যে চারটি ভুল ওজন কমতে দেয় না
লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সময়ে ওজন কমানো নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পরিচিতজনের পরামর্শ কিংবা বিভিন্ন প্রচলিত ধারণার প্রভাবে অনেকেই হঠাৎ করে নানা ধরনের ডায়েট শুরু করেন। কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় এসব প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। বরং কিছু ভুল অভ্যাস ও ভ্রান্ত ধারণা ওজন কমানোর পথকে আরও কঠিন করে তোলে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আগে জানতে হবে কোন ভুলগুলো আমাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
১. কোনো খাবারের গ্রুপ পুরোপুরি বাদ দেওয়া
শর্করা হোক বা ফ্যাট—খাদ্যতালিকা থেকে কোনো একটি উপাদান সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে হয়তো শুরুতে কিছুটা ওজন কমতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর ফল ভালো হয় না। বরং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং হোলগ্রেইনজাত জটিল শর্করা খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। অনেকেই মনে করেন মাংস বাদ দিলেই ওজন কমবে, কিন্তু সেটিও সব সময় সত্য নয়। তবে প্রতিদিন বেশি করে উদ্ভিজ্জ খাবার খাওয়া উপকারী। যদিও কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারেও ক্যালরি বেশি থাকে, তাই পরিমাণ ও ভারসাম্যের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
২. গ্লুটেনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা
কোনো রোগ, অসহিষ্ণুতা বা অ্যালার্জির কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে গ্লুটেন বাদ দেওয়া হলে সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু শুধু ওজন কমানোর আশায় গ্লুটেন বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এতে খাদ্যতালিকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ কমে যেতে পারে। হোলগ্রেইন শস্য শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অন্যদিকে বাজারে পাওয়া অনেক প্রক্রিয়াজাত গ্লুটেন-ফ্রি খাবারে অতিরিক্ত চিনি বা চর্বি থাকতে পারে। তাই লাল আটার রুটি বা চাপাটির মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
৩. শুধু তরল ডায়েট অনুসরণ করা
অনেকে দ্রুত ওজন কমানোর আশায় শুধু জুস, স্মুদি বা অন্যান্য তরল খাবারের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু এসব পানীয়তে অনেক সময় অতিরিক্ত চিনি থাকে। পুষ্টিবিদদের মতে, গোটা ফল খাওয়া বেশি উপকারী, কারণ এতে পর্যাপ্ত আঁশ পাওয়া যায়, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া শুধুমাত্র তরল ডায়েটে জটিল শর্করার ঘাটতি দেখা দেয়, যা শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকেও ধীর করে দিতে পারে।
৪. না খেয়ে থাকা
অনেকের ধারণা, কম খেলে বা একবেলার খাবার বাদ দিলে দ্রুত ওজন কমে। বাস্তবে এটি একটি ভুল ধারণা। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম ধীর হয়ে যায়, ফলে ওজন কমানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বরং দিনে কয়েকবার অল্প অল্প করে স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া ভালো। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। বারবার এমন হলে শরীর অতিরিক্ত চর্বি জমিয়ে রাখতে শুরু করে, যা ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শর্টকাট বা হুজুগে সিদ্ধান্ত নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন
ঢাকা/লিপি
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী আজ