ঢাকা     শনিবার   ০৯ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৬ ১৪৩৩ || ২২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায় অবৈধ: জাতিসংঘ সামুদ্রিক প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৪:৩০, ১২ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায় অবৈধ: জাতিসংঘ সামুদ্রিক প্রধান

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ

জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল বিষয়ক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল আরোপ করার ইরানের প্রচেষ্টা অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এটি প্রত্যাখ্যান করা। 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অশ্চিয়তার মধ্যেই জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব এই মন্তব্য করলেন। খবর আল-জাজিরার। 

আরো পড়ুন:

ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল আরোপ করার অধিকার তাদের রয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ওয়াশিংটন ও তেহরান মিলে একটি ‘যৌথ উদ্যোগের’ মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব সামনে এনেছেন।

রবিবার (১২ এপ্রিল) আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, “এই প্রণালিগুলোতে কোনো দেশ টোল বা চার্জ আরোপ করার অধিকার রাখে না। যেকোনো ধরনের টোল প্রবর্তন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “আমি সবাইকে আহ্বান জানাব যেন কেউ এই ধরনের সেবা ব্যবহার না করে। কারণ এটি এমন একটি নজির তৈরি করবে যা বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের জন্য খুব ক্ষতিকর হবে।”

ডোমিঙ্গুয়েজ এই মন্তব্যগুলো এমন সময় করলেন যখন পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের শর্তগুলো গ্রহণ করেনি, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তও ছিল।

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে ইরানের ‘প্রেস টিভি’ যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবিকে’ দায়ী করেছে। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র ২২টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রণালিটিকে মাইনমুক্ত করতে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। তবে ইরান এই মাইন থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

ডোমিঙ্গুয়েজ মনে করেন, এই অচলাবস্থা নিরসনের একমাত্র পথ হলো যুদ্ধের অবসান ঘটানো। তিনি বলেন, ১৯৬৮ সালে ইরান ও ওমানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ট্রাফিক সেপারেশন চুক্তি’ জাহাজ চলাচলের জন্য যথেষ্ট এবং নতুন কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই।

তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এই অচলাবস্থার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব তো পড়বেই, তবে আমার প্রধান দুশ্চিন্তা এই নিরীহ মানুষগুলোকে নিয়ে যারা শিপিং সেক্টরে কাজ করছেন।”

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়