ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তি চাই

সাইফ বরকতুল্লাহ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৪ ৩:২১:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-০৪ ৩:২১:৪০ পিএম
রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তি চাই
ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ওউ
Voice Control HD Smart LED

সাইফ বরকতুল্লাহ : জনাকীর্ণ আদালত। যখন রায় ঘোষণা হলো তখন আদালতে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকও কাঁদলেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন কিয়াও সোয়ে ওউয়ের স্ত্রী চিত সু উইন ও তার তিন বছর বয়সী কন্যা। আর ওয়া লোনের স্ত্রী গত মাসে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তাদের মানসিক অবস্থার কথা একবার ভেবে দেখুন। তাদের চোখে-মুখে তাকালেই বিষণ্নতা নেমে আসে। সত্যিই বেদনায়ক। সত্য প্রকাশের কারণে আজ তাদের এ অবস্থা।

বলছিলাম মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের কথা। তাদের সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই দুই সাংবাদিক হলেন ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ে ওউ (২৮)। গতকাল সোমবার ইয়াঙ্গুনের উত্তরাঞ্চীয় জেলা জজ আদালতের বিচারক ইয়ে লুইন এ রায় ঘোষণা করেন।

এখানে বলে রাখি, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষ ও কিশোর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চালানোর সময় গত ১২ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হন তারা। ২৭ ডিসেম্বর তাদের দুজনকে আদালতে হাজির করার পর ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারে পাঠানো হয়৷ সে সময় নিন্দার ঝড় ওঠে বিশ্বের সাংবাদিক অঙ্গনে৷ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং অধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়৷ কিন্তু তাদের সব দাবি উপেক্ষা করে এই দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দিলো আদালত৷

এ রায়ে প্রমাণিত হলো মিয়ানমার স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে না। এ কথা জাতিসংঘের নবনিযুক্ত মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটও বলেছেন। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের দণ্ড হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবেই আন্তর্জাতিক মান লঙ্ঘন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যে বার্তাটি দেওয়া হলো তা হচ্ছে মিয়ানমারের অন্য সাংবাদিকরা ভয়হীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। তাদের বরং নিজে থেকে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে হবে অথবা বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

রায় ঘোষণার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন কিয়াও সোয়ে ওউয়ের স্ত্রী চিত সু উইন ও তার তিন বছর বয়সী কন্যা (ছবি : সংগৃহীত)


শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হ্যালি সোমবার টুইটারে এক বার্তায় বলেন, দায়িত্ব পালন করার কারণে সাংবাদিকদের সাজা পাওয়া বার্মিজ সরকারের জন্য বড় ধরনের কলঙ্ক। এটা স্পষ্ট যে, মিয়ানমার সরকার বড় ধরনের নিপীড়ন চালিয়েছে। একটি মুক্ত দেশে মানুষকে সবকিছু সম্পর্কে অবহিত রাখা দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কর্তব্য। নেতাদের জবাবদিহিতায় আওতায় রাখা দেশের দায়িত্ব।

সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এমন নির্লজ্জ আক্রমণ মিয়ানমারে থামছেই না। মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদোতে দেশটির পার্লামেন্টের কাছে হেলিকপ্টার থেকে ড্রোন দিয়ে ছবি তোলার দায়ে গত বছরের ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের একটি আদালত বিদেশি দুজন সাংবাদিক ও তাদের দুই সহযোগীকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেন। তারা হলেন তুরস্কের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম টার্কিশ রেডিও ও টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন লাউ হন মেং, প্রতিবেদক মক চাই লিন ও তাদের স্থানীয় দোভাষী অং নাইং সোয়ে ও চালক হ্লা থিও। গত ২৭ ডিসেম্বর দুই বিদেশি সাংবাদিক সিঙ্গাপুরের নাগরিক লাউ ও মালয়েশিয়ার বাসিন্দা মক চাই লিনকে ১৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছিলেন দেশটির একটি আদালত। গত ২৩ অক্টোবর ওই দুই বিদেশি সাংবাদিক ও তাদের দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।

দুই.
ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির কোনো ভূমিকা আমরা দেখতে পাইনি। অথচ এই সু চিই এক সময় সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সময় তিনি যখন গৃহবন্দি ছিলেন, তখন তার মুক্তির জন্য সাংবাদিকেরাই লড়াই করেছেন। আর এখন সু চির কোনো ভূমিকা নেই। রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে ঝানু এই দুই সাংবাদিক এরই মধ্যে প্রায় নয় মাস কারাগারে কাটিয়েছেন। এ দুজনের সাংবাদিকতা বন্ধ করে দিতে এবং গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখতে তাদের বিরুদ্ধে এ মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে। অপরাধের তথ্য-প্রমাণ ছাড়া পুলিশের সাজানো তথ্যের ভিত্তিতে আজ যে রায় দেওয়া হলো, তা তাদের স্বাধীনতাহরণের ধারাবাহিকতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যায় আচরণকে ক্ষমা করার বিষয়টিকেই তুলে ধরছে। এটি গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের জন্য মিয়ানমারের বড় ধরনের পশ্চাদপসরণ। এটি আইনের শাসন অথবা বাক্‌স্বাধীনতার উপযোগী নয়। জরুরি ভিত্তিতে মিয়ানমারের উচিত এর সংশোধন করা।’ আমরাও চাই মিয়ানমার এই বিষয়টি দ্রুত উপলব্ধি করবে। দ্রুত মুক্তি দেবে ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়েকে।

লেখক : সাহিত্যিক ও সাংবাদিক




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮/সাইফ/রফিক

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge