Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৯ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৮ ||  ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩৮, ২৮ মে ২০২১   আপডেট: ২১:০৫, ২৮ মে ২০২১
শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়

স্কোর:  বাংলাদেশ ৪২ ওভার ৩ বলে ১৮৯/১০ (মোস্তাফিজ ০*)  শ্রীলঙ্কা ৫০ ওভারে ২৮৬/৬ (রামেশ মেন্ডিস ৮*, ধনাঞ্জয়া ৫৫*)

২৩৭ রান করে ম্যান অব দ্য সিরিজ মুশফিক

প্রথম ম্যাচে ৮৪, দ্বিতীয় ম্যাচে ১২৫ ও তৃতীয় ম্যাচে ২৮ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরষ্কার পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ২৩৭ রান। প্রথম দুই ম্যাচেই ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরষ্কার পান তিনি।

ম্যান অব দ্যা ম্যাচ

ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরষ্কার ওঠে দুশমন্ত চামিরার হাতে। তিনি মাত্র ৯ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট।

শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৯৭ রানে হারে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৮৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১৮৯ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। বিব্রতকর ব্যাটিংয়ে তামিমের দল ২০০ রানের আগেই অলআউট হয়। ৭৪১ দিন পর মোসাদ্দেক হোসেনের  ফিফটি (৫১) ও শেষ দিকে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ (৬৩ বলে ৫৩)। ইনিংসের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। এ ছাড়া বলার মতো রান আসেনি কারো ব্যাট থেকে।

আগের দুই  ম্যাচে ত্রাণ কর্তা হয়ে দাঁড়ানো মুশফিক এই ম্যাচে আউট হয়েছেন ২৮ করে। এক দুশমন্ত চামিরার কাছে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। তিনি একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট। ৯ ওভারে দিইয়েছেন মাত্র ১৬ রান।

বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ৩৩ ও দ্বিতীয় ম্যাচে ১০৩ রানে জেতে। প্রথমবারের মতো সিরিজে হারিয়ে ইতিহাস গড়া হলেও ধবলধোলাই করে আরেকটি ইতিহাস লেখা হলো না।

চামিরায় তছনছ বাংলাদেশ

দুশমন্ত চামিরায় তছনছ বাংলাদেশের ব্যাটিং। একই ওভারে ফেরালেন মিরাজ-তাসকিনকে। এর আগে শুরুতেই নাইম-সাকিব-তামিমকে ফেরান। এখন পর্যন্ত ৮ ওভারে ১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। শুরুতে বাংলাদেশকে ভোগানোর পর শেষ দিকেও পথের কাঁটা হইয়ে দাঁড়িয়েছে। মিরাজকে ০ রানে ফেরানোর পর তাসকিনকেও ০ রানে ফেরান বোল্ড করে। চামিরার এটি ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স।

১৭ বলে ১৬ করে আউট আফিফ

হাসারাঙ্গার বলে সুইপ করতে চেয়েছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। ব্যাটে বল ঠিক মতো লাগেনি। চলে যায় শর্ট ফাইন লেগে দাঁড়ানো দুশমন্ত চামিরার হাতে। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ১৬ রান। এই আউটে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে গড়া ৩৩ রানের জুটি ভেঙে যায়।

৭৪১ দিন পর ফিফটি করেই আউট মোসাদ্দেক

ঠিক ৭৪১ দিন পর হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৬৯ বলে ৩টি চার ও ১টি ছয়ে হাফসেঞ্চুরির দেখা পান। এরপর ১ রান যোগ করেই ফিরেন সাজঘরে।  সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৭ মে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ৫২ রান করেছিলেন। এরপর ১০ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। সর্বোচ্চ করেন ৩৫ রান।

১৫৭ বলে বাংলাদেশের ১০০

শুরুতেই তিন উইকেট হারানোর পর মুশফিক-মোসাদ্দেকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। মুশফিক আউট হলে ভাঙে এই জুটি দুজনের জুটি থেকে আসে ৪৭ রান। প্রথম ১০০ রান করতে বাংলাদেশের লাগে ১৫৭ বল ও ১১৪ মিনিট। উইকেট হারায় ৪টি।

ফিরলেন মুশফিকও

দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর মুশফিক-মোসাদ্দেক ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। দুজনের চতুর্থ উইকেটের জুটি থেকে আসে ৪৭ রান। মুশফিক আউট হওয়াতে এখানেই ভেঙে যায় জুটি। তার ব্যাট থেকে আসে ৫৪ বলে ২৮ রান। অভিষিক্ত বোলার রামেশ মেন্ডিসের শিকার হয়ে ফেরেন সাজঘরে। উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন বাউন্ডারি লাইনের কাছে; ধনাঞ্জয়া ডি সিলভ্যার হাতে। রামেশের এটি অভিষেক উইকেট।

মুশফিক-মোসাদ্দেকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

২৮ রানে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ। একেএকে ফিরে গেছেন মোহাম্মদ নাইম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। এর পরেই ক্রিজে থাকা মুশফিকুর রহিম নতুন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর আগের দুই ম্যাচে বাংলাদেশকে বাঁচিয়েছিলেন (৮৪, ১২৫) মুশফিক। এবারও কী পারবেন?

তামিমকেও হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ

নাইম-সাকিবের পর ফিরলেন তামিম ইকবালও। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ। দুশমন্ত চামিরার স্লোয়ার বল তামিমের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে ডিকভেলার হাতে যায়। মাঠের আম্পায়ার আউট দিলেও তামিম নেন রিভিউ। শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেননি। আউট হয়ে ফিরলেন সাজঘরে। এর আগে প্রথম ম্যাচে ৫২ ও দ্বিতীয় ম্যাচে করেন ১৩ রান।

আবারও ব্যর্থ সাকিব, ফিরলেন ৪ রানে

প্রথম ম্যাচে ১৫, দ্বিতীয় ম্যাচে ০ রানের পর আজ তৃতীয় ম্যাচে সাকিব আল হাসান ফিরলেন ৪ রানে। ব্যাট হাতে সাকিব যেনো নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেটে সময় কাটিয়েও পাচ্ছেন না রান। দুশমন্ত চামিরার শর্ট বলে স্কয়ার লেগে খেলেছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু ব্যাটে বলে ঠিকভাবে হয়নি। ওখানে থাকা ফিল্ডার রামেশ মেন্ডিস দারুণ দক্ষতায় বল তালুবন্দি করেন। সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ৪ রান।

১ রানে আউট নাইম

লিটন দাসের পরিবর্তে খেলতে নেমে ১ রানে সাজঘরে ফিরলেন মোহাম্মদ নাইম শেখ। নিজের দ্বিতীয় বলে দুশমন্ত চামিরার অফ সাইডের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ধরা পড়েন স্লিপে। অভিষেকের পর এটি নাঈমের দ্বিতীয় ম্যাচ। ওই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি তিনি। এর আগে দুই ম্যাচে লিটন দাস্র ব্যাট থেকে আসে ০ ও ২৫ রান। এরপরেই দল থেকে বাদ পড়েন লিটন; ডাক পড়ে নাইমের। তিনিও প্রমাণ করতে পারলেন না নিজেকে।

২৮৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা

বাংলাদেশকে ২৮৭ রানের চ্যানেলঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। শুরু থেকেই দারুণ খেলে শ্রীলঙ্কা। প্রথম উইকেটের জুটিতে তুলে ফেলে ৮২ রান। তাসকিনের জোড়া আঘাতেও ভেঙে পড়েনি দল। কুশল পেরেরার সেঞ্চুরির সঙ্গে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার ৫৫ রানে ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রান করে শ্রীলঙ্কা। তিনটি অর্ধশতাধিক রানের জুটিতে বড় রান করতে পারে শ্রীলঙ্কা। অবশ্য তিনবার সেঞ্চুরিয়ান কুশল পেরেরাকে জীবন না দিলে গল্পটা ভিন্ন হতো। বাংলাদেশের হয়ে দারুণ বোলিং করেন তাসকিন। তিনি ৯ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট।

তাসকিনের চতুর্থ শিকার হাসারাঙ্গা

ভানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ১৮ রানে মিরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান তাসকিন। এটি তাসকিনের চতুর্থ শিকার।

২০৯ মিনিটে শ্রীলঙ্কার ২৫০

টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে দারুণ শুরু করে শ্রীলঙ্কা। পেরেরার সেঞ্চুরিতে ভর করে সফরকারীরা আছে চালকের আসনে। এর মধ্যে ২০৯ মিনিটে ২৭৩ বল খেলে ২৫০ রান করে দলটি।

শরিফুলের থ্রোতে সাজঘরে ডিকভেলা

সাকিবের বলে মিডউইকেটে ঠেলে দিয়ে রান নিতে চেয়েছিলেন নিরোশান ডিকভেলা। কিন্তু ওখানে থাকা ফিল্ডার শরিফুল ইসলামের সরাসরি থ্রোতে আর হয়ে ওঠেনি রান নেওয়া। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ৭ রান।

চতুর্থবারে ধরা পড়লেন সেঞ্চুরিয়ান পেরেরা

তিন তিনবার জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। অবশেষে চতুর্থবারে গিয়ে শরিফুল ইসলামের বলে ধরা পড়লেন মাহমুদউল্লাহর হাতে। তার ব্যাট থেকে আসে ১২২ বলে ১২০ রান। ইনিংসটি সাজানো ছিল ১১টি চার ও ১টি ছয়ের মারে। 

৩৬ ওভারেই শ্রীলঙ্কার ২০০ পার

ইনিংসের প্রথম ওভার থেকে হাত খুলে খেলতে থাকা শ্রীলঙ্কা ২০০ রানের ঘর স্পর্শ করেছে ৩৬ ওভারেই। তিনটি অর্ধশতাধিক রানের জুটিতে এই রান করে সফরকারীরা। এরমধ্যে কুশল পেরেরা সেঞ্চুরি করে ক্রিজে আছেন। পেরেরা-গুনাথিলাকার প্রথম উইকেটের জুটিতে ৮২, পেরেরা-মেন্ডিস তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ৬৯ ও পেরেরা-ধনাঞ্জয়ার চতুর্থ উইকেটে ৬৫ রানের জুটিতে দলকে নেন চালকের আসনে।

তিন তিনবার জীবন পেয়ে পেরেরার সেঞ্চুরি

এক সাকিবের বলে দুইবারসহ তিন তিনবার জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন কুশল পেরেরা। প্রথম ৬৬ রানে মোস্তাফিজ মিস করেন শর্ট থার্ডম্যানে। এরপর ৭৯ রানের সময় আফিফ লং অনে সহজ ক্যাচ ফেলেন। তৃতীয়বার মোস্তাফিজের বলে ৯৯ রানে মিডঅনে মাহমুদউল্লাহ মিস করেন পেরেরার ক্যাচ। ৯৯ বলে ১০টি চার ও ১টি ছয়ে সেঞ্চুরি হাঁকান লঙ্কান অধিনায়ক।

বড় রানের দিকে ছুটছে শ্রীলঙ্কা

অনভিজ্ঞ একটি দলের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তৃতীয় ম্যাচে নিজেকে ফিরে পেলেন পেরেরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে নেমে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান। তবে অধিনায়ক হিসেবে এটাই তার প্রথম শতক।  অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যানরা তাসকিন আহমেদের শিকার হলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিচ্ছেন পেরেরা।

আবারও তাসকিনের আঘাত

তৃতীয়বারের মতো লঙ্কান ব্যাটিংয়ে আঘাত হানলেন তাসকিন। এক ওভারে জোড়া আঘাতের পর আবারও উইকেট নিয়ে দলকে এনে দিলেন স্বস্তি। এবার ফেরালেন কুশল মেন্ডিসকে। অফ স্টাম্পে করা লেন্থ বল মেন্ডিস তুলে দেন মিড অফে দাঁড়ানো তামিমের হাতে। আউট হওয়ার আগে মেন্ডিসের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ বলে ২২ রান। তার আউটের মাধ্যমে ভাঙে তৃতীয় উইকেটে ৬৯ রানের জুটি।

