ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মাংস রান্না করে রেখে দেই, রাতে ওর বাবা এসে খায়: অপু বিশ্বাস

জান্নাতুল ফেরদৌস || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২৯ মে ২০২৬   আপডেট: ১৫:২৮, ২৯ মে ২০২৬
মাংস রান্না করে রেখে দেই, রাতে ওর বাবা এসে খায়: অপু বিশ্বাস

‘ঢালিউড কুইন’খ্যাত চিত্রনায়িকা তিনি। এক সময় শাকিব খানের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন জনপ্রিয় জুটি। একাধিক ঈদে এই জুটির চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন আর স্টারডমের সেই জীবনে ছন্দপতন ঘটলেও এখনও দর্শকের ভালোবাসায় আপ্লুত তিনি। সংসার, সন্তান, সামাজিকতার পাশাপাশি এখনও তিনি ক্যামেরার সামনে সমান সজীব। রাইজিংবিডির ঈদ আয়োজনে অপু বিশ্বাসের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জান্নাত। 

রাইজিংবিডি: আপনি প্রতিবছর কোরবানি দেন, এবার কী কোরবানি দিলেন? 

আরো পড়ুন:

অপু বিশ্বাস: মূলত আব্রাহামের জন্মের পর থেকেই আমি নিয়মিত কোরবানি দিচ্ছি। তবে এর আগেও আমি কোরবানি দিয়েছি। কারণ আমার সঙ্গে যারা কাজ করে বা যারা আমার সঙ্গে থাকে, ব্যস্ততার কারণে তাদের ছুটি দেওয়া হয়ে ওঠে না। ফলে তারা কোরবানির দিন নিজেদের মতো করে কোরবানি করার সুযোগ খুব একটা পায় না। তাদের কথা বিবেচনা করেই আমি সুযোগ-সুবিধামতো কোরবানি দেই। তবে আমি খাসি কোরবানি দেই; সংখ্যাটা বলব না। কারণ এসব নিয়ে অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়। 

রাইজিংবিডি: আব্রাহামের মধ্যে নিশ্চয়ই এ নিয়ে আলাদা এক্সাইটমেন্ট থাকে? 

অপু বিশ্বাস: গত বছর সে একটু ভয় পাচ্ছিল। কোরবানি দেখতে চাইছিল না। তবে যখন মাংস কাটাকাটি শুরু হলো, তখন সে খুব এনজয় করছিল। আমি তাকে ছোট ছোট কাজ দিচ্ছিলাম—যেমন বোল নিয়ে ওপরে রেখে আসা, মাংস নেওয়া বা এটা-ওটা করা। এসব সে খুব উপভোগ করছিল। বিশেষ করে প্যাকেটিংয়ের সময় প্যাকেট খোলা, ধরে রাখা এসব সে খুব আনন্দ নিয়ে করে। এবছর দুদিন আগে থেকেই সে বলছে—গরু কিনবে কিন্তু কোরবানি করতে দেবে না। কারণ তার মায়া লাগছে। তার কাছে গরুটা বন্ধু মনে হয়। সে ভাবছে, গরুর সঙ্গে কথা বলবে, খেলবে, তাকে বিস্কুট খাওয়াবে, ফিডার খাওয়াবে।

সে পেট লাভার হয়েছে। ইদানিং ক্যাট, ডগ নিতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি এত ব্যস্ত থাকি যে, সেগুলো লালন-পালনের চেয়ে ঠিকভাবে যত্ন নেওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই হয়ে উঠছে না। তবে তার মধ্যে প্রাণীদের প্রতি একটা মায়া তৈরি হয়েছে। কোরবানির সময়ও সে মানসিকভাবে সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করে। 

রাইজিংবিডি: ঈদের সময় বাবার সঙ্গে নামাজ পড়তে যাওয়া অথবা বাবার সঙ্গে দেখা করা বা দাদুদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়গুলো কীভাবে হয়?

