ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

বিশ্বের অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক, যুক্তরাষ্ট্র || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫২, ১১ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:২২, ১১ ডিসেম্বর ২০২০
বিশ্বের অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান বাংলাদেশের

রাবাব ফাতিমা (বামে), রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের ম্যানেজার তিজিয়ানা বোঞ্জন (ডানে)

বিশ্বের সকল অভিবাসী ও তাদের পরিবারকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) কোভিড-১৯ মহামারিকালে অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল ইভেন্টে প্রদত্ত উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা এ আহ্বান জানান।

সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আন্তর্জাতিক ফেডারেশন (আইএফআরসি), আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘে নিযুক্ত পর্তুগাল ও মরক্কো মিশন এবং ফ্রেন্ডস অব মাইগ্রেশন গ্রুপ। বাংলাদেশ বর্তমানে ফ্রেন্ডস অব মাইগ্রেশন গ্রুপের কো-চেয়ার।

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা পরিধির প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে কোভিড-১৯ এর টিকার সকলের সমান প্রাপ্ততা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আহ্বান জানান তা উল্লেখ করেন রাবাব ফাতিমা। তিনি নাজুক পরিস্থিতিতে পতিত অভিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের টিকা, ঔষধ ও সরঞ্জামাদির সহজলভ্যতা নিশ্চিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি পুনঃআহ্বান জানান। বিশ্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা পরিধির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নাজুক পরিস্থিতির শিকার অভিবাসীদের সেবাপ্রদান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি অনুরোধ করেন রাবাব ফাতিমা।

রাবাব ফাতিমা বলেন, গত জুন মাসে গৃহীত ‘অভিবাসীদের ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ শীর্ষক যৌথ বিবৃতিতে সহ-নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ, যা ১০৩টি দেশের সমর্থন অর্জন করে। বিবৃতিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা নীতি এবং পরিকল্পনায় অভিবাসীদের স্বাস্থ্য চাহিদার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। করোনা মহামারি মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তাতে অভিবাসী এবং বিদেশ প্রত্যাগত অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মর্মে প্রদত্ত বক্তব্যে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

অভিবাসনের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবান অভিবাসীই কর্মক্ষম অভিবাসী'। তিনি আইওএম, আইএফআরসি ও ডব্লিউএইচও-কে এ বিষয়ক উত্তম অনুশীলন ও নীতিগুলো পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করার আহ্বান জানান। সর্বত্র অভিবাসীদের অধিকার, কল্যাণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে তাদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা মোকাবিলার জন্য সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইএফআরসি’র সভাপতি ও আইওএম এর মহাপরিচালক। 

ছাবেদ/বকুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়