ঢাকা     রোববার   ১২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৯ ১৪৩২ || ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাঙামাটিতে ফুল বিজুর মাধ্যমে বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

রাঙামাটি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১১:৪৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬
রাঙামাটিতে ফুল বিজুর মাধ্যমে বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসাতে আসা শিশুরা

সবেমাত্র তখন পূর্ব আকাশে সূর্য উঁকি দিচ্ছে। এরই মধ্যে রাঙামাটির কেরানী পাহাড় এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের তীরে হাজির হন পাহাড়ি শত শত তরুণ-তরুণী। ঐতিহবাহী পিনন-হাদির পোশাকে তরুণী এবং ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত তরুণরা হাতে ফুল ও পাতা নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে আসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তারা সবাই মিলে গঙ্গা মায়ের উদ্দেশ্যে ফুল উৎসর্গ করে পূজা ও প্রাথনা করেন। এর মাধ্যমে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো।

এই উৎসবটি চাকমাদের কাছে ‘ফুল বিজু’, ত্রিপুরাদের কাছে ‘হারিবসু’ আর মারমাদের কাছে ‘সূচিকাজ’ নামে পরিচিত। ঠিক ফুলবিজু নামে অভিহিত না হলেও এইদিন প্রায় সব পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীই পানিতে ফুল ভাসানোর আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন।

আরো পড়ুন:

রবিবার (১২ এপ্রিল) শুধু কেরানী পাহাড়ে নয়, জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়িরা ফুল ভাসিয়ে দিনটি শুরু করেছেন। ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুলবিজু উপলক্ষে শহরের রাজবন বিহার ঘাট, গর্জনতলী মধ্যদ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সংগঠন এবং ব্যক্তিগত উদ্যেগে পানিতে ফুল ভাসানো হয়। পাহাড়িরা নিজ পরিবারের পাশাপাশি দেশে যাতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে সেজন্য গঙ্গাদেবীর কাছে প্রার্থনা করেন। 

কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদন করে নবনিতা চাকমা বলেন, “ফুল বিজুর দিনে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন আমাদের ঐতিহ্য। পাশাপাশি আজকে থেকেই বর্ষবরণের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সোমবার মূল বিজু এবং পরশু পহেলা বৈশাখ পালন করব। ফুল নিবেদন করে আমরা গঙ্গাদেবীর কাছে সুখ ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করি।”

তমাল চাকমা বলেন, “পুরানো দিনের দুঃখ, গ্লানি দূর করে নতুন বছর যাতে সবার জীবন আলোকিত ও মঙ্গলময় করে তোলে সেজন্য ফুল নিবেদন করেছি। পানির প্রতি আমাদের যে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতাবোধ সেটা জানানোর লক্ষ্যে এই আয়োজন।”

গর্জনতলী ঘাটে ফুল ভাসাতে যাওয়া লাবণী ত্রিপুরা বলেন, “খুব ভোরে ফুল সংগ্রহ করে ঘর সাজিয়ে ফুল ভাসাতে এসেছি। ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরের দুঃখ বেদনাকে ভাসিয়ে দিলাম। নতুন বছর যেন আরো অনেক সুন্দর হয় এমনটি প্রত্যাশা করছি।”

রাজবন বিহারের পূর্ব ঘাটে বিঝু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু-সাংক্রাই-চাংক্রান-পাতা উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদনের মাধ্যমে তাদের চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ করেছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ইন্টুমনি চাকমা বলেন, “ফুল বিজুর মাধ্যমে আমাদের চারদিনের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি শেষ হয়েছে। এবার আমরা সকলে বাসায় ফিরে যাব, কেউ কেউ গ্রামেও ফিরে যাবে। এই আনন্দ এখন সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়বে।”

ঢাকা/শংকর/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়