RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ২ ১৪২৭ ||  ০১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ঋণ না নিয়েও ঋণখেলাপি!

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:১৫, ১২ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
ঋণ না নিয়েও ঋণখেলাপি!

পাবনার চাটমোহরে ঋণ না নিয়েও ঋণখেলাপি হওয়ার অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। তাও আবার সংখ্যায় তারা ৩০জন। ঋণখেলাপি হওয়ার নোটিশ পেয়ে ঘুম হারাম হয়ে গেছে তাদের।

এরমধ্যেই এই ৩০ ঋণখেলাপি প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন এবং দ্রুত এর প্রতিকার চেয়েছেন।

৩০ ঋণখেলাপির বিরদ্ধে অভিযোগ, তারা ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ঝাঁকড়া গ্রামের  সমিতি থেকে কিাস্ততে পরিশোধের কথা বলে ১০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়েছেন।

এসব ঋণখেলাপিদের অভিযোগ- তাদের নামে ঋণ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই তা পকেটে পুরেছেন। প্রতিবাদে উপজেলা পরিষদে প্রকল্প অফিসে গিয়ে বুধবার তারা মাঠকর্মীসহ সমিতির ম্যানেজারের শাস্তি এবং এর প্রতিকার চেয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে উপজেলা সমন্বয়কারী খলিলুর রহমান বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিলে ফিরে যান তারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, ২০১২ সালে ঝাঁকড়া গ্রামে প্রকল্পের সমিতি গঠন করে ৬০ জন সদস্যের মাঝে ১০ হাজার টাকা করে ঋণ বিতরণ করা হয়। ঋণগ্রহীতারা কিস্তির টাকা নিয়মিত পরিশোধ করলেও মাঠ সহকারী আলিফ হোসাইন এবং ম্যানেজার মোজাহার হোসেন পাশ বইতে টাকার পরিমাণ তোলেননি। টাকা নেওয়ার পরেও সদস্যদের দেননি কোনো রশিদ। এমন কি হাসানুর সরকার নামে এক সদস্যের নামে ভুয়া ঋণ বিতরণ দেখিয়ে সদস্য নয় এমন একজনকেও টাকা প্রদান করা হয়।

এরপর ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে এসে পুনরায় ওই সদস্যদের না জানিয়ে আবারও তাদের নামে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ দেখানো হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর পর ঋণখেলাপি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন ওই গ্রামের প্রায় ৩০ জন। সপ্তাহখানেক আগে অনাদায়ী ঋণ আদায়ে খেলাপি সদস্যদের কাছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বাক্ষরিত নোটিশ গেলে তারা বিস্মিত হন। পরে তারা বুধবার দুপুরে পৌর সদরে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্প অফিসে গিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিক্ষোভ করেন।

এ সময় আবদুর রশীদ, জাহিদুল প্রামানিক, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, সময়মতো তারা কিস্তি পরিশোধ করার পরেও পাশ বইয়ে তোলেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বইগুলো তারা (মাঠ সহকারী ও ম্যানেজার) নিজেদের কাছে জমা রাখেন। দীর্ঘদিন তাদের গ্রামে সমিতির কোনো কার্যক্রমও নেই। দ্বিতীয়বার ঋণের টাকা না নিয়েও খেলাপি তালিকায় নাম আসলো কীভাবে, তা ভেবে পাচ্ছেন না তারা। তাদের দাবি ‘সদস্যদের নামে টাকা তুলে তছরুপ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে প্রকল্পের ম্যানেজার মোজাহার হোসেন ও মাঠ সহকারী আসিফ হোসাইন বলেন, ‘প্রথম দফায় অনেকেই ঋণ নিয়ে কিস্তির টাকা ঠিকমতো দেননি। যাদের বাকি ছিল তারা সমন্বয় করে আবারও ঋণ নিয়েছে। কিন্তু কিস্তির টাকা বারবার চাওয়ার পরেও দেয়নি। বাড়ি পর্যন্ত গেলেও কেউ কিস্তির টাকা পরিশোধ করেনি। এখন নোটিশ পেয়ে অস্বীকার করছে।’

এ ব্যাপারে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের চাটমোহর উপজেলা সমন্বয়কারী খলিলুর রহমান বলেন, ‘ঋণ তারা অবশ্যই নিয়েছেন। অনেক সদস্য কিস্তি দেননি। তবে যেহেতু সমস্যা তৈরি হয়েছে তাই বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’

 হাসানুর সরকার নামের ওই ব্যক্তির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা ভুলক্রমে হয়েছিল। পরে সেটা ঠিক করা হয়েছে।’

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এমন হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


শাহীন/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়