ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদের দ্বিতীয় দিনে পঙ্গু হাসপাতালে ৫৬০ জন নিলেন চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৬, ২৯ মে ২০২৬   আপডেট: ২২:৩৫, ২৯ মে ২০২৬
ঈদের দ্বিতীয় দিনে পঙ্গু হাসপাতালে ৫৬০ জন নিলেন চিকিৎসা

ছবি: রাইজিংবিডি

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি দিতে গিয়ে ও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই দিনে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৬০ জন।

সরেজমিনে পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, কোরবানি দিতে গিয়ে পশুর আঘাত, ছুরি, দা দিয়ে মাংস কাটার সময় হাত-পা কেটে যাওয়া এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা। জরুরি বিভাগের বিভিন্ন বেড ও করিডোরে চিকিৎসার অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা যায় রোগীদের।

আরো পড়ুন:

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন ৩৪০ জন রোগী। তাদের মধ্যে ১৪২ জন কোরবানি করতে গিয়ে আহত হন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন আরো ২২০ জন। তাদের মধ্যে ৩১ জন কোরবানির সময় আহত হয়েছেন।

বাকিরা সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত তিন জন চিকিৎসক, চার জন নার্স ও ছয় জন স্টাফকে রোগীদের সেবা দিতে দেখা গেছে।

জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা আজমত মিয়া বলেন, “কোরবানির মাংস কাটতে গিয়ে আমার ছেলে রুবেলের হাত অনেকটা কেটে গেছে। চিকিৎসকেরা সেলাই করে দিয়েছেন। হাড়ে আঘাত পেয়েছে কিনা এজন্য এক্সরে করা হয়েছে।এখন এক্সরে রিপোর্টের অপেক্ষা করছি।”

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মোস্তাফিজ রহমান বলেন, “প্রথম দিন কসাই না পাওয়ায় দ্বিতীয় দিন কোরবানি করেছি। গরু জবাইয়ের সময় অসাবধানতায় গরুর লাথি লেগে কনুইয়ে ব্যথা পাই। পরে এক্স-রে করে দেখা যায়, হাড়ে ফাটল ধরেছে। চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন স্টাফরা।”

হাসপাতালে আসা সাভারের বাসিন্দা মিল্লাত হোসেন বলেন, “আমার বড় ভাই মনির হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে বাম পা ভেঙে ফেলেছেন। এখন তার ব্যান্ডেজ চলছে।”

জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঈদের সময় প্রতি বছরই রোগীর চাপ বাড়ে। বিশেষ করে কোরবানি দিতে গিয়ে গরুর দ্বারা আঘাত পাওয়া ও হাত-পা কেটে যাওয়া রোগীর সংখ্যা বেশি থাকে। এর সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার রোগীও যোগ হওয়ায় চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

তিনি বলেন, “অনেকেই অসতর্কভাবে কোরবানি করতে গিয়ে আহত হচ্ছেন। পশু জবাই ও মাংস কাটার সময় সবাইকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।”

ঢাকা/এমএসবি/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়