ঢাকা, শুক্রবার, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন সহস্রাধিক পর্যটক

কক্সবাজার প্রতিনিধি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৯ ৩:৩৬:২০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৯ ৩:৩৬:২০ পিএম

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে আটকা পড়েছেন সহস্রাধিক পর্যটক।

শনিবারও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে পর্যটকবাহী জাহাজসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করেনি বলে জানিয়েছেন টেকনাফের ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে আবহাওয়ার বৈরীতার কারণে এ নৌ-পথে পর্যটকবাহী জাহাজসহ অন্যান্য নৌযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল বলে জানান ইউএনও।

ফলে বৃহস্পতিবার ও এর আগে সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে যাওয়া অন্তত সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়ে শনিবারও অবস্থান করছেন।

তবে প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আটকা পড়া পর্যটকরা দ্বীপটিতে নিরাপদে অবস্থান করছে। তাদের যাতে কোন ধরণের দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে না হয় সেটার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে মৌসুমী আবহাওয়ার কারণে গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত এখন কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল থেকে ৪৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন।

শনিবার দুপুরেও কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে চলাচলকারী নৌযানসমূহকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আব্দুর রহমান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারে আকাশ মেঘলা রয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে হালকা ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বেলা ১২ টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ মিলিমিটার। সমুদ্রের ঢেউ স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ইউএনও সাইফুল বলেন, বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় শনিবারও টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে পর্যটকবাহী জাহাজসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করতে পারেনি। এতে বৃহস্পতিবার ও এর আগে সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যাওয়া অন্তত সহস্রাধিক পর্যটক টেকনাফ ফিরতে পারেনি। পাশাপাশি টেকনাফে আটকা পড়া অন্তত ৮ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সেন্টমার্টিনে ফেরা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া আটকা পড়া পর্যটকদের যাতে কোন ধরণের অসুবিধা ও দুর্ভোগে পড়তে না হয় সেটার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আটকা পড়া পর্যকদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, আটকা পড়া পর্যটকরা নিরাপদে হোটেলে অবস্থান করছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তাল সাগরে গোসল না করতে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে।

এছাড়া পর্যটকরা যাতে হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার না হন এ ব্যাপারে হোটেল-মোটেল ও খাবার রেস্তোরাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় এ ইউপি চেয়ারম্যান।

কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, শনিবার সকালের মধ্যেই জেলার বিভিন্ন এলাকার সবকটি মাছ ধরার ট্রলার উপকূলে ফিরে এসেছে। এরপরও সাগরে ২/৩  ট্রলার অবস্থান করলেও সেগুলো ফিরিয়ে আনার তৎপরতা চলছে।

পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র সৈকতে স্বাভাবিকের চেয়ে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম রয়েছে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের এসপি মো. জিল্লুর রহমান।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার আব্দুল আল-মামুন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও শনিবার দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজারে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৭ বিমান অবতরণ এবং ৭ উড্ডয়ন করেছে।


কক্সবাজার/রুবেল/বুলাকী

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন