ঢাকা     বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ২ ১৪২৯ ||  ১৮ মহরম ১৪৪৪

পানিবন্দি করিমনরা ভালো নেই

সিদ্দিক আলম দয়াল, গাইবান্ধা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ২৫ জুন ২০২২  
পানিবন্দি করিমনরা ভালো নেই

হলুদের সঙ্গে কেরোসিন মিশিয়ে পায়ে লাগাচ্ছিলেন গাইবান্ধার খারজানির চরের করিমন বেগম। বন্যার পানিতে ভিজে হাতে পাসহ সারা শরীর চুলকাচ্ছে। সহ্য করতে না পেরে এভাবেই টোটকা দিয়ে চুলকানি কমানোর চেষ্টা করছেন করিমন।    

কেবল করিমনই নন, চরবাসী হালিমা, মতিন, কোবাজ্জামান, মিঠু মিয়াসহ অনেকের অবস্থা কাহিল। এতো দিন পানিতে থেকে তাদের হাতে পায়ে সহ সারা শরীর জুড়ে চর্মরোগ হয়েছে। সহ্য করতে না পেরে হলুদের সাথে কেরোসিন মিশিয়ে পায়ে লাগান। কিন্তু যন্ত্রণা কমে না। যন্ত্রণায় কাতরান দিনরাত। তবু কষ্ট কাটে না। তার উপর থাকা খাওয়ার কষ্ট। ঘরের কোমর পানির মধ্যে চৌকি ধর্ণার সাথে বেঁধে ঝুলে থেকে শুয়ে বসে রাত কাটায়। তারমধ্যে খাবার পানির কষ্ট। দিনের বেলা নৌকা ভাড়া দিয়ে নদীর ওপার থেকে পানি আনতে হয়। 

গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে করলেও ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। চারদিকে থৈ থৈ পানি। নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধরা এক চৌকির উপর বসে দিনরাত পার করছেন । 

করিমন বেগম বলেন- আমরা কিভাবে আছি কি খাই, তার খোঁজ নিতে আসেনি কেউ। ঘর থেকে বের হতে পারিনা । কলাগাছের ভেলা বানিয়ে ঘরের সামনে বসে থাকি আশায় আশায়। কিন্তু মেলেনা কিছুই । রাতে ঘুম নেই। কখন ছোট ছেলেটা পানিতে ভেসে যায় সেও আরেক দুশ্চিন্তা। 

কামারজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন ,গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের মানুষের অবস্থা কাহিল। তাদের অনেকের ঘরে খাবার আছে। কিন্তু রান্না করার মতো জায়গা নাই। তাই পানিতে নেমে কলার ভেলায় চুলা রেখে তাতে রান্না করছেন।  এক বেলার রান্না খাবার খাচ্ছেন তিন বেলায়। খাবার পানির তীব্র সংকটের পাশাপাশি চুলা জ্বালানোর মতো উঁচু স্থান নেই। সে কারণে পানির মধ্যে চৌকি উঁচু করে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে। মলমূত্র ত্যাগের মতো কোন জায়গা নেই। আশ্রয় কেন্দ্র খোলা আছে ৬০টি কিন্তু ১২টি আশ্রয় কেন্দ্রে কিছু মানুষের জায়গা হয়েছে। অনেকেই বিপদে আছেন তাদের একমাত্র সম্বল গবাদী পশু নিয়ে। জায়গা না পেয়ে অনেকেই শুধু গবাদী পশু নিয়ে নদীর অপর প্রান্তে চলে গেছেন । সরকারিভাবে মেডিক্যাল টীম গঠনের কথা শোনা গেলেও দুর্গত এলাকায় দেখা যায়নি কাউকে। 

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়। তারা কয়েকদিন ধরে পানিতে বসবাস করছে। অনেকেই আবার ঘরবাড়ি ছেড়ে গরু ছাগল নিয়ে চলে গেছেন অন্য জায়গায়।  
গাইবান্ধার চার উপজেলা সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচর, কাপাসিয়া, হরিপুর, ফজলুপুর, উড়িয়া, রতনপুর, ফুলছড়ি, গজারিয়া, এ্যাড়েন্ডাবাড়ি, কঞ্জিপাড়া, শ্রীপুর, তারাপুর, বেলকাসহ ২৫টি ইউনিয়ন বেশ কয়েকদিন যাবৎ পানিবন্দি। চরাঞ্চলে বসবাসকারীদের অবস্থা খুবই শোচনীয়।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এসএম ফয়েজ উদ্দিন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১শ ২৫ মেট্রিকটন চাল, ৬ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্য কেনার জন্য ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে । 

/টিপু/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়