সাকিবের বলে পেরেরার দুই জীবন

এক সাকিবের বলে দুইবার জীবন পেয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক কুশল পেরেরা। প্রথম ৬৬ রানে মোস্তাফিজ মিস করেন শর্ট থার্ডম্যানে। এরপর ৭৯ রানের সময় আফিফ লং অনে সহজ ক্যাচ ফেলেন। দুই জীবন পেয়ে পেরেরা এগোচ্ছেন সেঞ্চুরির পথে।

দুই কুশলে শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ 

দারুণ শুরুর পর তাসকিনের এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ক্রিজে থাকা কুশল পেরেরা নতুন ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে উলটো প্রতিরোধ গড়ে। দুজনে তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ইতিমধ্যে ৫০ রানের ঘর পার করে ফেলেছেন।

দ্রুত ফিফটি তুলে নিলেন পেরেরা

ইনিংসের শুরু থেকে সাবলীল লঙ্কান অধিনায়ক কুশল পেরেরা। তার দুই সতীর্থ সাজঘরে ফিরলেও তিনি আছেন অবিচল। মাত্র ৪৪ বলে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের ১৫তম হাফসেঞ্চুরি। ৮টি চারে লঙ্কান অধিনায়কের ইনিংসটি সাজানো ছিল। তার ব্যাটিংয়ে ভর করে মাত্র ১৬ ওভারে শ্রীলঙ্কা দেখা পায় দলীয় ১০০ রানের।

ওপেনিং জুটির তাণ্ডব থামিয়ে তাসকিনের দ্বিতীয় আঘাত

সাইফউদ্দিনের কনকাশন সাব হিসেবে তাসকিন আহমেদ আগের ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। এবার তার বলেই স্বস্তি ফিরলো। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দানুশকা গুনাথিলাকাকে বোল্ড করে ৮২ রানের জুটি ভেঙেছেন এই ডানহাতি পেসার। ৩৩ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৩৯ রান করেন লঙ্কান ওপেনার। ওই ওভারেই পাথুম নিশানকাকে পেছনে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানান তাসকিন। চার বল খেলেও রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান।

শরিফুল-মোসাদ্দেকের ওপর চড়াও দুই ওপেনার

টস জিতে তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট করতে নেমে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন কুশল পেরেরা। শরিফুল ইসলাম তাতে পড়েছেন বিপদে। তার প্রথম দুই ওভারে চারটি চার মেরেছে লঙ্কান দুই ওপেনার পেরেরা ও দানুশকা গুনাথিলাকা। তার জায়গায় পরে বল করতে নেমে মোসাদ্দেক হোসেনও সুবিধা করতে পারেননি। তিনিও তার প্রথম দুই ওভারে দুটি করে চার হজম করেন।

বোলিংয়ে বাংলাদেশ, লিটন বাদ

ব্যাট হাতে ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি লিটন দাস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ০ ও দ্বিতীয় ম্যাচে করেন ২৫ রান। এরপরই তিনি বাদ পড়েন একাদশ থেকে। দলে আসেন নাঈম শেখ। সর্বশেষ ৯ ম্যাচে লিটনের মাত্র একটি হাফসেঞ্চুরি। আর লিটন সর্বশেষ ৫  ওয়ানডেতে রান করেন ৬৫। সর্বোচ্চ ২৫।

একাদশে দুই পরিবর্তন

বাংলাদেশ একাদশে দুটি পরিবর্তন ঘটেছে। জায়গা হারিয়েছেন লিটন দাস। তার পরিবর্তে এসেছেন নাঈম শেখ।  আর মাথায় আঘাত পাওয়া সাইফউদ্দিনের পরিবর্তে খেলছেন তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশ: তামিম ইকবাল, নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা দলে বড় পরিবর্তন

চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে শ্রীলঙ্কা। বাদ পড়েছেন, লাকশান সান্দাকান, ইসিরু উদানা, আশেন বান্দারা, দাসুন শানাকা। অভিষেক হচ্ছে তিনজন ক্রিকেটারের। তারা হলেন রামেশ মেন্ডিস, চামিকা করুণারত্নে বিনুরা ফারনান্দো।

শ্রীলঙ্কা: কুশল পেরেরা (অধিনায়ক), কুশল মেন্ডিস, নিরোশান ডিকভেলা (উইকেটরক্ষক), দানুশকা গুনাথিকালাকা, ধনঞ্জয় ডি সিলভা, পাথুম নিশাঙ্কা, রামেশ মেন্ডিস, চামিকা কারুণরত্নে, ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুশমন্থ চামিরা ও বিনুরা ফার্নান্দো।

টস: টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ। সাড়ে ১২টায় টস হওয়ার কথা থাকলেও টস হয়েছে ১২টা ৪১ মিনিটে।

তৃতীয় ওয়ানডের টসে বিলম্ব

শুক্রবার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ১টায় খেলাটি শুরু হচ্ছে। সাড়ে ১২টায় টস হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে হয়নি। হঠাৎ করে ঝড়ো বাতাস আসায় পিচ ঢেকে রাখা হয়েছিল কাভারে। এখন আস্তে আস্তে আবার সরানো হচ্ছে।

কী বলছে আবহাওয়া রিপোর্ট

মিরপুরের আকাশে এখন কালোমেঘ।  ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দ্বিতীয় ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও হানা দিতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া পূর্বাভাসঅনুযায়ী দুপুর থেকে হালকা বৃষ্টির সঙ্গে থাকতে পারে ঝড়োবাতাস। তবে বিকেল থেক ধীরে ধীরে আকাশ পরিস্কার হওয়ার কথা বলা হয়েছে আবহাওয়া পূর্বাভাসে। অর্থ্যাৎ ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার মতো ঝড়-বৃষ্টির কোনো আভাস নেই। নিঃসন্দেহে স্বাগতিক শিবিরের জন্য স্বস্তির খবর।

সাকিবের নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ম্যাচ

এই ম্যাচ সাকিব আল হাসানের জন্য হতে পারে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ম্যাচ। আরেকটি উইকেট পেলেই ছাড়িয়ে যাবেন মাশরাফি মুর্তজাকে। আর দুটি উইকেট পেলেই সবমিলিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে হবেন সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক।

সুপার লিগের বদৌলতে সমান গুরুত্ব

শুধু সিরিজ জয়ের সাফল্যই প্রাপ্তি নয়, বাংলাদেশ উঠে এসেছে বিশ্বকাপ সুপার লিগের শীর্ষে। সর্বোচ্চ ৫০ পয়েন্ট নিয়ে এখন সবার ওপরে। এই ম্যাচ জিতলে এগিয়ে যাবে আরও একধাপ। সিরিজ হিসেবে ম্যাচটির কোনও গুরুত্ব না থাকলেও সুপার লিগের বদৌলতে হেলা-ফেলা করার নয়।

তাইতো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন ম্যাচের গুরুত্বের কথা, ‘অবশ্যই প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু বিশ্বকাপে বাছাইয়ের একটা বিষয় থাকে, তো প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং যেহেতু আরেকটা সুযোগ আছে ১০ পয়েন্ট পাওয়ার, তো কেন পেতে চাইবো না?’

নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সটা দিতে চাওয়ার কথা জানান ‘সাইলেন্ট কিলার’ মাহমুদউল্লাহ, ‘আমি যা বললাম (গত দুই ম্যাচে) আমরা আমাদের সেরা পারফরম্যান্সটা করতে পারিনি। তো আমরা ওটাই দেওয়ার ও ম্যাচটা জিতে ১০ পয়েন্ট নেওয়ার চেষ্ট করবো।‘

আরেকটি ইতিহাসের হাতছানি

টানা দুই ম্যাচে জিতে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।  এবার পালা ১৫তম হোয়াইটওয়াশের। বাংলাদেশ এর আগে ১৪ বার কোনও প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছে। এর মধ্যে নিউ জিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুবার করে এই লজ্জা দেয় তারা। এছাড়া পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একবার করে হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে ঘরের মাঠে ১১টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে দশম জয় পেলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

ঢাকা/রিয়াদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়