ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মা হয়েছেন ‘পাগলী’, বাবা কে?

মাদারীপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৬, ৩০ মে ২০২৬   আপডেট: ১১:৫০, ৩০ মে ২০২৬
মা হয়েছেন ‘পাগলী’, বাবা কে?

কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মা ও নবজাতক

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডের পাশে ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। তার পাশে ছিল না কোনো স্বজন, ছিল না পরিচিত কোনো মুখ। ছিল শুধু অসহায়ত্ব আর নিঃসঙ্গতা। সেই নিঃসঙ্গ ভোরেই এক কন্যা শিশুর জন্ম দেন সেই অজ্ঞাতপরিচয় নারী, যিনি স্থানীয়দের কাছে ‘পাগলী’ হিসেবে পরিচিত।

দীর্ঘদিন ধরে ওই নারী কালকিনির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। রাস্তার পাশেই কাটত তার দিন-রাত। কে তার আপন, কোথায় তার ঘর— সে উত্তর জানা নেই কারও।

শুক্রবার (২৯ মে) ভোরে হঠাৎ প্রসব ব্যথা শুরু হলে স্থানীয় কয়েকজন নারী মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের সহায়তায় ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরে খবর পেয়ে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন মা ও নবজাতকের পাশে।

তবে, শিশুটির বাবার পরিচয় সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারেননি। এখন একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো এলাকার মানুষদের মধ্যে—এই শিশুর বাবা কে? কার লালসার শিকার হয়েছেন এই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী?

‘পাগলী’র সন্তান হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ। স্থানীয়রা বলছেন, সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষ হলেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীরা। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় মা ও নবজাতককে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সনত বৈদ্য বলেন, “মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ও নবজাতক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মা কিছুটা অসুস্থ। তার দুই পায়ে সেলুলাইটিস রয়েছে। হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মা ও নবজাতকের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।”

কালকিনি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মা ও শিশুর চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত আছে। আমরা তার আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। তিনি সুস্থ হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা ওই শিশুটির বাবাকে শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন। একইসঙ্গে অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ঢাকা/বেলাল/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়