অপু বিশ্বাস: প্রতি ঈদেই সে তার বাবা ও বাবার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটায়। সারাদিন সেখানে থাকে। তার কাজিনরাও থাকে। আর ঈদের দিন বাবার সঙ্গে সময় কাটানো প্রতিটি সন্তানের জন্যই আনন্দদায়ক। অন্যরকম এক ভালোলাগা। তবে তার বাবা যেমন মানুষের কাছে পরিচিত, আবার আব্রাহামও অনেকের প্রিয়। ফলে বিষয়গুলো সবসময় খুব সহজে ম্যানেজ করা যায় না। এখনো পুরোপুরি সেটা হয়ে ওঠেনি। নামাজের সময় তার বাবা নিজের মতো করে নামাজে যান। আমার বাবুও যায়। কখনো দাদার সঙ্গে যায়, কখনো কাজিনদের সঙ্গে যায়।

রাইজিংবিডি: কোরবানির দিনের রান্নার আয়োজন অপুর বাসায় কেমন থাকে?

অপু বিশ্বাস: আমি কোরবানির মাংস মাটির চুলায় রান্না করি। মাটির চুলার রান্না ওর বাবারও খুব পছন্দ। আমি সাধারণত কোনো প্যাকেটজাত মশলা ব্যবহার করি না। আগের রাতেই আদা, রসুন, জিরাসহ মাংস রান্নার সব উপকরণ বেটে প্রস্তুত করে রাখি।
আমার মনে হয়, গ্রামের খাবারের যে আসল ফ্লেভার, সেটা মাটির চুলাতেই ঠিকভাবে আসে। গ্যাসের চুলায় রান্না করলে সেই গন্ধ বা স্বাদ পুরোপুরি পাওয়া যায় না।

রাইজিংবিডি: রান্নার পর কি আপনি শাকিব খানের বাসায় সেগুলো পাঠিয়ে দেন?

অপু বিশ্বাস: না, সে আমার বাসায় আসে। কারণ ঈদের দিন প্রায় পুরো সময় আমরা ওর বাবার বাসায় থাকি। আমার যেটা হয়, কোরবানি দেওয়ার পর মাংস রান্না করে রেখে দেই। পরে অনেক রাতে ওর বাবা এসে খায়। মূলত কোরবানির পর রান্না করি, আর ঈদের দুপুরের খাবারটা সাধারণত ওর বাসাতেই খাওয়া হয়।

রাইজিংবিডি: মাটির চুলায় রান্না করতে অনেকে অভ্যস্ত নন। ফলে কোনো ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে কিনা?

অপু বিশ্বাস: আমি আসলে ওই ধরনের ন্যাকামো করা নায়িকা না। আমি খুব স্ট্রেট ফরোয়ার্ড, একদম সাধারণ বাঙালি মেয়ে। পেশাগতভাবে আমি চিত্রনায়িকা, কিন্তু আমি বগুড়ার মানুষ। ছোটবেলায় দেখেছি, আমার মা মাটির চুলায় রান্না করতেন। তখন আমাকে অনেক সাহায্যও করতে হতো। তাই এসব কাজে আমি অভ্যস্ত। যেমন গত বছর মাংস কাটার সময় খেয়াল করিনি; আঙুল কেটে গিয়েছিল। এটা দুর্ঘটনা। তবে এসব কাজের অভিজ্ঞতা আমার আছে।

রাইজিংবিডি: আপনি সবসময় বলেন, শাশুড়ির কাছ থেকে রান্না শিখেছেন। নিশ্চয়ই ঈদের রান্না নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে বিশেষ স্মৃতি আছে? 

অপু বিশ্বাস: তার রান্নার হাত খুব ভালো। তার কাছ থেকেই রান্না শিখেছি। তিনি বেরেস্তার সঙ্গে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাদা করে ‘ঝুরা মাংস’ রান্না করতেন। ঈদের এক-দুই দিন পর থেকে টানা প্রায় এক সপ্তাহ সকালের নাস্তায় এই ঝুরা মাংস খাওয়া হতো। বাইরে থেকে নান আনা হতো। আমি যেহেতু বাসায় লুচি বানাতে খুব এক্সপার্ট ছিলাম, তাই লুচি দিয়েও খাওয়া হতো। তার আরেকটি বিশেষ রান্না ছিল নেহারি। অনেক জায়গায়, অনেক দোকানে নেহারি খেয়েছি। কিন্তু তার হাতের রান্নায় মা ও পাকা রাঁধুনীর যে বিশেষত্ব থাকে সেটা পাওয়া যেত।

ঢাকা/তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়