ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ কার্তিক ১৪২৪, ১৯ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারকে আরো চাপ দিতে হবে

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-১৩ ৪:১৯:৪৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-১৩ ৪:১৯:৪৯ পিএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

শুক্রবার ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ‘শোকেস কোরিয়া-২০১৭’-এর উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টির প্রেসিডেন্ট ও মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত অন সিঅং-ডু, এলজি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইডোয়ার্ড কিম, কোরিয়া ইপিজেডের প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর সাদাত। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাব উদ্দিন খান।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ও আন্তর্জাতিক চাপে ইতোমধ্যে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অপরদিকে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হত্যা, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। ফলে এখনো হাজার হাজার রোহিঙ্গা জীবন রক্ষার জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের এক কোটি মানুষ প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। আমরা সে সময় যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম সে অভিজ্ঞতা আছে। রোহিঙ্গারাও নির্যাতিত হয়ে বিতাড়িত। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গাদের কষ্ট আমরা বুঝতে পারি। তাদের নিজ ঘর-বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ১৮২৪ সালে ব্রিটিশ-বার্মা যুদ্ধে ব্রিটিশরা জয়লাভ করে। তখন থেকে আরাকান রাজ্যে মুসলমানরা সম্মানের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। এখন তাদের অবৈধ বলার সুযোগ নেই। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।

কোরিয়াকে বাংলাদেশে পণ্য তৈরি করে ব্যবসা-বাণিজ্যের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোরিয়ার সব কোম্পানি চাইলে বাংলাদেশেই তাদের পণ্য তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের কোরিয়ার তৈরি পণ্য ক্রয়ের সক্ষমতা রয়েছে। এখানে পণ্য প্রস্তুত করে রপ্তানি করলে কোরিয়া লাভবান হবে।

তিনি আরো বলেন, কোরিয়ার প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠান ইপিজেডে ব্যবসা পরিচালনা করছে। সেখানে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায় ব্যবধান অনেক।

গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কোরিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১২৬৮.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে রপ্তানি করেছে ২৩৮.২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। ইপিজেডে কোরিয়া ৭ম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। কোরিয়া বাংলাদেশকে ডিউটি ও কোটি ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে। কোরিয়ায় রপ্তানি বৃদ্ধি করে এ বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও জানান মন্ত্রী।

বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো শোকেস কোরিয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুক্রবার থেকে মেলা শুরু হয়েছে। মেলা চলবে ১৪ তারিখ পর্যন্ত। বিনামূল্যে  সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। কোরিয়ার ৩৬টি কোম্পানি তাদের পণ্য নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করছে। এলজি, স্যামসাংসহ বিভিন্ন কোম্পনির ইলেক্ট্রনিক, মেশিনারিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ অক্টোবর ২০১৭/নঈমুদ্দীন/মুশফিক

Walton
 
   
Marcel