ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৭ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৪ ১৪৩২ || ২৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সাত বছরে সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরীর আয়-সম্পদে বড় লাফ

মোসাইদ রাহাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:০২, ২ জানুয়ারি ২০২৬  
সাত বছরে সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরীর আয়-সম্পদে বড় লাফ

সিলেট-৪ (জৈন্তুাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সিলেট-৪ (জৈন্তুাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সম্পদ গত সাত বছরে লাফিয়ে বেড়েছে। একই সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে তার স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর আয় ও সম্পত্তির পরিমাণও।

২০১৮ সালের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা সর্বশেষ হলফনামা বিশ্লেষণ করে তাদের আয় ও সম্পদ বৃদ্ধির এই চিত্র দেখা গেছে।

আরো পড়ুন:

হলফনামা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আরিফুল হক চৌধুরীর বার্ষিক আয় ছিল ৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। সাত বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে এসে তার আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৬ টাকায়। অর্থাৎ এই সময়ে তার আয় বেড়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ২০১৮ সালে আরিফুল হকের স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর বার্ষিক আয় ছিল ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩০০ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৯ টাকায়। হলফনামায় তার আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবসার কথা লেখা হয়েছে।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক খাত, ব্যবসা, শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগ থেকেই এই দম্পতির আয়ের বড় অংশ এসেছে। নগদ অর্থের পরিমাণেও স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তার স্ত্রী সামা হক চৌধুরী।

আয়ের উৎস হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরী কৃষিখাত থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৩০ টাকা, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক খাত থেকে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ব্যবসা থেকে ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৯ টাকা আয় দেখিয়েছেন। শেয়ার থেকে তার আয় ৪ লাখ ৬০ হাজার ৯৪ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪০৩ টাকা।

অন্যদিকে সামা হক চৌধুরী একই খাতগুলো থেকে মোট আয় দেখিয়েছেন প্রায় ২৪ লাখ টাকার বেশি।

অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। বর্তমানে আরিফুল হক চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৪ টাকা, যেখানে ২০১৮ সালে তা ছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ ৮৪ হাজার ৭১৩ টাকা। সাত বছরে তার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ২ কোটিরও বেশি টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ২৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি, বন্ড ও শেয়ার ৩৮ লাখ টাকার বেশি, মোটরগাড়ি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদ।

সামা হক চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৪ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ ৩৫ লাখ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা প্রায় ১৪ লাখ টাকা, পোস্টাল সঞ্চয় ৫৮ লাখ টাকা, মোটরগাড়ি, স্বর্ণ ও আসবাবপত্র।

স্থাবর সম্পদের দিক থেকেও দম্পতির সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে আরিফুল হক চৌধুরীর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ টাকা। এর অর্জনকালীন মূল্য ছিল ৬ কোটি ৮৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮২ টাকা।

অন্যদিকে সামা হক চৌধুরীর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকা।

হলফনামায় লেখা হয়েছে, আরিফুল হক চৌধুরীর নামে বর্তমানে ব্যাংক ঋণ রয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ১১ হাজার ২৬৫ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ঋণের পরিমাণ ৯৯ লাখ ৫৪ হাজার ৪০১ টাকা।

সব মিলিয়ে গত সাত বছরে আরিফুল হক চৌধুরী এবং তার স্ত্রীর আয় ও সম্পদের যে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটেছে, তা নির্বাচনী হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঢাকা/রাহাত/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়