ঢাকা     সোমবার   ১৫ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩১ ১৪৩১

হবিগঞ্জ-৪

প্রতিমন্ত্রী মাহবুবের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যারিস্টার সুমন

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩০, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ২২:৪০, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
প্রতিমন্ত্রী মাহবুবের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যারিস্টার সুমন

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারঘাট) আসন প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে। ৫ লাখ ১২ হাজার ৩০৮ জন ভোটারের এই আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। 

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ‌‌‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার সুমন। তিনি এই আসনের বিভন্ন স্থানে স্থানে গিয়ে গণসংযোগ করছেন। পাচ্ছেন লোকজনের ভালোবাসা। আওয়ামী লীগ মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের মাহবুব আলীও নেই পিছিয়ে।

সংসদীয় এই আসনে ফাঁড়িসহ প্রায় ২৮টি চা বাগান রয়েছে। চা বাগানের শ্রমিকরা প্রথম থেকেই নির্বাচনে নৌকাকে ভোট দিয়ে আসছেন। এবার অনেক শ্রমিক ব্যারিস্টার সুমনকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, ব্যারিস্টার সুমনকে তারা সুখে-দুঃখে পাশে পান। এসব চা বাগানের লাখের কাছাকাছি ভোটারদের ওপর নির্বাচনের জয় পরাজয় নির্ভর করছে। 

হবিগঞ্জ-৪ আসনে এই দুই প্রার্থী ছাড়াও জাতীয় পার্টির আহাদ উদ্দিন চৌধুরী (লাঙল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আল আমিন (ডাব), ইসলামি ঐক্যজোট বাংলাদেশের আবু ছালেহ (মিনার), বিএনএম-এর মো. মুখলেছুর রহমান (নোঙ্গর), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুল মমিন (চেয়ার), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন (ছড়ি) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মাঠে পাওয়া যাচ্ছে নৌকা ও ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর প্রচারণা। বাকিদের নামমাত্র প্রচারণা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘তৃণমূল লোকেরা আমাকে ভালোবাসেন। এ কারণে তারা আমাকে পরপর দুইবার এমপি (সংসদ সদস্য) নির্বাচিত করেছে। এবারও নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। স্থানে স্থানে বরাদ্দ দিয়ে উন্নয়ন করেছি। এজন্য লোকজন আবারও আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।’

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘আমার এলাকার মানুষকে দুর্নীতিবাজদের থেকে মুক্ত করতে চাই। যারা পরিবেশ নষ্ট করে তাদের থেকে মুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছি। আমি স্বতন্ত্র ঠিকই। কিন্তু আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। অনুমতি নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজনকে নৌকার নমিনেশন দিয়েছেন। আমাকে দিয়েছেন স্বতন্ত্র নির্বাচন করার পারমিশন। আমাকে একেবারেই স্বতন্ত্র বলা হয় সেটি বলা ঠিক হবে না।’

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মাহবুব আলী পান ৩ লাখ ৮ হাজার ৭২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট শরিক খেলাফত মজলিশ মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের। নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৪৬ হাজার ১৮৩ ভোট। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে মাহবুব আলী নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ২২ হাজার ৪৩৩ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ তানভীর আহমেদ ‌‌তালা‌ প্রতীকে পান ১৪ হাজার ৭৬০ ভোট। 

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এনামুল হক (মোস্তফা শহীদ) নৌকা প্রতীকে পান ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৯৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল ধানের শীষ প্রতীকে পান ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৮ ভোট। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এনামুল হক (মোস্তফা শহীদ) নৌকা প্রতীকে পান ১ লাখ ৭ হাজার ৩৭৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল ধানের শীষ প্রতীকে পান ৯৩ হাজার ৩১ ভোট। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এনামুল হক (মোস্তফা শহীদ) নৌকা প্রতীকে ৭০ হাজার ২৪০ ভোট পান। বিএনপির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫৯ হাজার ৬৬৬ ভোট। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনামুল হক (মোস্তফা শহীদ) নৌকা প্রতীকে পান ৬৭ হাজার ৮৪৭ ভোট। তার নিকটতম বিএনপির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল পান ৫১ হাজার ৬৯৪ ভোট।

মাসুদ

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়