অনেক উপকৃত হচ্ছেন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা। এছাড়া বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ায় গ্রামের খেটে খাওয়া অল্প আয়ের মানুষদের অনেক উপকার হচ্ছে। 

দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ ও দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল মোতাস্সির মঞ্জু বলেন, আমাদের ভাই মরহুম দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল বাছিত মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি তৃণমূল মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। মানুষ তাকে ভালবাসতেন। এক কথায় এ বাড়ির বাসিন্দাদের স্বপ্ন ছিল মানুষের পাশে থাকার। সেই থেকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে ড. দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল মজিদ প্রতিষ্ঠা করেন জহুরুন্নেছা-মতিন ক্লিনিক। এখানে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হয়। সেবা পেয়ে তৃণমূল লোকেরা উপকৃত হচ্ছেন।

চিকিৎসক দেখাতে আসা মানুষদের একাংশ

ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘গ্রামে এসে এ ক্লিনিকে রোগী সেবা দিতে পেরে অত্যন্ত ভালো লাগছে। রোগীরা উপকার পাচ্ছেন এটাই আমার বড় অর্জন।’ 

ডিবিসি নির্বাহী পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামে বসে রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। এ কাজে নিজেকে যুক্ত করতে পেরে গর্বিত মনে হয়।’

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়