২২ কোটি টাকা ঋণ মওকুফের অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন তার বিরুদ্ধে ওঠা ২২ কোটি টাকা ঋণ মওকুফের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেছেন, “কোনো ব্যাংক মূল ঋণ মওকুফ করে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী কেবল সুদ মওকুফের সুযোগ থাকে।”
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির অন্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফয়সাল আমিনের বিরুদ্ধে ২২ কোটি টাকা ঋণ মওকুফের অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, “জামায়াতের প্রার্থী ও তার সহযোগীরা কয়েকদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চালাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, আমি ২২ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করিয়ে নিয়েছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঋণ কখনো মওকুফ হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় যা মওকুফ হয়, তা হলো সুদ।”
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পিআরপিডি সার্কুলার নম্বর ৭ (তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) এবং পিআরপি সার্কুলার লেটার নম্বর ২৬ (তারিখ: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫) অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো নীতি সহায়তা পেতে পারে। তার মালিকানাধীন নিশ্চিন্তপুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড উক্ত নীতিমালার আওতায় যোগ্য বিবেচিত হয় এবং জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি-বিধান অনুসরণ করেই সুদ মওকুফ ও ‘এক্সিট সুবিধা’ গ্রহণ করে।
এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, দাবি করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় দেশের আরো বহু প্রতিষ্ঠান একই ধরনের সহায়তা পেয়েছে। সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
মির্জা ফয়সাল আমিন অভিযোগ করেন, একটি ‘স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল’ তার ও পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
“যারা ব্যাংকের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই এসব করছে,” বলেন তিনি।
জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, “তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে সুসম্পর্ক রয়েছে। শুধু রাজনৈতিক কারণে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দেবেন, তা আমার কাছে অবিশ্বাস্য ও দুঃখজনক। আমি এ ধরনের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
ঢাকা/হিমেল/রফিক