ঢাকা     রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১২ ১৪২৭ ||  ০৯ সফর ১৪৪২

দুধকুমারের ভাঙন: নিশ্চিহ্নের পথে দুটি গ্রাম

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৬, ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
দুধকুমারের ভাঙন: নিশ্চিহ্নের পথে দুটি গ্রাম

কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদের ভাঙনে বিলীনের পথে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা ও চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম দুটি। 

ইতোমধ‌্যে ভাঙনের শিকার হয়েছে ঐ গ্রামের তিনটি মসজিদসহ কয়েকশ’ হেক্টর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি। ভাঙনের তীব্রতায় হুমকির মুখে পড়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

স্থানীয়রা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে দুধকুমারের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙন কবলিত এলাকার নদের তীরবর্তী পরিবারগুলো। ভাঙনের হুমকীতে থাকা অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। 

দুধকুমারের অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আব্দুল করিম ১৫শ নামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বদলে যাচ্ছে এলাকার মানচিত্র। আতংকিত হয়ে পড়েছে ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ। বসতভিটা, বাঁশঝাড়, বাগান ও আবাদী জমি চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। বসতভিটা হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছে মানুষ।

ভাঙনে ভিটে হারা ইসলামপুর গ্রামের আলাউদ্দিন ও আজগর আলী বলেন, ‘প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে আমাদের বসত ভিটা নদীত হারিয়েছিলাম। তারপর আবার ফিরে পেয়েছি। কিন্তু আবার হারালাম। এখন কী করি, কোথায় যাই বুঝে উঠতে পারছি না।’

পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, ‘নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে বিদ্যালয় দুটি রক্ষা করা সম্ভব হবে কি না জানি না। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, আলোকিত ভূরুঙ্গামারী ও দুধকুমার নদ ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহানারা বেগম মীরা বলেন, ‘‘আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। 

‘নাগেশ্বরী উপজেলার নুন খাওয় থেকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রনয়ন করেছেন। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।” 

নদী ভাঙনের বিষয়ে চরভূরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম ফজলুল হক ও পাইকেরছরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, ‘পানি কমার সাথে সাথে আমাদের ইউনিয়নে নদী ভাঙনের তীব্রতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাঙনের তথ্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত পরিদর্শন শেষে নদী শাসনের জন্য একটি প্রস্তাব ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আপাতত শিলখুড়ি খেয়া ঘাটের দুইপারের জনগণের পারাপারের সুবিধার্থে ঘাট উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন। এছাড়াও কালজানি ও দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে ‘দুধকুমার নদ উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ভাঙন কবলিত সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান দৃশ্যমান হবে।’

বাদশাহ সৈকত/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়