ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নারীর প্রতি সহিংসতা এবং আধুনিক সভ্যতা

মাহফুজা হিলালী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১০, ৩০ মে ২০২৬  
নারীর প্রতি সহিংসতা এবং আধুনিক সভ্যতা

বর্তমান সভ্যতা আধুনিকতার এক মহালগ্নে পৌঁছেছে। কিন্তু সমান তালে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বদল ঘটেনি। নারীকে মানব-মর্যাদা দেওয়া তো দূরের কথা, বরং বেড়েছে সহিংসতা। নারী এখনো ভোগ্যবস্তু হিসেবেই গণ্য হয়ে আছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচ জন নারীর মধ্যে একজন ধর্ষণের শিকার হন বলে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি ‘প্রথম আলো’র রিপোর্টে বলা হয়েছিল। ২০২৬-এ এসেও এই হার কমেনি। তাছাড়া সেখানে নারীকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় এখনও বসানোর ভরসা পাননি তারা। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো নারী এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হননি। ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস এক ঘণ্টা পঁচিশ মিনিটের জন্য প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। কারণ সে সময় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চিকিৎসার জন্য অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়েছিল। এই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক, সভ্য এবং ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের নারীর প্রতি মনোভাব। 

এবারে আসি আমাদের অনুন্নত দেশ বাংলাদেশের প্রসঙ্গে! এখানে দুজন নারী দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থেকেছেন দীর্ঘ দিন। কিন্ত সারাদেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ-হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আর বর্তমানের কথা তো বলাবাহুল্য; বাহাত্তর (৭২) বছর বয়সী বৃদ্ধা থেকে শুরু করে তিন (৩) বছরের শিশু পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এদের মধ্যে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীও বাদ পড়ছে না। বেশিরভাগ সময় ধর্ষিতাকে খুন করা হচ্ছে। এমনকি মেডিক্যালের হিমঘরে রাখা নারীর লাশ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং হচ্ছে। বেশিরভাগ সময় ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয় না। আবার গ্রেফতার হলেও বিচার চলে মন্থর গতিতে, আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসে অনেক ধর্ষক। ভুক্তভোগীর পরিবার তখন আরও সমস্যার সম্মুখীন হয়। আর যে ধর্ষক কারার অন্তরালে থাকে, সে বসে বসে রাষ্ট্রের, তথা জনগণের টাকার অন্ন ধ্বংস করে। এই হলো আজকের আধুনিক সভ্যতায় নারীর নিরাপত্তা এবং বিচারের চিত্র। 

ধর্ষণ ছাড়াও স্ত্রীর প্রতি বরের, বোনের প্রতি ভাইয়ের, কন্যা সন্তানের প্রতি মা-বাবার, মেয়েবন্ধুর প্রতি ছেলে বন্ধুর, ছাত্রীর প্রতি পুরুষ শিক্ষকের, নারী সহকর্মীর প্রতি পুরুষ সহকর্মীর, নারীকর্মীর প্রতি অফিস কর্তৃপক্ষের, প্রতিবেশী মেয়ে শিশুর প্রতি প্রতিবেশীর, প্রতিবেশী নারীর প্রতি প্রতিবেশীর নানা রকম সহিংসতার চিত্র দেখা যায় যাপিত জীবনে। যুগের আধুনিকতায় সহিংসতায়ও আধুনিক হয়ে উঠেছে। যেন এ থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, যেন জীবনযাত্রায় এ এক চলমান বিষয়।   

নারীর প্রতি সহিংসতা যুগ যুগ ধরে চলে আসা এক হিংস্র প্রবণতা, যা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আশীর্বাদপুষ্ট। এই সমাজের অংশী নারীও। এবং এর মূল অনেক গভীরে। পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলে এই সহিংসতা। ‘পৃষ্ঠপোষকতা’ শব্দটির প্রতি অনেকের আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু এটাই মূল শব্দ। দিনের পর দিন এই পৃষ্ঠপোষকতা হয়ে আসছে। শারীরিক শক্তির কারণে নারী একজন পুরুষের সাথে শক্তিতে পেরে উঠতে পারে না। সুতরাং তাকে শারীরিকভাবে দমন করা খুব সহজ। এ কারণে মারধোর এবং ধর্ষণে বাধা দিতে দিতেও সে পেরে ওঠে না। কিন্তু কথা হলো গুহাযুগের সেই পশুবৃত্তি থেকে অন্য সব বিষয়ে মানুষ একটু একটু করে বেরিয়ে এসেছে, কিন্তু নারীর প্রতি সহিংসতা থেকে বের হতে পারলো না কেন? একইসঙ্গে নারী-পুরুষ মানুষের কাতারে এসে দাঁড়াতে পারলো না কেন? এটা কি পুরুষের জন্মগত বিকৃত যৌনাচার? নারী মানেই ভোগ্য? যে সংস্কৃতি আমরা পশুদের মধ্যে দেখতে পাই; তাদের সাংসারিক বা সম্পর্কের বন্ধন নেই, ভদ্রতা নেই, স্থান-কাল জ্ঞান নেই, সর্বোপরি সভ্যতা নেই। তারা কাপড় দিয়ে লজ্জা নিবারণ করে না, তারা প্রাকৃতিককর্ম সম্পাদনের জন্য আড়াল খোঁজে না। কিন্তু মানুষ তো সভ্য প্রাণী হিসেবে নিজেকে দাবি করে, তবে তার সেই সভ্যতার চিহ্নটুকু কোথায়? সেটা কি আদ্যেও প্রয়োজন, নাকি না?     

এবারে পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক। সমাজের কিছু প্রচলিত কথা আছে যেমন, ‘ছেলেদের একটু-আধটু দোষ থাকেই’, ‘বয়সের দোষ’, ‘ছেলেরা অনেক কিছুই করতে পারে, যেটা মেয়েরা পারে না’, ‘পুরুষের সাত খুন মাফ’, ‘পুরুষ মানুষ হলো সোনা, মেয়েরা তামা’, ‘পুরুষের সুখ-শান্তির জন্য মেয়েদের বানানো হয়েছে’ ইত্যাদি। এই কথাগুলো পুরুষদের নীতিহীন, বেপরোয়া হতে সাহায্য করে। তাছাড়া বেশিরভাগ সংসারে নারীকে দমিয়ে রাখা হয়। প্রায় সব সংসারেই নারীর পোশাক, কথা বলা, হাসা, হাঁটা, আচার-আচরণ, চলাফেরা ইত্যাদি নিয়ে বকাঝকা করা হয় এবং নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লেখাপড়া এবং চাকরিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মেয়েদের বেশি লেখাপড়ার প্রয়োজন নেই, বা চাকরির প্রয়োজন নেই বলা হয়। আরও যে কথা বলা হয়, ভালো বিয়ের জন্য তার লেখাপড়া যতোটুকু দরকার, ততোটুকু লেখাপড়া করলেই চলবে। 

প্রসঙ্গক্রমে গালির বিষয়টিও আনা জরুরি। প্রচলিত সবগুলো গালি নারীকেন্দ্রিক। এমনকি স্ত্রীর পক্ষের আত্মীয়স্বজন যেমন, শালা, শালি, সম্বন্ধি ইত্যাদি সবই গালিতে পরিণত হয়েছে। শুধু ‘শালা’ বলেই ক্ষান্ত হয় না, শালার ব্যাটাও শালা! আরও একটি শব্দ আছে ‘স্বামী’; যার অর্থ প্রভু। যে কারণে স্ত্রী সব সময় প্রভুর দাসি হয়ে থাকবে, তা শব্দগতভাবেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে (এ সব শব্দ তৈরির ব্যাখ্যা অন্য কোনো প্রবন্ধে আলোচনা করবো।)। তাই ছোটো থেকেই ছেলেরা নারীকে অবহেলা, অবমাননা করতে শুরু করে। এক জন পুরুষ শিশু অবস্থা থেকে বড়ো হতে হতেই বুঝে যায় নারী অবহেলার এবং ভোগের সামগ্রী, সে মানুষের চেয়ে নিচু শ্রেণির প্রাণী, তার সাথে নমনীয় এবং ভদ্র আচরণ না করলেও চলবে। তার সাথে যে কোনো খারাপ ব্যবহার করা দোষের কিছু নয়। এই চিন্তা নিচু শ্রেণির একটি পুরুষ উঁচু শ্রেণির নারী সম্পর্কে কিংবা অল্প শিক্ষিত পুরুষ উচ্চ শিক্ষিত নারী সম্পর্কেও করে। এ সব কারণে যে কোনো পুরুষের ব্রেন তার নিজেকে প্রভুর জায়গায় স্থাপন করে। সাইকোলজিক্যালিই এটা ঘটে। এটা হলো পুরুষকে দেওয়া পারিবারিক এবং সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতা। এবং এগুলো নীরবে ঘটতে দেওয়া হলো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা।   

আরেকটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা হলো মাদক। বর্তমানে যে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাগুলো ঘটছে, সেগুলোতে বেশিরভাগ ধর্ষকই মাদকসেবী। মাদক বিশ্বরাজনীতির অংশ। এক সময় ইংল্যান্ড আফিমের বিষে জর্জরিত করে দিয়েছিলো চীনকে এবং এর ফলস্বরূপ চীনের এক অংশ দখল করে নিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ সম্পর্কে তাঁর ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে লিখেছিলেন। সভ্যতার এই সংকট বিরামহীনভাবে চলছেই। এবার আমাদের নিজেদের দেশের মানুষ নিজেদের স্বার্থে দেশে মাদক ছড়িয়ে দিয়েছে। ছোটো-বড়ো, ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, নারী-পুরুষ সব শ্রেণির কিছু কিছু মানুষ মাদকের দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে তরুণ এবং যুব সমাজ বেশি পরিমাণে ঝুঁকে গেছে। মাদকে আসক্তির কারণে মানুষ নীতিহীন হয়ে পড়ছে। তারা টাকার জন্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। ধর্ষণ হয়ে উঠেছে তাদের বিনোদন এবং উল্লাসের ব্যাপার। এই বিকৃত মানসিকতা থেকে মানুষকে বের করে আনার চেষ্টা রাষ্ট্র করছে না। বলা হয়ে থাকে পুলিশের ছত্রছায়ায় থাকে মাদক ব্যবসায়ীরা। তাহলে এদের উচ্ছেদ করা রাষ্ট্রের জন্য কঠিন কিছু নয়। কিন্তু এ সব ব্যবসায়ীরা আবার কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল করে। তাই নেতা, এমপি, মন্ত্রীদের ছায়াও এদের ওপর রয়েছে। সুতরাং মাদক ব্যবসা রমরমা। সাথে ধর্ষণ বা সহিংসহাও।   

এবারে আসা যাক, ধর্মীয় বক্তৃতায়। ওয়াজমাহফিল, জুম্মার খুতবা, হুজুরের আলোচনা, ইউটিউবের ভিডিও সবখানে নারীকে নিয়ে আলোচনা চলছে। নারীকে দেখে পুরুষের জিহ্বায় টসটস করে রস আসে, নারীর নখের এক কোণা দেখলে পুরুষের যৌন আকাঙ্খা চলে আসে, তাই নারীকে আপদমস্তক কালো কাপড়ে আবৃত থাকার ফতোয়া দেওয়া হয়। কিন্তু তারা একবারও বলে না যে, নারীর দিকে একবার তাকিয়ে আরেকবার তাকানোর দরকার নেই এটা ইসলামের কথা। বলে না যে, সুরা নিসায় পুরুষের দৃষ্টির পর্দা করতে বলা হয়েছে। বলা হয় না যে, নারীর শিক্ষাগ্রহণ ফরজ। বলা হয় না যে, চাকরি ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি যুদ্ধও নারীর জন্য জায়েজ। একবারও বলা হয় না মসলিম নারীদের বীরত্বের কথা, আয়েশা (রা) যুদ্ধে যাওয়ার কথা, খাওলাহ বিনতে আজওয়ারের বিভিন্ন যুদ্ধ জয়ের কথা। শুধু নারীর শরীর নিয়ে কথা বলা হয়, নারীর শরীরের প্রতিটি ইঞ্চির বর্ণনা দেওয়া হয়, নারীকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানোর কথা বলা হয় এবং নারী যে বেহেস্তে গিয়ে হুর হবে, তাই বলা হয়। 

এভাবে ধর্মজলসায় বিভিন্ন রকম নারীবিদ্বেষী বক্তৃতা মানুষকে নারীবিদ্বেষী করে তোলে, নারীকে ভোগ্যবস্তু করে তোলে। এর দিকে রাষ্ট্র কোনো নজর দেয় না। ইসলামবহির্ভূত কথা বলার জন্য রাষ্ট্র শাস্তি দেয় না। নারীকে অপমান করার অপরাধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয় না। এটা তাই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। 

