ঢাকা, বুধবার, ৭ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মাল্টায় স্বপ্ন বুনছেন আজিম

ফরহাদ হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৮ ৮:৪৭:৩৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৮ ১:৩৮:৫০ পিএম

ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল মাল্টা। রসালো ও সুস্বাদু ফলের মধ্যে এটি অন্যতম। সারাদেশে উৎপাদন সীমিত হলেও এ ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন লক্ষ্মীপুরের তরুণ উদ্যোক্তা আজিম উদ্দিন ভূইয়া।

আজিম গত ২ বছর পূর্বে ৮ একর জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। কৃষি অধিদপ্তর মনে করছেন এখানকার মাটি ও আবহাওয়া ফল চাষের উপযোগী। পরিকল্পিতভাবে ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে চাষ করলে চাষিরা লাভবান হবেন বলে মনে করে দপ্তরটি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তরুণ উদ্যোক্তা আজিম উদ্দিন ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর পৌরসভার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের শাহ নেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি ২০০৭ সালে এসএসসি পাশ করে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় যান। সেখানে তিন বছর কসমেটিক্স ব্যবসা করার পর দুবাই চলে যান।

সেখান থেকে এক বছর পরই দেশে ফিরে আসেন। এরপর ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার যান। সেখানে আজিম তিন বছর ছিলেন। কোরিয়ায় থেকে ইন্টারনেটের বদৌলতে শাইখ সিরাজের কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে ফলের বাগান করার স্বপ্ন বুনেছেন।

২০১৭ সালে দেশে ফিরে গড়ে তুলেন স্বপ্নের বাগান। জেলার রায়পুর উপজেলার পূর্ব হাজীমারা এলাকায় আট একর জমির উপর গড়ে তুলেন ‘ভূঁইয়া ফ্রুটস গার্ডেন’ নামে এক ফলের বাগান। কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই কেবলমাত্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ বাগান তৈরি করেন আজিম।

বর্তমানে এ বাগানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ফলের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে বারী-ওয়ান জাতের ১৫’শ মাল্টা গাছ, থাই জাতের ২৫’শ পেয়ারা গাছ, হিম সাগর জাতের এক হাজার আম গাছ এবং আপেল ও নারকেলি জাতের পাঁচশ বরই গাছ রয়েছে। আজিমের ফলের বাগানে দুজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন।

বাগান করার শুরুতে রাজশাহী থেকে এসব ফল গাছের কলম সংগ্রহ করেছিলেন এই উদ্যোগক্তা। ইতোমধ্যে এসব গাছ থেকে ফল আহরণ শুরু হয়েছে। যা স্থানীয় বাজারগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলগুলো সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা দিনদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আজিম উদ্দিন ভূঁইয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, অভিজ্ঞতা ছাড়া বাগান তৈরি করায় প্রথমদিকে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিলো তাকে। বর্তমানে সমস্যাগুলো সমাধান করে স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে সে। ইতোমধ্যে বাগানের গাছগুলো থেকে ফল আহরণ শুরু হয়েছে। যা জেলার বাজারগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও এ বছর উৎপাদিত ফলের পরিমাণ স্বল্প। তবে আগামী বছর থেকে ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা বলে জানিয়েছেন আজিম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খাঁন রাইজিংবিডিকে বলেন, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া ফল চাষের জন্য উপযোগী। যে কেউ পরিকল্পিতভাবে ফলের চাষ করলে লাভবান হবেন। এছাড়াও ফল চাষীদের সকল সহযোগিতা করা হবে।



লক্ষ্মীপুর/ফরহাদ/বুলাকী

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম বিভাগ