ঢাকা     রোববার   ২৬ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪৩১

ডিপিডিসির অনিয়ম: নির্বাহী পরিচালক কি দুর্নীতির পক্ষে?

এসকে রেজা পারভেজ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২৮, ১২ মার্চ ২০২৪   আপডেট: ২০:৫৬, ১২ মার্চ ২০২৪
ডিপিডিসির অনিয়ম: নির্বাহী পরিচালক কি দুর্নীতির পক্ষে?

কিউ. এম. শফিকুল ইসলাম

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)’র ৩৬টি ডিভিশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, গ্রাহকসেবা নিশ্চিত, রাজস্ব আদায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ সব ধরনের কাজের দায়িত্ব যার; তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) কিউ. এম. শফিকুল ইসলাম। কিন্তু তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব কাজে সমন্বয়হীনতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ ব্যাপক ছন্দপতন ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা। এসব বিষয়সহ ডিপিডিসির একটি ডিভিশনের অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে রেগে যান তিনি, দেখা দেননি সাংবাদিকদের। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি দুর্নীতির পক্ষে ডিপিডিসির এই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা?

পড়ুন- ঘুষ কেলেঙ্কারির ‘উস্তাদ’ মুস্তাফিজের টার্গেট গ্রাহক হয়রানি  

সম্প্রতি ডিপিডিসির আলোচিত বনশ্রীর ডিভিশনের অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি, আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে সরেজমিনে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেন তিনি। বসতে বলে এক ঘণ্টা পরও মিটিংয়ের অজুহাতে দেখা করেননি।

একটি সূত্রের খবর, গণমাধ্যমে বনশ্রীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারির প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনা আড়াল করতে মাঠে নেমেছেন ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে গণমাধ্যম এড়িয়ে চলছেন শফিকুল ইসলামও।

শফিকুল ইসলাম কেন গণমাধ্যমকর্মী দেখা দেন না- এ সম্পর্কে ডিপিডিসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যে কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা উচিত। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ। এই পদে থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের মুঠোফোন রিসিভ না করা এবং দপ্তরেও সাক্ষাত না দেওয়া উচিত নয়। জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য বা বক্তব্য প্রকাশ পেলে সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, দুর্নীতি কমে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

পড়ুন- টাকা দিলে অনিয়মকে ‘নিয়ম বানান’ মোস্তাফিজ

ডিপিডিসি’র সূত্র বলছে, শুধু সাংবাদিকদের সঙ্গেই নয়, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ভালো করে কথা বলেন না তিনি। শোনেন না তাদের কথা। পুরো সিস্টেম এজন্য বেশ ভুগছে। আর সমন্বয়হীনতাও বেড়েছে কয়েক গুণ।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, নির্বাহী প্রকৌশলী (বনশ্রী) মোস্তাফিজুর রহমানকে রক্ষা করতে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উঠেপড়ে লেগেছে। প্রয়োজনে মোস্তাফিজুরের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য আনতে ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ে যান একাধিক সাংবাদকর্মী। নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) কিউ. এম. শফিকুল ইসলামের রুমে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সাক্ষাত না পেয়ে ফিরে আসেন তারা। নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল)’র পিএ রেদওয়ান বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে চান না স্যার। আজকে দেখা করবেন না তিনি।’

অপর একজন সংবাদকর্মী বলেন, ‘বনশ্রীর নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুষ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে এসেছিলাম। কিন্তু বনশ্রীর ঘটনা শুনে পরিচালক (টেকনিক্যাল) আমার সঙ্গে কথা বলেননি। আমি দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কথা বলতে পারিনি। প্রশ্ন হলো, একজন গণমাধ্যমকর্মী হয়েও যদি অপেক্ষা করার পরেও কথা বলতে না পারি, তাহলে সাধারণ মানুষের কতটা হয়রানি হতে হয়!’

ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল)’র পিএ আরও বলেন, ‘স্যার যেভাবে বলতে বলেছেন, এর বাইরে আমার বলার সুযোগ নেই। স্যার পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, বনশ্রীর বিষয় তিনি কথা বলতে চান না।’

ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) কিউ. এম. শফিকুল ইসলাম দেখা না করার কারণ জানতে বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যস্ত ছিলাম, তাই কথা বলতে পারিনি। নানা বিষয় নিয়ে একটু ব্যস্ত, পরে এক সময় কথা বলবো।’ গণমাধ্যমে কথা বলা আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কি না- জানতে চাইলে কোনও উত্তর দেননি তিনি।

পড়ুন- ডিপিডিসিতে চক্রান্তকারীরা থেমে নেই!

এদিকে, বনশ্রীতে বিপুল টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়া গ্রাহক ভুক্তভোগী শীতল প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘প্রয়োজনে আমি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে লিখিতভাবে অভিযোগ করবো। টাকা দিয়ে আমি বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এর পেছনে বড় রাঘববোয়ালরা জড়িত থাকতে পারে।’

ঢাকা/এনএইচ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়