ঢাকা     মঙ্গলবার   ২১ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪৩১

উপজেলা নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীর পক্ষ নিতে বললেন লিটন

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৮, ১৮ এপ্রিল ২০২৪  
উপজেলা নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীর পক্ষ নিতে বললেন লিটন

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেছেন, ‘স্থানীয় এমপিদের পছন্দ করা ব্যক্তিই দলের প্রার্থী নয়। যে প্রার্থী গ্রহণযোগ্য, জনগণের কাছে জনপ্রিয়, তিনিই আমাদের কাছে যোগ্য প্রার্থী। যোগ্য প্রার্থীর পক্ষেই দলের নেতাকর্মীদের থাকতে হবে।’

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খায়রুজ্জামান লিটন এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বিকালে রাজশাহী মহানগরীর গণকপাড়া-জয়বাংলা চত্বরে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর ও বাগমারা উপজেলায় ভোট হতে যাচ্ছে। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি আবুল কালাম আজাদ ইতোমধ্যে তাঁর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এক নেতার নাম ঘোষণা করেছেন। রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীও দুই উপজেলায় দুই প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন। তাই কিছু দিন আগেও ওমর ফারুক চৌধুরীর কাছাকাছি থাকা আরেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলাল উদ্দিন সোহেল এখন দূরে। বেলাল তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এসেছিলেন এই জনসভায়। আর জনসভার মঞ্চে নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিলেন লিটন। বললেন, যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নিতে হবে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের এই মেয়র বলেন, ‘‘উপজেলা নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যে বলে দিয়েছেন, ‘নির্বাচিত হয়ে কেউ (এমপি) যেন মনে না করে যে এটা আমার প্রার্থী। আমার প্রার্থী মানেই দলের প্রার্থী। অতএব, তাকেই ভোট দাও।’ এই কথাটি আপনারা (নেতাকর্মীরা) মানবেন না, বিশ্বাস করবেন না। কারণ, বলা হয়েছে, যে গ্রহণযোগ্য, জনগণের কাছে জনপ্রিয়, মানুষের জন্য কাজ করেন, তার অধিকার আছে নির্বাচনে দাঁড়াবার। তাঁকে যদি লোকাল এমপি সমর্থন দেন, ভালো। না দিলে জনগণ যেটি সমর্থন দেয়, সেটিই আমরা গ্রহণ করতে চাই। আসুন, ভালো ব্যক্তিত্ব নিয়ে নির্বাচিত হয়ে আসুন। কারও চামচা হয়ে নয়, কারও অপকর্মের সঙ্গী হওয়ার জন্য নয়।’

আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে না বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের যে কোনো নেতা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, এতে দলের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হবে না। 

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমরা ভালো মানুষ চাই, যে ভালো মানুষগুলো আগামী দিনে ৩০ বছর, ৪০ বছর নেতৃত্ব দেবেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হবেন, আগামীতে কোনো এক সময় এমপি হবেন, মন্ত্রী হবেন। তাদের পথটা সুগম করে দিতে চাই। দলের মধ্যে নির্বাচনের যে লড়াই, সে লড়াইটি গণতান্ত্রিক লড়াই। এই লড়াই আওয়ামী লীগ সমর্থন করেছে। দলের সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদক যেটি বলেছেন, সেটিই আওয়ামী লীগের বক্তব্য। স্থানীয় কারও বক্তব্য আমরা শুনতে চাই না।’

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বেগম আখতার জাহান, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি শফিকুর রহমান বাদশা, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল কুমার সরকার প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু ও মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেনের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক এমপি এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক এমপি ডা. মনসুর রহমান, রাজশাহী-৬ আসনের সাবেক এমপি রাহেনুল হক, জেলা যুবলীগের নেতা ওবায়দুর রহমান প্রমুখ।
 

কেয়া/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়