ঢাকা     শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪২৭ ||  ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

পাহাড়ে আনারসের বাম্পার ফলন

মামুন চৌধুরী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:৩৬, ১৮ জুন ২০২০  
পাহাড়ে আনারসের বাম্পার ফলন

হবিগঞ্জের পাহাড়ে আনারসের আবাদ বেড়েছে। ফলনও ভাল হচ্ছে। খেতে সুস্বাদু পুষ্টিগুণে ভরা এ ফলটি চাষ করে চাষিরাও লাভবান। ক্রেতা ও পাইকার সবার কাছেই রয়েছে পাহাড়ের এই আনারসের কদর।

এক সময় এ জেলায় তেমন একটা চাষ হতো না আনারসের। বর্তমানে ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। পাহাড়ি লালমাটিতে এ ফলটি বছরজুড়েই চাষ হচ্ছে। চাহিদা থাকায় দিন দিন চাষেরও পরিধি বাড়ছে।

জেলার বাহুবল, নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুরের পাহাড়ি পতিত জমি আবাদ করে চাষিরা ক্যালেন্ডার ও জলঢুপি জাতের আনারস চাষ করছেন।

পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, জেলার শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জের পুটিজুরী বনবিটের পাহাড়ি এলাকার টিলায় টিলায় চাষ হয়েছে আনারসের। মন কেড়ে নেয় আবাদকৃত আনারসের ফলন। চাষ করেছেন উপজাতি ও পাহাড়ি এলাকার নিকটবর্তী বাসিন্দারা। আনারসের বাম্পার ফলনে মুখে হাসি ফুটেছে তাদের। চাষিরা মনে করছেন এবার আনারস বিক্রি করে তারা খুবই লাভবান হবেন।

একজন চাষি জানালেন, এখানের আনারস বিষমুক্ত। কারণ, এর ফলনে কীটনাশকের প্রয়োগ হয়নি। বিষমুক্ত বলে এখানের আনারসের কদর রয়েছে ক্রেতাদের কাছে।

কয়েক বছর আগেও পাহাড়ে প্রচুর জমি পতিত পড়ে থাকত। এসব জমিতে কোন ফসল চাষ হতো না। দিন দিন লোক সংখ্যা বাড়ছে। তার সঙ্গে কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে পাহাড়ি পতিত জমিতে আবাদ করে এখন পুরোদমে আনারসসহ নানা ধরণের ফসলের চাষ হচ্ছে।

আলাপকালে বাহুবল উপজেলার কালিগজিয়ার বাসিন্দা আনারস চাষি সাজন বেদবর্মা বলেন, ‘বেকার ছিলাম। এখন আর বেকার নই। বছরজুড়ে আনারসসহ নানা ধরণের ফসল চাষ করে সৎপথে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছি।'

এখানের আরেক চাষি তাহির মিয়া বললেন, ‘অনেকে পাহাড়ে বার মাস আনারস চাষ করছেন। তবে আমরা এক মৌসুমই এ ফল চাষ করছি। কারণ সময়ের ফল সময়ে চাষ করলে কেমিক্যাল প্রয়োগ করতে হয় না।'

তিনি বলেন, ‘আনারস পাকা শুরু হয়েছে। এবার আনারসের ভাল হয়েছে। আশা করছি ভাল দামও পাব।'

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানের পাহাড়ে বানরের উৎপাতে আনারস চাষে বেশ ঝুঁকি রয়েছে। আনারস পরিপক্ক হওয়ার আগেই বানরের দল এসে বাগানে ঢুকে ফলগুলো তছনছ করে দেয়। পাকা আনারস খেয়ে ফেলে।

শায়েস্তাগঞ্জের লস্করপুর রেলওয়ে গেইট এলাকার আনারস বিক্রেতা সিরাজ মিয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে দুই ধরনের আনারস পাওয়া যায়। এরমধ্যে আকারে বড় ‘ক্যালেন্ডার’ ও আকারে ছোট গোলাকৃতির ‘জলঢুপি’। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে দু’টির স্বাদ আলাদা। রসালো জলঢুপি খেতে মিষ্টি। ক্যালেন্ডারে মিষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম।'

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘মৌসুমী ফল আনারসের অনেক গুণ। আনারস পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এসব উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এই ফল। ফলে শিরা-ধমনির (রক্তবাহী নালি) দেয়ালে রক্ত না জমার জন্য সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত যেতে পারে। হৃদপিন্ড আমাদের শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। আনারস রক্ত পরিষ্কার করে হৃদপিন্ডকে কাজ করতে সাহায্য করে।'

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে আনারসের কদর বেড়েছে। তাই দাম বেড়েছে কিছুটা। সাধারণত টিলা বা এমন এলাকায় আনারস চাষ হয়ে থাকে।

যে কারণে মৌলভীবাজারের পরই হবিগঞ্জে আনারসের ভাল ফলন হচ্ছে। বর্তমানে জেলার পাহাড়ি এলাকার প্রায় ৩ হাজার একর জমিতে এ ফলটি চাষ হচ্ছে। প্রতি একরে উৎপাদন ৬ মেট্রিক টন। কমপক্ষে ৪ হাজার চাষি এর সাথে জড়িত।'

 

হবিগঞ্জ/মামুন/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়