ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১২ ১৪৩১

মেরাদিয়া হাট কাঁপাচ্ছে রাজাবাবু ও ভাগ্যরাজ

নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০২, ২৬ জুন ২০২৩   আপডেট: ২১:৩৪, ২৬ জুন ২০২৩
মেরাদিয়া হাট কাঁপাচ্ছে রাজাবাবু ও ভাগ্যরাজ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ঐতিহ্যবাহী মেরাদিয়া পশুর হাট জমে উঠেছে। গত রোববার (২৫ জুন) এ হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। হাজার হাজার পশু উঠেছে হাটটিতে। এ হাটে এসেছে রাজবাড়ীর ‘রাজাবাবু’ ও মাগুরার ‘ভাগ্যরাজ’। এখন পর্যন্ত মেরাদিয়া পশুর হাটে এ দুটি সবচেয়ে বড় ও দামি গরু বলে দাবি করছেন বিক্রেতা ও হাট কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৬ জুন) বিকেলে মেরাদিয়া পশুর হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

শনিবার (২৪ জুন) রাতে ভাগ্যরাজকে ও রোববার (২৫ জুন) রাজাবাবুকে মেরাদিয়া হাটে আনা হয়েছে। সুদর্শন ও বড় গরু দুটিকে দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন ক্রেতারাও। কেউ কেউ গরু দুটির সঙ্গে সেলফিও তুলছেন। গরু দুটি হাটের সবার নজর কেড়েছে। বিশালাকৃতির গরু দুটির চলন এবং আয়েশি খাবার খাওয়ার জন্যই তাদের এ নাম রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

রাজাবাবুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। কয়েকজন গরুটির দাম ৭-৮ লাখ টাকা বলেছেন। সন্তোষজনক দাম না হওয়ায় গরুটি বিক্রি করা হয়নি। ১ হাজার ৬২০ কেজি ওজনের রাজাবাবু প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার খাবার খায়। ১০ লাখ টাকার বেশি দাম পেলে গরুটি বিক্রি করতে রাজি আছেন এর মালিক।

এদিকে, ভাগ্যরাজের দাম হাঁকা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে কয়েকজন গরুটির দাম ৬-৭ লাখ টাকা দিতে চেয়েছেন। মালিক দাবি করছেন, গত দুই বছরে গরুটি যে খাবার খেয়েছে, তার সমান দামও বলা হয়নি। ১ হাজার ১০০ কেজি ওজনের ভাগ্যরাজের প্রতিদিন খাবার লাগে ১ হাজার টাকার। এ গরুও ১০ লাখের বেশি টাকায় বিক্রির চেষ্টা করছেন মালিক। 

রাজবাড়ীতে মো. রায়হানুল কবিরের নিজস্ব খামারে জন্ম নেয় ফ্রিজিয়ান জাতের রাজাবাবু। গরুটির বয়স ৩ বছর। মাগুরায় দুই ভাই মোহাম্মদ মোফাজ্জাল ও শরিফুল ইসলাম মিলে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন পশুর এ খামার। ২ বছর ৮ মাস আগে তাদের খামারে জন্ম নেয় ব্রাহামা জাতের ভাগ্যরাজ। 

গরু দুটির পরিচর্যাকারীরা জানান, মোটা-তাজা করতে বিশেষ কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবে খড়, ভুসি, গম, খৈল, কলা ও ঘাস খেয়ে থাকে রাজাবাবু ও ভাগ্যরাজ। এছাড়া, প্রতিদিন লালি ও খৈল দিয়ে ছানা তৈরি করে খেতে দেওয়া হয় গরুটিকে। 

রাজাবাবুর মালিক মো. রায়হানুল কবির রাইজিংবিডিকে বলেন, জন্মের পর থেকে খামারের কর্মীদের সহায়তায় গরুটির বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। মূলত, কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য করেই রাজাবাবুকে লালন-পালন করা হয়েছে। এর চেয়েও বড় গরু আমাদের খামারে আছে। গরুটিকে সবুজ ঘাস, খৈল, কুঁড়া ও বিশেষ ধরনের ভুসি খাওয়ানো হয়। গরুটির দাম চাচ্ছি ১৫ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত গরুটির দাম উঠেছে ৮ লাখ টাকা।

ভাগ্যরাজের মালিক মোহাম্মদ মোফাজ্জাল রাইজিংবিডিকে বলেন, আমার একটি ব্রাহামা গাভি আছে। এটা তার বাচ্চা। আমার গোয়ালেই ভাগ্যরাজ জন্মেছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুটি মেরাদিয়া হাটে এনেছি। আমরা গরুটির দাম চাচ্ছি ১৪ লাখ টাকা। প্রতিদিন ভাগ্যরাজের জন্য ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার খাবার লাগে। এখন পর্যন্ত গরুটির দাম উঠেছে ৬ লাখ টাকা। ক্রেতারা খুব কম দাম বলছেন, যা গরুটির দুই বছরের খাবারের দামের সমান নয়। এবার ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। বড় গরুর চাহিদা কম।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৯ জুন (বৃহস্পতিবার) দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় বসেছে ১৯টি কোরবানির পশুর হাট। ঢাকা মহানগরে এবার মোট ১৭টি অস্থায়ী এবং ২টি স্থায়ী পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় একটি স্থায়ীসহ ৯টি হাট বসেছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় একটি স্থায়ীসহ মোট ১০টি হাট বসেছে।

/রফিক/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়