বগুড়ায় জামায়াত নেতা হত্যায় মা-ছেলে গ্রেপ্তার
বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রম (মাঝে)।
ওয়ারিশদের মধ্যে বিবাদমান জমি কিনে প্রাচীর দেওয়াকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় জামায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম খুন হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের এ কথা জানান র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ।
এর আগে, রবিবার মধ্যরাত ৩টার দিকে ধুনট উপজেলার মোহনপুর উত্তরপাড়া থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রমকে (৩২) গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঠনঠনিয়া পশ্চিম পাড়া থেকে বিক্রমের মা মোছা. বেবি খাতুনকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা বগুড়া সদরের ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে মা-ছেলে। দুজনই মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
নিহত সাইফুল ইসলাম বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার মৃত নওশেদ আলীর ছেলে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া শহর শাখার ওলামা বিভাগের রুকন ছিলেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন শহর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ইকবাল হোসেন।
রবিবার রাতে নিহত সাইফুল ইসলামের দুলাভাই মো. আলী আজম তিনজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।
র্যাব কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ জানান, সম্প্রতি সাইফুল ইসলাম ঠনঠনিয়া মাহবুবনগর এলাকায় শাহী ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন একটি জমি কেনেন। এই জমি নিয়ে আগে থেকেই ওয়ারিশদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। রবিবার ওই জমিতে সীমানা প্রাচীর দিতে কাজ শুরু করেন সাইফুল। তখন বিবাদী পক্ষ ঘটনাস্থলে এসে সীমানা প্রাচীর দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞসা করে এবং সীমানা প্রাচীর তৈরির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলে।
দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলাকালে অতর্কিতে বিক্রম নিজের কোমর থেকে একটি চাকু বের করে সাইফুল ইসলামের তলপেটে আঘাত করেন। সাইফুল ইসলামের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
তিনি জানান, সাইফুল ইসলামকে হত্যার পর আসামিরা সবাই গা ঢাকা দেয়। মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধুনটের মোহনপুর গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে বিক্রমকে গ্রেপ্তার করি আমরা। পরে তার দেওয়া তথ্যে ওই এলাকা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বার্মিজ চাকুটি উদ্ধার হয়। পরে ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়া থেকে বিক্রমের মা বেবি খাতুনও গ্রেপ্তার হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগী তারেক ছুরিকাহত হয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সাইফুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকায় যাওয়ার পথে মারা যান সাইফুল। আহত তারেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঢাকা/এনাম/মাসুদ