ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১০ ১৪৩১

বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিলেন পর্বতারোহী, ভ্রমণ লেখক হোমায়েদ ইসহাক মুন

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৫, ১১ জানুয়ারি ২০২৪  
বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিলেন পর্বতারোহী, ভ্রমণ লেখক হোমায়েদ ইসহাক মুন

২০২৩ সালের শেষ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা। সাগরে নামেন ৪৩ জন সাঁতারু। যাদের লক্ষ্য ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি দেয়া। তারা সমুদ্রপথে সাঁতার কাটবেন ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার। এই সাঁতারুদের দলে ছিলেন পর্বতারোহী হোমায়েদ ইসহাক মুন।  

শাহপরীর দ্বীপ থেকে দলের সবার সঙ্গে সাঁতার শুরু করেন মুন। ৫ ঘণ্টা ৭ মিনিট সাঁতার কেটে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছান তিনি। সাঁতার শেষে রাইজিংবিডিকে জানান অনুভূতি। বলেন, ‘এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা, নিজেরই ভাবতে কষ্ট হচ্ছে এমন গভীর সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিনের মাটিতে পা রাখতে পেরেছি। গত চার বছরের কষ্ট আজ সার্থক হয়েছে। ২০২১ সালে বাংলা চ্যানেলে অংশগ্রহণ করে ১০কি.মি পথ পাড়ি দিয়েছিলাম। কিন্তু আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় উঠে যেতে বাধ্য হই। পূর্বের অভিজ্ঞতা আর দুই বছরের অনুশীলনের ফল আজকের এই সফলতা।‘ 

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সমুদ্রসৈকত থেকে তারা সাঁতার শুরু করেন। সাঁতারুদের দলে ছিলেন ২ নারীসহ মোট ৪৩ জন। সাঁতার শেষ হয়েছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতে। আন্তর্জাতিক রীতি মেনে সাঁতারের আয়োজন করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। সবার জন্য আলাদা করে নৌকা ও উদ্ধারকর্মী ছিল। নিরাপত্তা ও সহায়তা করার জন্য সঙ্গী হিসেবে মুনের সঙ্গে ছিলেন আজাদ রহমান। তিনি কয়েকবছর ধরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার রেসকিউ দলের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। 

তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুন বলেন, এমন দুঃসাহসিক অভিযান সফল করতে হলে দলগত সাহায্য ছাড়া তা কখনো সম্ভব নয়। গভীর সমুদ্রে আমার রেস্কিউয়ার আমার আপনজন হয়ে আমাকে পথ দেখিয়েছে, খাবার ও পানি দিয়েছে, আমাকে প্রতিক্ষণে উৎসাহ দিয়েছে। তার সাহায্য ছাড়া সাঁতার শেষ করতে পারতাম না। তার সঙ্গে নৌকার মাঝি অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। নৌকার মাঝিকেও অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। হোমায়েদ ইসহাক মুনের আংশিক পৃষ্ঠপোষক ছিল ফুটওয়্যার কোম্পানি ‘শালিমার ইন্ডাস্ট্রিজ’ এবং ক্রাউড ফাণ্ডিং এর মাধ্যমে বন্ধু এবং শুভাকাক্ষীরা তাকে আর্থিক সহায়তা করে উৎসাহ দিয়েছেন।

কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে স্রোতোধারাটির নাম ‘বাংলা চ্যানেল’। এই চ্যানেলের দূরত্ব ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার। এবার এই সাঁতারের আয়োজন করেছে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’ ও ‘এক্সট্রিম বাংলা’। আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘১৮তম বাংলা চ্যানেল সাঁতার ২০২৩’। ২৮শে ডিসেম্বর ২০২৩ সকালে এর উদ্বোধন করেন টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরফানুল হক চৌধুরী।

৪৩ জন সাঁতারু এবারে সমুদ্রে নেমেছিলেন। তার মধ্যে ৪০ জন সাঁতার শেষ করতে পেরেছেন।  সাঁতার ভালোবেসে নিয়মিত অনুশীলন করেছেন মুন। জলের সাথে সখ্য হওয়ার কারণে  বিকেএসপি থেকে সাঁতার প্রশিক্ষকের কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সাঁতারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন নানা বয়সী মানুষকে। 

শান্ত//

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়