ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

টাঙ্গাইলে ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৩, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  
টাঙ্গাইলে ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে

টাঙ্গাইলে মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বাইরে যাচ্ছেন না। এতে করে শ্রমিক ও দিন মজুররা বিপাকে পড়েছেন। সব মিলিয়ে সাধারণ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এদিকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। 

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাগরের নিম্নচাপ কেটে গেলে দুই-তিন দিনের মধ্যে আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলের প্রত্যান্ত গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রোপা আমনসহ বিভিন্ন সবজি নিয়ে দুঃচিন্তায় আছেন চাষিরা। এছাড়াও শহরের প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনের পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত পানি বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে একাকার হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ধরেরবাড়ী, দুরিয়াবাড়ী, শহরের কাগমারা, আকুরটাকুরপাড়া, রেজিষ্ট্রিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ ঘর থেকে বের হননি। অন্যান্য দিনের তুলনায় শহরে যান চলাচলের সংখ্যাও ছিলো খুবই কম। 

সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ছিটকিবাড়ী গ্রামের রাজমিস্ত্রি হুমায়ন মিয়া বলেন, ‘আমার গর্ভবতী স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় তাকে ডাক্তার দেখাতে টাঙ্গাইল শহরের মা ও শিশু কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছি। বৃষ্টির কারণে রিকশা পেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।দুশ্চিন্তায় আছি বৃষ্টিতে আমার স্ত্রীর জর না চলে আসে।’

একই গ্রামের রিকশা চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যে কোনো দুর্যোগে আমার মতো গরিব মানুষদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হয়। গত ১৫ দিন প্রচন্ড গরমে স্বাভাবিকের মতো রিকশা চালাতে পারিনি। আজতো সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে ৫০০/৬০০ টাকা আয় করলেও আজকে দেড়-দুইশ’র বেশি হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আমার ১৬ শতাংশ জায়গার আমন ধান তলিয়ে গেছে। দুই এক দিনের মধ্যে পানি সরে না গেলে ধানে পচন ধরার সম্ভাবনা আছে।’ 

টাঙ্গাইল শহরের রেজিষ্টিপাড়া এলাকার বাসিন্দা করিম মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকে শহরের প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। সকালে বাজারে যাওয়ার সময় সড়কে পানি দেখিনি। বাজার শেষে বাসায় ফেরার পর দেখলাম সড়কে হাটু পানি। শুধু পানি নয়, ড্রেনের পঁচা পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোর পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান পর্যবেক্ষক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সোমবার বিকেল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সাগরে নিম্নচাপ রয়েছে। আশা করছি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হবে।’

কাওছার/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়