ঢাকা     শনিবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১২ ১৪৩০

রাঙ্গামাটির দূর পাহাড় সাজেকের বাঁকে (প্রথম পর্ব)

মো. জাহিদ হাসান  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১৫, ২১ অক্টোবর ২০২৩   আপডেট: ২২:৪৫, ২১ অক্টোবর ২০২৩
রাঙ্গামাটির দূর পাহাড় সাজেকের বাঁকে (প্রথম পর্ব)

কাজের চাপে নাভিশ্বাস উঠে হাঁপিয়ে পড়লে দমবন্ধ পরিস্থিতিতে নিজেকে একটু রিচার্জ করে স্বস্তির নিশ্বাস নিতে ইচ্ছে হয়। প্রকৃতির খুব কাছে গিয়ে এর বিশালত্ব, নীরবতা আর অতুলনীয় সৌন্দর্যের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে; প্রফুল্লতা আর স্নিগ্ধতায় ভরিয়ে তুলতে মন চাই। প্রতি বছর আমাদের অফিস থেকে ভ্রমণের আয়োজন হয়। এবারের ভেন্যু রাঙ্গামাটির সাজেক। 

সাজেকের প্রকৃতি বছরজুড়ে ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করলেও, বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তে সাজেকের চূড়ার মেঘের খেলা বেশি মুগ্ধ করে। আমরা শরৎ’র মাঝ প্রান্তে সাজেকের বাঁকে রওনা হওয়ার জন্য ওয়ালটন কপোরেট অফিসের ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগ হতে ১২ থেকে ১৪ জনের একটি দল পরিকল্পনা স্থির করে রেখেছিলাম।  

দলনেতা ও আমাদের বিভাগীয় প্রধান ইয়াসিন আলী আস্থাভাজন এবং শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হওয়ায় অবশেষে ভ্রমণকারীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৭১ জনের বিশাল বহরে। ভ্রমণকারীর বহরের কথা ভাবতেই মনে হচ্ছে— শহরের ব্যস্তময় যান্ত্রিক জীবনকে ছুটি দিয়ে প্রকৃতির একটু প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে মানুষ কতটা অস্থির-উদগ্রীব হয়ে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। সুযোগ পেলেই মানুষ সবুজের সমারোহে প্রকৃতির মাঝে নিজেকে মেলে ধরতে চায়। বিশেষ করে তীব্র তাপদাহেও ঠান্ডা বাতাসের পরশ, ভিন্ন জাতের পাহাড়ি মানুষ, হঠাৎ বৃষ্টি, হঠাৎ রোদ— এমন প্রাকৃতিক রূপ-সৌন্দর্যে ঘেরা দৃশ্যপট দেখার নেশা জাগলে তো কথাই নেই। 

ভ্রমণের প্রত্যাশিত দিন চলে এসেছে। ২৬ অক্টোবর রাত ১১টায় সবার সমবেত হওয়ার কথা ঢাকার আরামবাগের সেন্টমার্টিন বাস কাউন্টারে। সাজেক ভ্রমণের ঠিক পূর্ববর্তী সময়ে এক উত্তেজনাময় মুহূর্তের সূচনা হয়েছে। সাজেকের মেঘের গালিচায় ভাসার স্বপ্ন নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে কেউ পাঠাও, উবার  কেউবা নিজস্ব পরিবহনে এসে বাস কাউন্টারে সমবেত হচ্ছেন। দীর্ঘ বিরতিতে সহকর্মীদের এক পরিবারের সাথে অন্য পরিবারের দেখা হলেও এমন আন্তরিকভাবে আলিঙ্গন বা করমর্দন করছেন যেন দুদিন আগেই একে অপরের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। বাস ছাড়ার কাছাকাছি সময় হয়ে গেলেও যানজটের কারণে কয়েকজন কাউন্টারে এসে পৌঁছাতে পারেননি। যার কারণে অনেকের মধ্যে চলছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। যারা আসেননি তারা বাস ছাড়ার আগে এসে পৌঁছাতে পারবে তো? 

এ যেন ‘দারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমার দৃশ্যমান প্রতিচ্ছায়ার অনুভূতি পুরোপুরি বাস্তবে ভর করেছে আমাদের সাজেক ভ্রমণের উপর। সত্যি, এ এক অন্য রকম অনুভূতি, অন্য রকম দৃশ্যপট! বাস স্টেশনে ভ্রমণকারীদের সবাই উত্তেজনায় টগবগে হয়ে আছে, কখন শুরু হবে যাত্রা। 

যাত্রা আরম্ভ হওয়ার পূর্বে ভ্রমণপিপাসু সবার চোখে-মুখে গভীর প্রশান্তি ও শান্তিপূর্ণ আবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকে উদগ্রীব হয়ে মুখিয়ে আছেন, কখন অপরূপা সাজেকে মেঘের সংস্পর্শে গিয়ে পাখির মতো ডানা মেলে ক্লান্তির অবসাদ কাটাতে পারবেন। 


 
ভ্রমণের জন্য আরামবাগ বাস কাউন্টারে অপেক্ষমাণ দলের একাংশ 

অবশেষে, পাহাড়ি উপজাতিদের জীবন প্রবাহের ছোঁয়া পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা মনে জাগিয়ে আর প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ৩টি বাসে শুরু হলো আমাদের সাজেক যাত্রা। ঢাকা শহরের রাস্তার আলোর আভা অতিক্রম করে রাত্রির নিস্তব্ধতায় দুরন্ত গতিতে ছুটে চলছে বাস। জানালার পর্দা সরিয়ে উপরের দিকে তাকাতেই আকাশের বুকে পূর্ণ চাঁদ ঝুলে জ্বলজ্বল করতে দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল। মনে মনে ভাবছি, সাজেকে দিনে সূর্যের আলোতে প্রকৃতি দেখব আর রাতেও জোছনার নীলাভ আলোয় দেখা যাবে নিচের পাহাড়ি গাছপালা আর মেঘের লুকোচুরি। ধীরে ধীরে রাত্রির অন্ধকার ঘন হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাসের সীটের মধ্যেই নিদ্রাভিভূত হয়ে পড়ল সকল যাত্রী। যাত্রা পথে আমিও মানুষের কল্পনায় যতদূর যাওয়া যায় তার চেয়েও অধিক পথ অতিক্রম করে, সাজেকের মোহময় প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের ভাবনায় মগ্ন হয়ে ধীরে ধীরে ঘুমের ঘরে ঢলে পড়লাম। 

সকাল ৭টা। ভোরের আভা কেটে গেছে। বাস এসে থামল খাগড়াছড়ির এফএনএফ রেস্টুরেন্টের সামনে। আকাশে তেমন মেঘের ঘনঘটা নেই। দীর্ঘ যাত্রার পর এসি বাসের বন্ধ দরজা খুলে পাহাড়ি বাতাসের ছোঁয়ায় যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। নাস্তার জন্য রেস্টুরেন্টে অপেক্ষমাণ সব ভ্রমণকারীর মনে উৎসবের ধারা ও উৎফুল্লতা বিরাজ করছে। সবার ঠোঁটে হাসি গড়াগড়ি খাচ্ছে, একে অপরের সাথে বিভিন্ন রকম দুষ্টুমি ও গল্পে মগ্ন। বয়সভেদে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গেছেন ভ্রমণকারীরা। এক মুহূর্তের জন্যও কারও কথার বিরাম ঘটছে না। মনে হচ্ছে কোনও হাসি—তামাশার ফোয়ারা হতে কথা ধার করে একে অপরের সাথে কথা বলার উৎসবে মেতে উঠেছেন।

হঠাৎ-ই মেঘের সাথে মেঘের ঘর্ষণের আওয়াজ বজ্রপাতের ঝিলিকের সাথে কানে ভেসে আসছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অঝোরে শুরু হলো বৃষ্টি। সূর্যের আলোর সাথে মাখামাখি হয়ে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ওপর হতে নিচের দিকে মুক্তোর দানার মতো গড়িয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে অজানা আশঙ্কায় নিপতিত সবার সাজেকের বুকে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন। একজন বাহিরের বৃষ্টিস্নাত ঝড়ো হাওয়ার দিকে তাকিয়ে হতাশার সুরে বলল— ‘সাজেক পৌঁছানোর পর হয়ত আগামী দুদিন আমাদের হোটেলে অবস্থান করেই কাটিয়ে দিতে হবে’। 


 
ভ্রমণকালীন আড্ডায় মশগুল জুনিয়র তরুণ-তরুণীর দল 

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আমেজের সাথে মেতে উঠে কয়েক জোড়া কপোত-কপোতী আড্ডা দিচ্ছে আর মুঠোয় মুঠোয় সময় পার করছে। সবাই হাসিখুশি নিজেদের উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে, তারাই যেন সবচেয়ে সেরা আর সুখী দম্পতি। বিশেষ করে স্ত্রীরা তাদের স্বামীর খুব প্রশংসা করছেন। পাশ থেকে একজন দুষ্টুমি করে এক ভদ্র মহিলার নিকট জানতে চাইলো— ‘ভাবি আপনি আর খোকা ভাই গতরাত থেকে একদম চুম্বকের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে আছেন। আপনাদের মধুর সম্পর্কের গোপন রহস্য জানতে চাই?’ ভ্রমণের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ খোকা ভাইয়ের স্ত্রী ভাব-ভঙ্গিতে কোনও প্রকার সংকোচ বা সংশয় না রেখে স্বামীর প্রশংসা করে বলে ফেললেন, ‘ও খুব ভালো। একটা উদাহরণ দিলেই বুঝতে পারবেন’। তারপর দ্বিধা না রেখে বললেন—  ‘বিবাহিত জীবনের ২৪ বছর ধরে ও আমার সব কাপড়-চোপড় নিজেই কেঁচে দেয়’। প্রশংসা করে আরও বললেন, ‘ও যেমন শান্তশিষ্ট, তেমন ভদ্র। আমরা খুব সুখী পরিবার। ঈশ্বরের আশীর্বাদ না থাকলে এমন পুরুষ জীবন সঙ্গী হিসেবে পাওয়া যায় না!’ তারপর মজার সুরে বললেন— ‘স্বামী গৃহপালিত না হয়ে যদি উড়নচণ্ডী হয়, তাহলে সংসার করা খুব কঠিন’। চট করে একটা অস্বস্তি বয়োজ্যেষ্ঠ খোকাকে বিব্রত করে তুলল। ভদ্রলোক নিজের প্রশংসা শুনে ঘাড়টা একটু বাঁকিয়ে একবার নিজের স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। তারপর ধীরে ধীরে মাথাটা নিচের দিকে নামিয়ে চুপ করে রইল। কথা শুনে পাশ থেকে কয়েকজন হাসির মধ্যে বিদ্রূপের বিদ্যুৎ-ঝিলিক নিয়ে হাসতে থাকল; মনে হচ্ছে দ্বিধা আর সংকোচের পাকে ডুবে যাচ্ছেন খোকা ভাই। লজ্জার ভাবটা কাটিয়ে নিতে নিজেকে সামলে নিয়ে হাসতে হাসতে বাক চাতুর্যের মাধ্যমে বললেন— ‘সংসারের শান্তির বাতায়নের যারা ‘‘তাত্ত্বিক গুরু’’ তারা সহধর্মিণীকে সব কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সংসারজীবনকে সুন্দর করে তোলেন! দাম্পত্য জীবনে সঙ্গীকে তুচ্ছ, ছোটখাটো সাহায্যগুলো অনেক সময় সংসারের বড় বড় ঝগড়া-বিবাদ বা বিপর্যয়গুলো সহজে এড়িয়ে যেতে সাহায্য করে থাকে। আর অশান্তি নামক ঝড় কখনো দাম্পত্য জীবনে আঘাত হানতে পারে না। সংসার জীবনে সুখী হওয়ার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সবই করা উচিত একজন দায়িত্ববান স্বামীর’। 


 
মেঘের আভা গায়ে মেখে ওরা হয়ে উঠেছে প্রকৃতিরই অংশ

যাত্রাবিরতির সময় শেষ হয়ে এলো আর আমাদের আড্ডাও রং হারিয়ে স্তিমিত হয়ে আসলো। সকালের নাস্তা সেরে আমরা খাবার হোটেলের সামনে রাখা চান্দের গাড়িতে ৮টা ৩০ মিনিটে বসে পড়েছি খাগড়াছড়ি হতে সাজেক যাওয়ার উদ্দেশ্যে। এতক্ষণে বৃষ্টির টাপুরটুপুর আওয়াজ থেমে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে  ভ্যাপসা গরম শুরু হয়েছে। আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন দেখে মনে হচ্ছে— তিনটা জিনিসকে কখনো বিশ্বাস করতে হয় না ‘Weather’, ‘Women’ আর ‘Animal’, কারণ এরা যে কোনো মুহূর্তে নিজের আচরণকে পরিবর্তন করার সক্ষমতা রাখে। 

চান্দের গাড়ি ২৮ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ঘন পাহাড় ও জঙ্গলের কাছাকাছি বাগাইহাট এসে থামল। তারপর একটা মাঠে প্রবেশ করে অপেক্ষা করতে থাকল সেনাবাহিনী চেকপোস্টে এন্ট্রির জন্য। জানা গেল, উপজাতিদের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ-সহ অন্যান্য কয়েকটি গ্রুপ পাহাড়ি পথে চলাচলকারী পরিবহন ও পণ্য হতে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। ওরা মাঝে মাঝে বাঙালিদের ধরে নিয়ে ভয়ঙ্কর ত্রাস সৃষ্টি করে পাহাড়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। যার কারণে সেনাবাহিনীর প্রটেকশন ছাড়া সাজেকে যাওয়ার অনুমতি নেই। উপজাতিদের বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের হাত থেকে রক্ষার জন্য ১০টার সময় সেনাবাহিনী এসকোর্ট করে ভ্রমণকারীদের গাড়িগুলো সাজেক পৌঁছে দেয়। আবার বিকেলে এসকোর্ট করে নিয়ে আসে। 

বাগাইহাট হতে চান্দের গাড়ি এগিয়ে চলেছে সাজেকের উঁচু—নিচু ও আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় ঠিক বুকে হেঁটে চলা সাপের মতো। সূর্য মাথার উপর তপ্ত তাপদাহ ঢেলে দিলেও দুপাশ থেকে ছুটে আসা পাহাড়ি দামাল হাওয়া অন্য রকম একটা শীতলতায় শরীর ছুঁয়ে দিচ্ছে। দুপুরের তপ্ত রোদের সোনালী আলো দু’পাশের পাহাড়ি গাছের উপর পড়ে ধাতব মুদ্রার মতো ঝিকমিক করে উঠছে পাতা। চলতি পথে পাহাড়ের ঢালুতে ধান, হলুদ, কলা আর অন্যান্য ফসল নিয়ে  সম্বলিতভাবে জুমচাষের দৃশ্য চোখে পড়ছে। কিছুক্ষণ পর পর চোখে পড়ছে রাস্তার দুই পাশের গিরিখাত। নিচের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে সুউচ্চ রাস্তার নিচের দিকে থাকা পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। মাঝেমধ্যে চোখে পড়ছে পাহাড়ের ঢালে ঢালে আদিবাসীদের বাঁশের খুপরি ঘর। জঙ্গলের ভেতরের কুঁড়ে ঘর থেকে উপজাতিদের সদ্য হাঁটতে শেখা, কথা বলা ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাগুলো রাস্তায় এসে ভ্রমণকারীদের চলতি গাড়ির দিকে মায়াবী চোখে তাকিয়ে খাবারের জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। যখন চলতি গাড়ি থেকে ওদের দিকে কেউ চিপস বা বিস্কুটের প্যাকেট ছুঁড়ে দিচ্ছে তখন বাচ্চাগুলো হাত তুলে খুশিতে যেন ঝুঁটিওয়ালা পায়রার মতো বকবাকুম বকবাকুম করে নেচে উঠছে। চলতি পথে চারদিকের নয়নাভিরাম দৃশ্যের আরামে আমার দু’নয়ন বুজে আসছে। পাহাড় যেন পুরোপুরি ফুটে উঠেছে তার নিজস্ব ভঙ্গিমায় নিজের রূপের জানান দিতে। আবার কখনো মনে হচ্ছে যদি কোনও কারণে গাড়ি তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তাহলে সোজা আমাদের নিয়ে যাবে নিচের যমের বাড়িতে! নিচের দৃশ্য দেখে আতঙ্কে কাঁপছে বুক, আর বুকের একপাশে আটকে থাকা ভয়ের  শিরশিরে অনুভূতি শিরদাঁড়া দিয়ে নামছে, যা আরও তীব্র হয়ে ফুটে উঠছে ভ্রমণসঙ্গীদের মলিন মুখে। ক্ষণে ক্ষণে ভালোলাগা আর ভয় শিহরিত হয়ে জেগে উঠে মন নিজের অনুভূতির গতিপথ পরিবর্তন করে নিচ্ছে। 


 
সাজেকের পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে লেখক

অবশেষে, সাজেক ভ্যালির চূড়ায় পৌঁছে মনে হচ্ছে কল্পনার মানসপটে আকা একটা স্থানে বাস্তবে আরোহণ করলাম। প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচু সাজেকের চূড়া। এ যেন প্রকৃতির এক সুউচ্চ মিনার। আমরা এতক্ষণ যে পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সাজেকের ছাঁদে এসেছি, চারপাশের সেই স্থানকে মনে হচ্ছে সবুজ অরণ্যের ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সারি। পাহাড় বেয়ে সাজেকের চূড়ার বাঁকে উঠার আগে বুঝতেই পারিনি, এখানে এমন ভিন্ন চিত্র অপেক্ষা করছে। এ যেন পাহাড় আর মেঘের মিতালিতে গড়ে উঠা প্রকৃতির সৃষ্ট এক যৌথ খামার।

আমরা চান্দের গাড়ি হতে নেমে মেঘ বাতায়ন, মেঘ মাচাং, গসপেল, কুঁড়ে ঘর, মনো আভা নামক ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবস্থিত পাঁচটি রিসোর্টে আগে থেকে বরাদ্দকৃত রুমে পাঁচটি দলে বিভক্ত হয়ে চলে গেলাম। মেঘ বাতায়ন কটেজে গিয়ে গোসল সেরে বিশ্রাম নিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি কিছুটা মুছে ফেলে রওনা হলাম দুপুরের খাবারের জন্য। চলবে...

ঢাকা/এনএইচ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়