ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর একটি রূপরেখা নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে শুক্রবার (২৯ মে) শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে কোনো স্পষ্টতা ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই এই শর্তে রাজি হতে হবে যে তারা কখনই কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করবে না। এছাড়া অবাধ জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং এই জলপথের সব মাইন ‘ধ্বংস’ করতে হবে।
বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় ব্যবহৃত হোয়াইট হাউজের ‘সিচুয়েশন রুমে’ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না। দেশটির পারমাণবিক প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে ইরান দাবি করে আসছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) একটি চুক্তির রূপরেখা নিয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছিল, যা ট্রাম্প এবং ইরানের নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি আরো ৬০ দিন বাড়ানো হতো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হতো।
তবে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিই করবেন যা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করে এবং তার নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ পূরণ করে। ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।”
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে এবং আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব ফলাফল পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার ভোরের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত, যাতে জলপথে আটকে থাকা জাহাজগুলো ‘গন্তব্যের দিকে রওনা হওয়ার’ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।”
তিনি এই বিষয়ের ওপরও জোর দেন যে, ইরানকে অবশ্যই তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিতে হবে।
তিনি বলেন, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থের লেনদেন হবে না। কম গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।”
পরবর্তীতে, হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বিবিসির কাছে নিশ্চিত করেন যে, সিচুয়েশন রুমের বৈঠকটি শেষ হয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানাননি।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’।
সংস্থাটি জানায়, সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করার কোনো ধারা ছিল না।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, তাদের মূল মনোযোগ ‘যুদ্ধ বন্ধ করার দিকে, পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না’।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরান যেন উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করে এবং তাদের বর্তমান মজুদ ধ্বংস করে, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনাকারীরা ‘কয়েকটি ভাষাগত পয়েন্ট নিয়ে কাজ করছেন, যার মধ্যে ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রশ্নটি’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা এখনো চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাইনি, তবে আমরা খুব কাছাকাছি আছি এবং এর জন্য কাজ চালিয়ে যাব।”
ইরানের প্রধান আলোচনাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে বলেন, গ্যারান্টি বা কথায় তাদের ‘কোনো আস্থা নেই’, কেবল কাজেই বিশ্বাস।
তিনি বলেন, “অপর পক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। যেকোনো চুক্তির বিজয়ী তিনিই, যিনি চুক্তির পরের দিন যুদ্ধের জন্য বেশি প্রস্তুত থাকেন।”
ঢাকা/ফিরোজ
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী আজ