ঢাকা     রোববার   ১২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৯ ১৪৩২ || ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় এখনও আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্লেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০০, ১২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৩:০৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় এখনও আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্লেষক

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদাসীনতা সত্ত্বেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা নিয়ে এখনো আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিকভাবে জয়ী হয়েছে। তাই শান্তি আলোচনার ফলাফল তিনি পরোয়া করেন না।” তবে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক ‘বাগাড়ম্বর’ হিসেবেই দেখছেন। 

আরো পড়ুন:

রবিবার (১২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন আল-জাজিরার ওয়াশিংটন ডিসি সংবাদদাতা জেন হেনড্রেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। শেয়ার বাজারের দরপতন ও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। 

কূটনৈতিক মহলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রধান সমস্যা হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি, যা এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্রাম্প চাচ্ছেন, এসবের অবসান হোক। তিনি স্পষ্টতই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিলেন, এটি বোঝাতে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে।

রবিবার কোনো সমঝোতা ছাড়াই জেডি ভ্যান্স আলোচনা স্থল ত্যাগ করায় অনেকেই সংলাপের ইতি দেখছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসা কেবল একটি কঠোর অবস্থান বা বিশেষ কূটনৈতিক কৌশলও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও বহুবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে এবং সেই আলোচনাগুলো দূর থেকেও (রিমোটলি) চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইরানের কাছে কেবল এই অঙ্গীকারই চাইছে না যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বরং তারা চায় ইরান যেন এই অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম বা উপায়গুলো সংগ্রহেরও চেষ্টা না করে- এমন প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে।

২০১৫ সালে বারাক ওবামার আমলে প্রায় দুই বছর আলোচনার পর ইরানের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ট্রাম্প বাতিল করেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদক জেন হেনড্রেন মতে, এগুলো খুবই জটিল বিষয়। স্বাভাবিকভাবেই এমন আলোচনার জন্য আরও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

একই কথা বলেছেন ইরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। বৈঠকের পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিবৃতিতে ইসমাইল বাঘাই জানান, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে একটি ‘বোঝাপড়ায়’ পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ দুই থেকে তিনটি বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তা অবিশ্বাস ও সন্দেহের আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটা স্বাভাবিক যে, আমরা শুরু থেকেই এক বৈঠকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করিনি। কেউই তা আশা করেনি।” 

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়