ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৭ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আজ ধূমকেতু কবির জন্মজয়ন্তী

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২৫ ১০:২০:১৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-২৫ ১২:৪০:৩২ পিএম
Walton AC 10% Discount

শাহ মতিন টিপু: 'আমি যুগে যুগে আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু, সেই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু।' এই ধূমকেতু কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী আজ।

কবির জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়ায়। তিনি প্রেমের কবি, তিনি দারিদ্রের কবি, তিনি সাম্যের কবি, তার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়- তিনি বিদ্রোহী কবি। আর আমাদের গর্ব, তিনি আমাদের জাতীয় কবি।

এবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নজরুল-চেতনায় বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।

‘বল বীর/বল উন্নত মম শির/শির নেহারি আমারি/নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!’ – এমন মন্ত্রোচ্চারণে আমরা আজো উদ্বুদ্ধ, আজো তার অনুরাগী। বাংলা কবিতায় একেবারেই উল্কার মত আবির্ভাব ঘটেছিল এই মহান পুরুষের।

বাংলা সাহিত্যে তিনি কবি হিসেবেই নয়, তিনি অনেক শাখাতেই তার অনন্য প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েছিলেন। সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা- নানারূপে বর্ণাঢ্য ছিল তার জীবন। বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল আমাদের প্রেরণার উৎস।

তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনার এক বছর পর ১২ই ভাদ্র ১৯৭৬ সালের শোকের মাসেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত।

নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাস আমাদের অন্তহীন প্রেরণার উৎস। কবির ক্ষুরধার অগ্নিঝরা লেখনী শোষিত নির্যাতিত ও বঞ্চিতদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার করে। শিক্ষা দেয় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। নতুন প্রজন্ম নজরুলের কর্ম চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবে।’

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর শিকল ভাঙ্গার গানে ঝিমিয়েপড়া বাঙালী সমাজ জেগে উঠেছিল। সাম্য, মানবতা, তারুণ্য ও দ্রোহের কবি তিনি।’

জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এ বছর জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিকাল ৩টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তি নিকেতন, ভারত এর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী এমপি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল।

এছাড়াও কবির স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লার দৌলতপুর, মানিকগঞ্জের তেওতা, চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা এবং চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় কবির ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে।

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত কবির মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ। দিনভর চলবে আলোচনা স্মৃতিচারণ। ছায়ানটে আজ সকাল এগারোটায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলা একাডেমি আগামীকাল রবিবার বেলা এগারোটায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নজরুল বিষয়ক একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে ‘নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সাংস্কৃতিক পর্বে থাকবে নজরুলের কবিতার আবৃত্তি ও নজরুলগীতি পরিবেশনা।




রাইজিংবিডি/ ঢাকা/২৫ মে ২০১৯/ টিপু

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge