ঢাকা, শনিবার, ২ পৌষ ১৪২৪, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ধান সংকটে ঈশ্বরদীর ৫৭০টি চাতাল কল বন্ধ

শাহীন রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-১২ ১১:৪৩:৫৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-১২ ৫:৫৩:০০ পিএম

শাহীন রহমান, পাবনা : বাজারের অস্থিরতায় বন্ধ হয়ে গেছে ঈশ্বরদীর বেশিরভাগ চাতাল কল। ছোট বড় মিলিয়ে এখানের ৬৫০টি চাতাল কলের সচল রয়েছে মাত্র ৮০টি।

ধান সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরেই সংকটে পড়েছে ঈশ্বরদীর চালকলগুলোর উৎপাদন। একদিকে বেড়েছে চালের দাম, কমেছে বেচাকেনা। চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ পড়েছে মহাবিপাকে। অপরদিকে, বাজারের এই অস্থিরতায় বেশিরভাগ চাতালকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিরুপ প্রভাব পড়েছে ভোক্তা সাধারণেরই ওপর।

চাল নিয়ে কথা চালাচালিতে যখন সারাদেশ সরগরম, ঠিক সে সময়ে অনেকটাই নিস্তব্ধ উত্তরের জেলা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর চালের মোকাম। মোটা চাল সরবরাহকারী দেশের অন্যতম বৃহৎ এই মোকাম এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য। দফায় দফায় চালের মূল্য বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে এ সঙ্কট।

গত এক মাসে পাবনার মোকামগুলোতে প্রকারভেদে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা। নজিরবিহীন এ মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

জয়নগরে আলাপকালে একজন রিকশাচালক বলেন- ‘রিক্সা চালিয়ে, কামলা খাইটে যে কয় টেকা পাই তাতে চাল কিনতিই টেকা শেষ হয়া যায়। এবা কইরে কয়দিন চলবো। সরকার এক টেকা দাম বাড়ালি, মিল মালিক বা ব্যবসায়ীরা বাড়ায় দশ টেকা। কিন্তু দাম কুমার সময় আর দশ টেকা কমে না। দশ টেকা দাম বাড়ায়া, এক-দুই টেকা দাম কমালি কি হিসাব মেলে। যা কষ্ট সব ওই আমাগোরে কামলা মানুষের। বড়লোকের তো কোনো সমস্যা নাই।’
আরও কয়েকজন রিকশাচালক ও দিনমজুরের সঙ্গে আলাপ হলো, তাদের মন্তব্য প্রায় একইরকম। চালের দাম নিয়ে এরা সবাই বেসামাল।

ঈশ্বরদী উপজেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি ফজলুর রহমান মালিথা জানান, ঈশ্বরদীর মোকামে ছোট বড় মিলিয়ে চাতাল কলের সংখ্যা ৬৫০। অথচ ধান সঙ্কটের কারণে এ মৌসুমে সচল রয়েছে মাত্র ৮০টি। সরকারি গুদামে যে আপদকালীন মজুদ সেটার অবস্থা খুবই নাজুক। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বা মিল মালিক।
সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় ধান সংগ্রহে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কব্জা করেছে কয়েকটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। কখনো গুজব রটিয়ে, কখনো বা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে স্বার্থসিদ্ধি হচ্ছে তাদের। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ অটো রাইসমিল মালিকরা। এজন্য সরকারের কঠোর নজরদারির দাবি তাদের।

 


ঈশ্বরদী উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস জানান, এখন ধান কিনে চাল তৈরির পর তা বিক্রি করতে গেলে লাভের বদলে ট্রাকপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। ধান সঙ্কট তো আছেই। যে কারণে চালের মোকামে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

চাতাল মালিকরা জানান, মোকামে ক্রেতাশূন্য অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চালু চাতালগুলোতে যা চাল উৎপাদন হচ্ছে, তাও বিক্রি হচ্ছে না বললেই চলে। চাল ক্রেতার অভাবে বেশিরভাগ চালই অবিক্রিত পড়ে থাকছে । চালের বাজার বেড়ে যাওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে জানান, উপজেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ খায়রুল ইসলাম।

উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব অনুযায়ী মিনিকেট, বিআর-২৮, বিআর-২৯, পারিজা, নতুন গুটি স্বর্ণা, বিনা-৭ ও বিআর-৩৯ চালসহ এই মোকামে উৎপাদিত সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা জানান, বাজারে ধানের দামের সঙ্গে চালের বাজার মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় ঈশ্বরদী মোকামে উৎপাদিত চালের মূল্য বাড়ছে। তিনি জানান, বর্তমানে ঈশ্বরদী মোকামের মিলগুলো বন্ধ থাকায় বিভিন্ন চালের আড়তে থাকা চালগুলো বিক্রি করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাফিউল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে ধান বা চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে সেই মজুদদার বা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চলছে। আমরা কোনো ব্যবসায়ীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইনা। কিন্তু কেউ যদি সরকারের ইমেজ নষ্টের অপচেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

রাইজিংবিডি/পাবনা/১২ অক্টোবর ২০১৭/শাহীন রহমান/টিপু

Walton
 
   
Marcel