ঢাকা, বুধবার, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

বৈধতা পাচ্ছে অ্যাপ নির্ভর পরিবহন সেবা

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৫ ২:৪৩:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-২৫ ৯:৩৫:৪৫ পিএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : আইনি বৈধতা পেতে যাচ্ছে উবার, পাঠাওসহ অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবা। এতদিন যাত্রীরা সেবা পেলেও এর কোনো আইনি বৈধতা ছিল না। এই সেবাকে আইনি কাঠামোতে নিয়ে আসতে ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে নীতিমালায় লাইসেন্স নেওয়ার বিধান বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নীতিমালায় মোট ৮টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। রাইডিংশেয়ারিং ব্যবসায় অনুচ্ছেদ ‘ক’ তে বেশকিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে প্রথমত, রাইডশেয়ারিং সার্ভিস পরিচালনার জন্য বিআরটিএর কাছ থেকে এ সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানকে এনলিস্টমেন্ট সনদ নিতে হবে। মোটরযানের মালিক যিনি তিনি এই সনদ নেবেন। তাছাড়া রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানের টিন ও ভ্যাট সার্টিফিকেট থাকতে হবে। আর যদি উক্ত সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান কোম্পানি হয় তাহলে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সব শর্তাবলি মেনে চলবে। জাতীয় চাহিদা সড়ক নেটওয়ার্কের ক্যাপাসিটি রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানের অধিক্ষেত্র বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত হবে। রাইডশেয়ারিং সার্ভিস এলাকায় নিজস্ব অফিস থাকতে হবে। কোনো রাইডিং রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান রাইডশেয়ারিং সেবার সাথে যুক্ত হতে বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত সকল মোটরযান নিজস্বভাবে থাকতে হবে। ডিটিসি অনুমোদিত ঢাকা মহানগরী এলাকার জন্য ১০০টি এবং চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকার জন্য ৫০টি এবং দেশের অন্যান্য মহানগর বা শহর এলাকার জন্য কমপক্ষে ২০টি নিজস্ব বাহন থাকতে হবে। রাইডশেয়ারিং এর আওতায় ব্যক্তিগত মোটরযান, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস এবং অ্যাম্বুলেন্স অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

রাইডশেয়ারিং এ ব্যবহৃত সব মোটরযানের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যেমন রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস, ইন্সুরেন্স এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেটের হালনাগাদ থাকতে হবে। রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানের এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট প্রাপ্তির পর রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারি ও চালকের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। যেখানে সবপক্ষের অধিকার এবং দায়-দায়িত্বের বিষয়গুলি পরিষ্কার লেখা থাকবে। নির্ধারিত স্ট্যান্ড বা অনুমোদিত স্থান ব্যতিত যেখানে সেখানে কোনো রাইডশেয়ারিং মোটরযান যাত্রী নিতে রাস্তায় অপেক্ষা করতে পারবে না। এই নীতিমালার অধীন একজন মালিক মাত্র একটি মোটরযান রাইডশেয়ারিং সার্ভিসে পরিচালনা করতে পারবে। ব্যক্তিগত মোটরযান রেজিষ্ট্রেশন  গ্রহণের পর প্রথম এক বছর সময় তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের পর উক্ত মোটরযান রাইডশেয়ারিং এ দিতে পারবে এবং বিআরটিএর ওয়েব পোর্টালে রাইডশেয়ারিং এ নিয়োজিত মোটরযানের তালিকা দিতে হবে। সেখানে যাত্রীর অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকতে হবে।

মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, নীতিমালার অনুচ্ছেদ ‘গ’ এ বলা হয়েছে, রাইডশেয়ারিং এ নিয়োজিত হতে হলে তাকে অবশ্যই এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নিতে হবে। সনদ ছাড়া কেউ এ ধরনের সেবামূলক কাজ করতে পারবে না। এ ধরনের সার্টিফিকেট নিতে উক্ত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানকে বিআরটিএ অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে ১ লাখ টাকা এনলিস্টমেন্ট ফি বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এর সাথে ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন ও ভ্যাট সার্টিফিকেটসহ নানা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এনলিস্টমেন্ট ফি সরকার প্রয়োজনে কম বেশি করতে পারবে। লাইসেন্স পেতে আবেদনপত্র পাওয়ার বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করার পর এক বছরের জন্য এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট প্রদান করবে। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগে রিনিউ করতে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে নবায়ন ফি বাবাদ প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে।

‘নীতিমালার অনুচ্ছেদ ‘ঘ’ তে বলা আছে-রাইডশেয়ারিং এর জন্য এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট একবারে সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদে প্রদান করা যাবে। মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করা যাবে। মোটরযানের জন্য প্রতি বছর রিনিউ ফি বাবদ ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য মোটরযানের জন্য ১০০০ টাকা ফি দিতে হবে-বলেও জানান সচিব।

ভাড়ার কথা উল্লেখ করে সচিব জানান, নীতিমালার ‘ঙ’ অনুচ্ছেদে এ বিষয়টি বলা আছে। এতে বলা হয়েছে, ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস গাইডলাইন ২০১০ অনুসারে ভাড়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে। এর চেয়ে বেশি ভাড়া গ্রহণ করা যাবে না। তাছাড়া নীতিমালা লঙ্ঘন করলে এনলিস্ট সার্টিফিকেট বাতিল বলে গণ্য হবে এবং প্রচলিত আইনের দ্বারা শাস্তি প্রদান করা যাবে।

বর্তমানে ঢাকায় চলছে একাধিক স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) ভিত্তিক পরিবহন সেবা। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকা শহরে যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্বের অন্যতম বড় অন-ডিমান্ড রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার। এ ধরনের সেবার আওতায় উবারের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সিক্যাব থাকে না। অ্যাপল স্টোর বা গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘উবার’ নামের অ্যাপ নামাতে হয়। এরপর ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হয় চালক ও যাত্রীকে। তারপরই তারা এর সেবা নিতে পারেন। উবারের পর ‘পাঠাও’ নামে আরেক প্রতিষ্ঠান মোটরসাইকেলে একই ধরনের সেবা চালু করেছে।

তবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকেরা এ নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তবে জনপ্রিয়তার কারণে শেষ পর্যন্ত সরকার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ব্যক্তিগত মোটরযান ভাড়ায় চালানোর জন্য দেশে কোনো আইন বা বিধিবিধানও নেই। সেক্ষেত্রে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩–এর ৫৩ ধারার ক্ষমতাবলে পরীক্ষামূলকভাবে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালুর জন্য এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ জানুয়ারি ২০১৮/নঈমুদ্দীন/সাইফ

Walton Laptop
 
     
Marcel