টিকটক, প্রলোভনে বাড়ি ছাড়া দুই কিশোরী, প্রশাসনের তৎপরতায় রক্ষা
গাজীপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পূর্ব নিজ মাওনা গ্রামের সাধারণ একটি পরিবারে গত সপ্তাহে নেমে এসেছিল উৎকণ্ঠায় ঘেরা অজানা আশঙ্কা।
শনিবার (৩০ মে) পরিবারের দুই কন্যা রুপা (ছদ্মনাম) ও বন্যা (ছদ্মনাম) হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায়। তাদের একজনের বয়স ১৪, অপরজনের ১৩। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের অনুপস্থিতি পুরো পরিবারকে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ডুবিয়ে দেয়।
প্রাথমিকভাবে এটি নিছক অভিমান বা পারিবারিক কোনো ঘটনার ফল বলে মনে হলেও পরে উঠে আসে উদ্বেগজনক বাস্তবতা। জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত টিকটক নির্মাতার প্রভাব ও ভার্চুয়াল জগতের প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে বাড়ি ছাড়ে দুই বোন।
শিশু ও কিশোরদের কাছে ভার্চুয়াল জগৎ যেন রঙিন স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে ঘর ছাড়েন দুজন। কিন্তু বাস্তবের পথ কখনোই গল্পের মতো নয়। এ কথা বুঝতে পারার আগেই তারা পৌঁছে যায় জামালপুর। এমন সময় জাহাঙ্গীর আলম নামে এক যুবকের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। তিনি দুই কিশোরীর অসহায় অবস্থা অনুধাবন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন এবং তাদের পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। পোস্টটি নজরে আসে জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফের। তিনি বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর দুই জেলার প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে শুরু হয় পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও পরিবারের সন্ধান পাওয়ার কার্যক্রম।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া দ্রুত মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালান। পূর্ব নিজ মাওনা গ্রামে গিয়ে দুই কিশোরীর পরিচয় যাচাই করা হয় এবং তাদের বাবা-মাকে বিষয়টি জানানো হয়। আর এভাবেই নিখোঁজ হওয়ার দুই দিনের মাথায় মঙ্গলবার দুই কিশোরী নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসে।
পরে তারা জানায় জামালপুর ও গাজীপুর প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে জামালপুরের ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ শেল্টার হোমে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে ছিল। এবং বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আগেই তারা ফিরে আসতে পেরেছে। শুধু ফিরিয়ে দেওয়া নয়, পরিবারটির আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় নিয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দুই বোনের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশনা দেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘটনাটি সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা দিচ্ছে। বর্তমানে স্মার্টফোন, টিকটক, লাইকির মতো প্ল্যাটফর্ম শিশু-কিশোরদের জীবনে প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা বাস্তব ও ভার্চুয়াল জীবনের সীমারেখা বুঝে উঠতে পারছে না। ফলে অচেনা মানুষের প্রলোভন, জনপ্রিয়তার মোহ কিংবা সাময়িক অভিমান তাদের বিপজ্জনক সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ জন্য তারা সন্তানের ওপর শুধু নজরদারি নয়, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলছেন।
একইসঙ্গে এ ঘটনায় প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের দিকটিও সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট, সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দুই কিশোরীকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করেছে, বলছেন অনেকে।
ঢাকা/রফিক//
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই