ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কাপাসিয়ায় পাকা তালের জয়যাত্রা

রফিক সরকার, গাজীপুর  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২৪, ২৪ আগস্ট ২০২৫   আপডেট: ১১:২৭, ২৪ আগস্ট ২০২৫
কাপাসিয়ায় পাকা তালের জয়যাত্রা

কাপাসিয়া বাজারে পাকা তালের স্তুপ

শ্রাবণ-ভাদ্রের মেঘলা আকাশ, মাঠের ধানগাছের শিষে হাওয়ার দোলা আর গ্রামীণ হাটের গন্ধে ভেসে আসে অন্যরকম এক স্বাদ-তা হলো পাকা তালের। 

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলাজুড়ে এখন পাকা তালের মৌসুম। এলাকার রাস্তা-ঘাট, পুকুরপাড়, পতিত জমি কিংবা বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য তালগাছ যেন গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্রকৃতির আশীর্বাদস্বরূপ জন্মানো এ গাছের জন্য বাড়তি পরিচর্যার দরকার হয় না। গরু-ছাগল এ গাছের ক্ষতি করতে পারে না, তাই প্রতিটি মৌসুমেই নিশ্চিন্তে ফলন দেয়। ফলে বছরের এই সময়ে তাল হয়ে ওঠে গ্রাম ও শহরের মানুষের অন্যতম প্রিয় খাবার।

উপজেলার প্রাণকেন্দ্র আমরাইদ বাজার এখন যেন তাল উৎসবের মাঠ। আশপাশের গ্রাম থেকে কৃষকেরা তাল নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। খুচরা ক্রেতা থেকে শুরু করে পাইকার-সবাই ভিড় জমান এখানে। তালভর্তি ঝুড়ির পাশে দরদাম চলে, আর দূর থেকে আসা পাইকাররা আবার একবারে পিকআপ ভর্তি করে নিয়ে যান ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও কিশোরগঞ্জে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কাদির বলেন, “গ্রামে একটা তাল ৫-২০ টাকায় কিনে শহরে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করা যায়। যদি সরাসরি গাছ থেকে কিনতে পারি, তখন লাভও বেশি হয়।”

তবে আক্ষেপের সুরও শোনা যায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কণ্ঠে। আগের মতো আর তাল পাওয়া যায় না। গ্রীষ্মে প্রচুর তালশাঁস বিক্রি হওয়ায় মৌসুমে তাল পাকতে পারে না পর্যাপ্ত। ফলে এখন মহাজনরা গাছ ধরে কিনে নিয়ে যায় এবং তা শহরের বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়।

তাল শুধু বাজারের পণ্য নয়, বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতিরও অংশ। এসময় গৃহস্থের বাড়িতে জামাই-আত্মীয় এলে আপ্যায়নে থাকে তালপিঠা, খিরসা, পায়েস কিংবা সুস্বাদু তালেরবড়া।

বড়হর গ্রামের রহমানের কণ্ঠে আছে কিছুটা আক্ষেপ, “গুড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় তালপিঠা বানানো এখন ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এ আনন্দ ভাগাভাগি করা কঠিন হয়ে গেছে।”

গৃহিণীরা জানান, তাল থেকে রস সংগ্রহ করা এক ধরনের শিল্প। দুই হাতে শক্তি দিয়ে রস বের করে আঁশমুক্ত করতে হয়। এরপর সেই রসে নারিকেল, গুঁড় বা চিনি আর চালের গুঁড়ো মিশে তৈরি হয় তালপিঠা। কখনো গরম তেলে ভেজে বানানো হয় তালবড়া, আবার কখনো সুজি-নারিকেল মিশিয়ে তৈরি হয় খির, মালপোয়া কিংবা পাটিসাপটা।

তাল শুধু খাবার নয়, এ যেন গ্রামীণ জীবনের মিষ্টি স্মৃতি। ভাদ্রের সন্ধ্যায় উঠোনে বসে গরম তালপিঠার গন্ধ যেমন পরিবারকে একত্র করে, তেমনি বাজারে পাকা তালের বেচাকেনা চাঙা করে তোলে গ্রামীণ অর্থনীতি। কাপাসিয়ার তালের এ জয়যাত্রা এখন গ্রাম পেরিয়ে পৌঁছে গেছে শহরের ডাইনিং টেবিলেও।

ঢাকা/এস

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়