ঢাকা     শনিবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ||  চৈত্র ৩০ ১৪৩০

সাভারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ৩

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৬, ১ জানুয়ারি ২০২৪   আপডেট: ১৬:১৭, ১ জানুয়ারি ২০২৪
সাভারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ৩

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে স্থাপন করা ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অস্থায়ী নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মারধরে পাঁচজন আহতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১ জানুয়ারি) সকালে আশুলিয়া থানা থেকে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
রোববার (৩১ ডিসেম্বর) আনুমানিক রাত ১০টার দিকে ভাঙচুর ও মারধর করা হয়। রাতেই মনির হোসেন নামে আহত এক ব্যক্তি আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের অভিযোগ, নৌকার সমর্থকরা এ হামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আশুলিয়ার পূর্ব নরসিংহপুর এলাকার জাহিদ ভূঁইয়া (২৫), রাসেল কমান্ডার (৩২) ও জনি দেওয়ান (৩০)।

অভিযুক্তরা হলেন- জলিল উদ্দিন ওরফে রাজন ভূঁইয়া (৩৩) ও রাকিব ভূঁইয়া (২৮), মো.সাইফুল ইসলাম (৩৫), পালছার মাসুদ (৩৪), রনি দেওয়ান (২৫), ইমন (৩৫), নিজাম (৩২), আমানসহ (৪০) আরও ২৫-৩০ জন। তারা পূর্ব আশুলিয়া থানার পূর্ব নরসিংপুরের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা গত ৩-৪ দিন ধরে আশুলিয়া থানাধীন পূর্ব নরসিংহপুর হাজী বাড়ি কাঁচা বাজার সংলগ্ন জান্নাত সুপার মার্কেটের নিচ তলায় অবস্থিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনি কার্যালয় বন্ধে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ দিচ্ছিল। ৩১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে লোহার রড, হকিস্টিক, রাম দা, চাইনিজ কুড়াল, লাঠিসোটা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ জলিল উদ্দিন ও রাজন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে ওই কার্যালয়ে এসে চেয়ার টেবিল, থাই গ্লাস ও একটি এলইডি টিভি ভাংচুর করেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে সানাউল্লাহ ভূঁইয়া সানি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে রাকিব ভূঁইয়া তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর শুরু করেন।
একই রাতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর সোনা মিয়া মার্কেটে দেওয়ান বাড়ির সামনে ট্রাক মার্কার নির্বাচনি অফিসে গিয়ে চেয়ার টেবিল ভাংচুর করেন। ট্রাক মার্কার পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। ট্রাক প্রতীকের সমর্থক ইকবাল দেওয়ান (২৩), নবীনুর (২২), সিয়াম (১৮) বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের মারধর করে জখম করে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা পালিয়ে যান। হামলার ঘটনায় অন্তত নয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা আমার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ঘোষবাগ এলাকায় ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনি ক্যাম্প রাজন মেম্বার ও তার ছোট ভাইসহ ৩০-৪০ জন মিলে ভাঙচুর করেছে। আমাদের কর্মীরা সেখানে গেলে তাদের চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে। তারা নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তারা তিনটি অফিস ভাঙচুর করেছে।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, নৌকার প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় ক্ষমতা ব্যবহার করে তার কর্মীদের দিয়ে এই হামলা করিয়েছেন। আমি নির্বাচন কমিশন ও থানায় লিখিত অভিযোগ জানাবো।
এ বিষয়ে আশুলিয়ার উপ-পরিদর্শক (এস আই) শেখ আবুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

আরিফুল/ফয়সাল

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়