ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিজিবির হাতে ১০০ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর বিএসএফের, অপেক্ষায় শতাধিক

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩২, ২৯ মে ২০২৬   আপডেট: ১৮:৩৮, ২৯ মে ২০২৬
বিজিবির হাতে ১০০ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর বিএসএফের, অপেক্ষায় শতাধিক

বাংলাদেশি দাবি করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জড়ো হওয়াদের মধ্যে ১০০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শুক্রবার (২৯ মে) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়। এখনও সীমান্ত এলাকায় অপেক্ষা করছেন আরো শতাধিক মানুষ। তারাও নিজেদের বাংলাদেশি বলে দাবি করছেন।

আরো পড়ুন:

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএস এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে ফেরার জন্য ভারতীয় সীমান্তে কথিত বাংলাদেশিদের অপেক্ষার চিত্রটা আজও বদলায়নি। গত এক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হাকিমপুর চেকপোস্টে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য জড়ো হচ্ছেন কথিত অবৈধ বাংলাদেশিরা।

শুক্রবার (২৯ মে) ভারতীয় সময় বেলা তিনটা পর্যন্ত বিএসএফের খাতায় এই সীমান্তে নতুন করে নাম তুলেছেন নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করা ১১৬ জন। এদিন সকাল থেকেই দেশে ফেরার জন্য সীমান্ত এলাকায় ভিড় জমানো শুরু করেন কথিত বাংলাদেশিরা। বৃষ্টিতে ভিজে সেই ফেরার লাইনে অপেক্ষারত ছিলেন বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষ। ছিলেন বৃদ্ধ ও শিশুরাও। বিএসএফের খাতায় নাম লিখিয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাস, প্রাইভেট গাড়ি কিংবা স্থানীয় গণপরিবহনে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানোর পরেই বিএসএফ লাইন করে তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি নিচ্ছেন বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট। বাংলাদেশি হওয়ার প্রমাণপত্র থাকলে জমা নেওয়া হচ্ছে সেই তথ্যও। এরপর সব তথ্য যাচাই-বাছাই করতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিজিবির হাতে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাকিমপুর সরুপনগর বাজার ও তেতুলিয়া সীমান্ত এলাকায় চার বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অন্তত সাড়ে ৩০০ কথিত বাংলাদেশিকে। তাদের মধ্যে ১০০ জনকে আজ শুক্রবার বিজিবি-বিএসএফের সমঝোতায় নাগরিকত্বের নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে অপেক্ষারত ব্যক্তিদের দাবি, তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সীমান্ত হয়ে দালাল মারফত ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। ভারতে এসে কেউ গৃহকর্মী, শ্রমিক হিসেবে অবৈধভাবে বসবাস করছিল। পেতেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক সুরক্ষার সবকিছুই।

অনেকে আবার অবৈধভাবে জোগাড় করেছিলেন ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্রও। কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া নির্দেশের পর আতঙ্ক গ্রাস করে তাদের। তাই পরের দেশে ছেড়ে নিজের দেশে ফিরতে চাচ্ছেন তারা।

ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়