ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ছোটবেলার সেই ট্রমা এখনও কাটেনি: দীঘি

জান্নাতুল ফেরদৌস || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৫, ৩০ মে ২০২৬   আপডেট: ১০:৪৪, ৩০ মে ২০২৬
ছোটবেলার সেই ট্রমা এখনও কাটেনি: দীঘি

শিশুশিল্পী হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। এখনো দর্শকের চোখে ভাসে ছোট্ট দীঘির অভিনয়, কানে বাজে মিষ্টি সংলাপ। নায়িকা হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন ও ঈদস্মৃতির গল্প শুনিয়েছেন তিনি। আলাপচারিতায় তার সঙ্গে ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস। 

রাইজিংবিডি: এ বছর ঈদ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা জানতে চাই। 

আরো পড়ুন:

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি: প্রতিবছর যেমন হয় তেমনই, আলাদা কিছু না। কোরবানির ঈদের পুরো প্যাটার্ন আমার খুব ভালো লাগে। সাধারণত, আমি কোরবানি হয়ে যাওয়ার পর ঘুম থেকে উঠি। কারণ কোরবানি করা দেখতে পারি না, ভয় লাগে, মন খারাপ হয়, দুঃখ লাগে। বাসায় আগেই বলে দেই, কোরবানি হয়ে গেলে তারপর যেন আমাকে ডাকা হয়। এরপর ঘুম থেকে উঠে নিচে যাই। আমি আর ভাইয়া—মূলত আমরা দুজনই নিচে অনেক কাজ করি, সব দেখাশোনা করি। বাবাও আমাদের সঙ্গে থাকে। পুরো বিষয়টি আনন্দের।  

আমার একটা ট্রমা হয়েছিল। তখন বেশ ছোট। একবার আমি কোরবানি দেখেছিলাম; আমরা যে বাসায় থাকতাম, সেই বাসার পাঁচতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দৃশ্যটি দেখে ফেলেছিলাম। দেখে খুব কান্না করেছিলাম। তখন বলেছিলাম, ‘দরকার নেই, কোরবানি দিও না, গরুটাকে মেরো না।’ কয়েকদিন ধরে গরুটাকে খাবার দেওয়া, আদর করা—এসব করতে করতে  মায়া তৈরি হয়ে যায়। মূলত, এ কারণে কোরবানি করা দেখতে ভালো লাগে না।

রাইজিংবডি: ঈদে বাসায় স্পেশাল রান্না খুব কমন একটা ব্যাপার। আপনি নিজে কিছু রান্না করেন?

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি: ঈদের দিন আমি সবই রান্না করি। কোরবানির পর প্রথমে মাংসের একটা অংশ কেটে বাসায় পাঠানো হয়। কোরবানির পরে মাংস রান্নার আলাদা একটা মজা আছে। মাংস দ্রুত সেদ্ধ হয়, খেতেও ভালো লাগে। মাংসের অনেকটা দায়িত্ব আমার ওপর থাকে। পুরো মাংস কীভাবে প্রস্তুত করা হবে, কী করা হবে, কী হবে না—এসব কাজের বেশিরভাগই আমি করি।

রাইজিংবিডি: গরু কিনতে কখনো হাটে গিয়েছেন?

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি: গত বছর গরুর হাটে যেতে পারিনি। কারণ দেশের বাইরে ছিলাম, চাঁদরাতে ফিরেছিলাম। তখন আমার ভাইয়া গরু কিনে নিয়ে এসেছিল। তার আগের বছর আমি নিজে গিয়ে গরু কিনেছিলাম। গরু দেখতে এমনিতেই সুন্দর লাগে। তবে লাল রঙের গরু ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালো লাগে—আলাদা একটা মায়া আছে।  

রাইজিংবিডি: গরু কিনে আনার পর নিজ হাতে খাওয়ানো, যত্ন নেওয়া—

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি: হ্যাঁ, হ্যাঁ, এটা তো অবশ্যই করি। উৎসবের মতো একটা পরিবেশ। ফ্ল্যাটের সবাই যখন গরু কিনে আনে, তখন অনেক আনন্দ হয়। আমি গরু নিয়ে আসলাম, এরপর আরো অনেকেই আনল। এনেই নিচ থেকে ফোন দিয়ে বলে, ‘এই গরু আনছি, নিচে নামো।’ আবার আরেকজন বলে, ‘লাল গরু আনছি, নিচে নামো।’ এটা একটা মজার ব্যাপার। ঈদের সময় অনেকে রাত ১-২টার সময়ও গরু নিয়ে আসে। আমরা তখনো দলবেঁধে গরু দেখতে নিচে নেমে যাই। এমনকি, পাশের বিল্ডিং বা এলাকায় কারো গরু এলেও আমরা দেখতে যাই। এটাই আসলে ঈদের মজা। কে কেমন গরু আনল, কত দিয়ে কিনল, কোথা থেকে কিনল—এসব জানার মধ্যেও আলাদা আনন্দ থাকে।

রাইজিংবিডি: আপনি ছোটবেলো থেকেই তারকা। গরুর হাটে গিয়ে ভক্তদের সেলফির খপ্পরে পড়তে হয়েছে কখনো?

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি: আমি খুব চেষ্টা করি, যাতে এটা না হয়। মুখ ঢেকে, মাস্ক পরে, ক্যাপ পরে যাওয়ার চেষ্টা করি। পুরো মুখটা ভালোভাবে ঢাকার চেষ্টা করি, যাতে কেউ চিনতে না পারে। চেষ্টা করি রাত ১০টার পরে, ১১টা বা ১২টার দিকে হাটে যেতে। কারণ ওই সময় মানুষ একটু ক্লান্ত থাকে, ঘুম ঘুম অবস্থায় থাকে। সারাদিনের পর তখন ভিড়ও কম থাকে। এতে দুটি সুবিধা হয়—একদিকে কেউ খুব বেশি চিনতে পারে না, অন্যদিকে দাম নিয়েও একটু সুবিধা পাওয়া যায়। এটা একটা কৌশলও বলা যায়। তারপরও কিছু মানুষ থাকেন, যারা আমাদের অনেক ফলো করেন। তারা দেখলেই বুঝে ফেলেন আমি আছি। তখন কেউ কেউ হঠাৎ বলে—‘এটা কি দীঘি!’ মাস্ক পরা থাকলেও শুধু চোখ বা কপাল দেখেই অনেকে চিনে ফেলেন। অনেকে বলেন, ‘আপনার কপাল দীঘির মতো, আপনার হাঁটাচলাও দীঘির মতো’—এভাবে হঠাৎ চিনে ফেলেন।

ঢাকা/তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়