নারীর প্রতি সহিংসতার আরেকটি কারণ অশিক্ষা। অশিক্ষিত মানুষ হুজুরের যে কোনো কথা বিশ্বাস করে, অল্প শিক্ষিত মানুষের কথা বিশ্বাস করে, বয়সে একটু বড়ো হলে তার কথাও বিশ্বাস করে, কিংবা বয়সে ছোটো কিন্তু ইঁচরে পাকা, তার কথাও বিশ্বাস করে। এদের সংখ্যা দেশে বেশি, তাই এদেরকে একমুখী করা সহজ। নারীর প্রতি সহিংসতার এটা একটা বড়ো কারণ। এই অশিক্ষিত এবং শিক্ষিত নামধারী অশিক্ষিতরা নিজেদের সংযত করে না। ঘরে, বাইরে যে কোনো অবস্থায়, যে কোনোভাবে তারা নারীকে হেনস্তা করে তাদের বিকৃত মানসিকতা চরিতার্থ করে। অন্যদিকে সুশিক্ষিত এবং স্বশিক্ষিত মানুষ নিজেকে সংযত করতে পারে। নিজের ভেতরের পশুবৃত্তিকে নিবৃত করতে পারে। তাই জাতির সুশিক্ষা নিশ্চিত না করে জাতিকে কুসংস্কারে আবদ্ধ করে রাখা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা এবং নারীসহিংসতার পৃষ্ঠপোষকতা করা। 

পারিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের আরেকটি পৃষ্ঠপোষকতা বিচারহীনতা। বিচারটা প্রথমে পরিবার থেকে আসা উচিত। আসে না। বরং অভিযুক্তকে পরিবার আগলে রাখে। বর ঘরে কাজের মেয়ের সঙ্গে যৌনলালসা মেটাচ্ছে, স্ত্রী বরকে বর্জন করে না। কিংবা এই স্ত্রী বর্জন করতে চাইলেও তার মা-বাবা, ভাই-বোন তাকে বাধ্য করে সেখানে থাকতে। ছেলে সন্তান কোনো খারাপ কাজ করছে, পরিবারের লোকেরা তাকে কঠোরভাবে শাসন করে না। এরপর সমাজ শাসন করবে। কিন্তু করে না। ঝামেলা এড়িয়ে চলে। আর রাষ্ট্র তো তাদের তদন্ত, ফাইল, ঘুষ, নেতা ইত্যাদির চাপে চাপা পড়ে যায়। সুতরাং যেহেতু বিচার হয় না, শাস্তি হয় না, তাই একের পর এক সহিংসতা চলতেই থাকে। 

রাজনীতিই মানুষের প্রধান চালিকা শক্তি। দেশের একটি মানুষও রাজনীতির বাইরে নয়। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট করে, বিচার ব্যবস্থা নষ্ট করে, কুসংস্কার বাড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের রাজতৈনিক অবস্থা সুস্থির নয়। যে কারণে সবগুলো বিভাগ কোনো রকমে চলছে। এখানে স্থিরতা আনা প্রয়োজন। সমাজের একটা বড়ো সমস্যা পুরুষকে পুরুষ এবং নারীকে নারী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা। যদি লিঙ্গভেদে উভয়কেই ‘মানুষ’ হিসেবে বিবেচিত করা হতো তাহলে নারীকে ভোগ্যবস্তু হিসেবে চিন্তা করা হতো না। তখন সবাই সবার প্রতি মানবিক হতো। যদি ধর্ম ব্যক্তিস্বার্থে বা রাজনৈতিকস্বার্থে ব্যবহার না করে সঠিকভাবে চর্চা করা হতো তাহলে প্রতিটি মানুষের আত্মা শুদ্ধ হয়ে উঠতো। পৃথিবী মানবিক হয়ে উঠতো। বর্তমান সভ্যতা সাইবার সভ্যতা। সমস্ত পৃথিবী হাতের মুঠোয়। তাই একটি দেশ একা ইচ্ছে করলে, নিজের দেশের সহিংসতা কমাতে পারবে না। পুরো পৃথিবীকে একসঙ্গে শুদ্ধ হতে হবে, মানবিক হতে হবে। তবে ক্ষুদ্র থেকে যেমন বৃহৎ, বৃহৎ থেকে তেমনি ক্ষুদ্র। আমাদের বাংলাদেশ থেকে আমরা শুরু করি। বাংলাদেশ নারীবান্ধব হোক। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, নারীরা মানুষ মর্যাদায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। বিশ্বব্যাপী সভ্যতার সংকট ঘুঁচে যাক। 

লেখক: গবেষক, নাট্যকার এবং সহযোগী অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্বাবদ্যালয়  

ঢাকা/তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়