ঢাকা     শনিবার   ২০ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৫ ১৪৩১

না.গঞ্জ-৩: আ.লীগের গলার কাটা স্বতন্ত্র প্রার্থী, সুবিধায় জাপা

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০২, ২ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৭:৫৮, ২ ডিসেম্বর ২০২৩
না.গঞ্জ-৩: আ.লীগের গলার কাটা স্বতন্ত্র প্রার্থী, সুবিধায় জাপা

নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের অন্যতম আলোচিত আসন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও)। এ আসনে দীর্ঘ ১০ বছর আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি না থাকায় অনেকটায় দুর্বল হয়ে আছে সংগঠনটি। এখানে মহাজোটের জাতীয়পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা পরপর দুই বার এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের নিজ দলে যোগদান করিয়ে নিজের দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন। 

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন সোনারগাঁও পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। পৌরসভার মেয়র ও ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নিয়ে জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরাম তৈরি করে নিজের অবস্থান আরও জোরদার করেছেন বর্তমান জাতীয় পার্টির এমপি খোকা। 

অন্যদিকে দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে অনৈক্য ছিল বছরের পর বছর। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পর জমকালো আয়োজনে সম্মেলন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করার দিনও সম্মেলন মাঠে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নৌকার মনোনীত প্রার্থী কায়সার হাসনাত ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের সমর্থকদের হামলায় আহত হয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সদস্য দিপক কুমার বনিক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর চৌধুরী বিরুর সমর্থকরা। ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের কারণে বার বার নৌকা দিলেও আপনারা নৌকা ডুবিয়ে অন্য কাউকে নির্বাচিত করেন।

এবার দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারও কায়সার হাসনাতকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেয়ার পরও তার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তার স্ত্রী রুবিয়া সুলতানা, তার চাচাত ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোবারক হোসেনের ছেলে এরফান হোসেন দ্বীপ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক এএইচ মাসুদ দুলাল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূইয়ার ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মারুফুল ইসলাম ঝলক। নৌকা ডুবাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগেরই ৪ জন।

অপরদিকে, এবারও আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগ নেবে জাতীয়পার্টি। কারণ জাতীয় পার্টির থেকে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দেননি। ফলে নির্বাচন হলে আওয়মী লীগের ভোট ৫ ভাগে বিভক্ত হলেও জাতীয় পার্টির ভোট পাবে এককভাবে। তাছাড়া বিএনপির ভোটাররা যদি ভোট কেন্দ্রে যায়, তাহলে তাদের ভোট কখনও নৌকায় বা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে দেবে না। এখানেও সুযোগ নেবে জাতীয় পার্টি।

আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে এবারও আসনটি নৌকার হাতছাড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় দলে প্রতিযোগিতা থাকবেই। আমাদের মধ্যে কোন্দল নেই। প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা থাকলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারে। তবে আমরা আশা করি, এই আসনে নৌকা প্রতীকের বিজয় হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৭ জানুয়ারি সোনারগাঁওয়ের মোট ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৮ জন ভোটার ১৩১টি কেন্দ্রে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবে।’
 

অনিক/বকুল 

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়