ঢাকা     শনিবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ||  চৈত্র ৩০ ১৪৩০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন

নৌকার প্রচারণার অভিযোগ তিন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২১, ৫ জানুয়ারি ২০২৪  
নৌকার প্রচারণার অভিযোগ তিন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে সরকারি তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থকের লিখিত অভিযোগের পর একজনকে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।

উপজেলার চাতলপাড়ের কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোকাদ্দিস হোসেন, উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার মোহাম্মদ হোসেন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত ভান্ডার রক্ষক জামাল আহমেদ নৌকার প্রার্থীর পক্ষে একাধিক জায়গায় প্রচারণাসহ বিভিন্ন মিছিল ও সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।

তাদের মধ্যে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছিলেন মোহাম্মদ মোকাদ্দিস হোসেন। তাকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ হোসেন নির্বাচনে পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাকে উপজেলার পতইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী বি এম ফরহাদ হোসেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান স্বতন্ত্র প্রার্থী (কলার ছড়ি)। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন পক্ষকে পাশে পাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী একরামুজ্জামান।

গত বুধবার ও শুক্রবার স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মোহাম্মদ ইমরানুল ইসলাম সরকারি তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালানোসহ ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসহ নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত ভান্ডার রক্ষক নিয়মিত নৌকার প্রার্থীর পক্ষে সভা, মিছিল ও উঠান বৈঠক করছেন। যা সরকারি চাকুরিজীবী আইনের পরিপন্থী। তাকে নির্বাচনি কাজে দায়িত্ব না দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

গত বুধবারের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোকাদ্দিস নৌকার প্রার্থীর পক্ষে সভা, মিছিল ও উঠান বৈঠক করছেন। তিনি এলাকার সাধারণ মানুষকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। ভোট সুষ্ঠু হবে না, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ভোটে বিজয়ী হলেও নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হবে বলে গুজব ছড়াচ্ছেন মোকাদ্দিস।

২০১৮ সালের নির্বাচনে চাতলপাড়ে নৌকার পক্ষে জোরপূর্বক ভোট দেওয়ার সময় তিনি জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হন। কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার মোহাম্মদ হোসেনও নৌকার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।

মোহাম্মদ মোকাদ্দিস হোসেন বলেন, চাতলপাড়ের কাঁঠালকান্দি গ্রামে এলাকাবাসী একটি সভা করে। আমার বাবা-চাচারাসহ আত্মীয় স্বজনের চাপে আমিও সেই সভায় উপস্থিত ছিলাম। অন্য কোনো প্রচারণায় অংশ নেইনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত ভান্ডার রক্ষক জামাল আহমেদ বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। আমি কারো পক্ষে কোনো প্রচারণায় অংশ নেইনি এবং যাইনি। তাছাড়া আমাকে নির্বাচনের কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি।

মোহাম্মদ হোসেনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমি পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পেয়েছি।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া বলেন, মোহাম্মদ মোকাদ্দিসকে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জামাল আহমেদকে শুরু থেকে কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি। মোহাম্মদ হোসেনের বিষয়টি মনে পড়ছে না।

মাইনুদ্দীন/ফয়সাল

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়