ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গরুর হাটে পাঁচ তারার মজার স্মৃতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:২৩, ২৯ মে ২০২৬   আপডেট: ১৩:২৬, ২৯ মে ২০২৬
গরুর হাটে পাঁচ তারার মজার স্মৃতি

বছর ঘুরে আবারও এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই উৎসবকে ঘিরে জমে উঠেছে দেশের বিভিন্ন গরুর হাট। সাধারণ মানুষের মতো শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও ছুটে যান হাটে। কেউ পরিবারের সঙ্গে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে। গরু কেনাকে ঘিরে তাদের রয়েছে নানা মজার, আবেগঘন ও বিব্রতকর অভিজ্ঞতা। ঢাকাই চলচ্চিত্রের কয়েকজন তারকার মুখে শোনা গেল গরুর হাটের তেমনই কিছু স্মৃতি।

নাঈম: ভিড়ের চাপে গরু না কিনেই ফেরা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক নাঈম জানান, গরুর হাটে যেতে তার বরাবরই ভালো লাগে। তবে পরিচিত মুখ হওয়ার কারণে অনেক সময় বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয়। “মানুষ আমাকে দেখলে চিনে ফেলে। তখন ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে যায়। একবার এমন পরিস্থিতি হয়েছিল যে গরু না কিনেই বাসায় ফিরে আসতে হয়েছিল,’ বলেন ‘চাঁদনী’খ্যাত এই অভিনেতা। তবুও হাটের প্রতি ভালোবাসা কমেনি তার। সুযোগ পেলেই প্রতি বছর গরুর হাটে যান তিনি।

আরো পড়ুন:

ওমর সানী: সংসদ ভবন দেখলেই মনে পড়ে বাবার হাত
চিত্রনায়ক ওমর সানী স্মৃতির ঝাঁপি খুলে শোনালেন শৈশবের এক গল্প। তিনি বলেন, “তখন জাতীয় সংসদ ভবনের ফাউন্ডেশনের কাজ চলছিল। ওই এলাকাতেই গরুর হাট বসত। সেবার প্রচুর কাদা ছিল। আমি তখন ছোট, বাবার হাত ধরে হাটে গিয়েছিলাম। এখন সংসদ ভবন দেখলেই বাবার সঙ্গে গরু কেনার সেই স্মৃতি মনে পড়ে।”

তার কথায় যেন ভেসে ওঠে পুরোনো ঢাকার এক ঈদের আবহ, যেখানে কাদা মাখা হাটও হয়ে ওঠে জীবনের প্রিয় স্মৃতি।

মিশা সওদাগর: গরু কিনতে গিয়ে নিজেই ‘গরু’!
খলনায়ক হিসেবে পরিচিত মিশা সওদাগর কোরবানির হাটের এক মজার অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন হাসতে হাসতে।

“একবার ভালো পেমেন্ট পেয়েছিলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম নিজেই গরু কোরবানি দেব। হাটে গিয়ে দেখি, আমি নিজেই ‘গরু’ হয়ে গেছি! সবাই আমাকে ঘিরে ফেলল।” বলেন তিনি।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে হাটের ইজারাদারদের এগিয়ে আসতে হয়। তিনি বলেন, “ওরা আমাকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বলল, আপনি স্টেজে বসে থাকুন, আমরা গরু দেখাচ্ছি। পরে বাজেট শুনে কয়েকটা গরু সামনে নিয়ে এলো। শেষ পর্যন্ত ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনে বাসায় ফিরেছিলাম।”

জায়েদ খান: গরুর হাট মানেই উৎসবের আনন্দ
চিত্রনায়ক জায়েদ খান বলেন, “ছোটবেলা থেকেই গরুর হাটে যাওয়ার প্রতি তার আলাদা টান রয়েছে। ব্যস্ততা যতই থাকুক, ঈদের আগে অন্তত একদিন হাটে যাওয়ার চেষ্টা করি। তবে দেশের বাহিরে থাকায় এবার আর তা হয়ে উঠছে না।”

জায়েদ খানের ভাষায়, “গরুর হাটে গেলে আলাদা একটা উৎসবের অনুভূতি কাজ করে। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে হাটে যেতাম। তখন গরু কেনার চেয়ে হাটের মানুষের ভিড়, ডাকাডাকি আর পরিবেশটাই বেশি উপভোগ করতাম।”

তিনি আরও বলেন, “এখন হাটে গেলে মানুষ ঘিরে ধরে, ছবি তুলতে চায়। তারপরও আমি বিষয়টা উপভোগ করি। কারণ মানুষের ভালোবাসা কাছ থেকে অনুভব করা যায়।”

তার মতে, গরুর হাট শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং ঈদের আনন্দের বড় একটি অংশ।

নিরব: গরু কিনে ফেরার আনন্দটাই আলাদা
চিত্রনায়ক নিরব জানান, পরিবারের ছোট ছেলে হওয়ায় প্রতিবছর গরু কেনার দায়িত্বটা তার কাঁধেই পড়ে।
“আমি ভীষণ আনন্দ নিয়ে গরুর হাটে যাই। সঙ্গে সমবয়সী মামাতো ভাই, বন্ধুরা থাকে। সবাই মিলে খুব মজা করি,’ বলেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান গরু কিনে বাসায় ফেরার সময়। তার ভাষায়, “গরু কিনে ফেরার আনন্দটাই আলাদা। কারণ সারা পথে জিজ্ঞেস করে ‘ভাই কত?’”

ঈদুল আজহা শুধু কোরবানির উৎসব নয়, এটি পরিবার, স্মৃতি আর মানুষের মিলনমেলারও নাম। তারকাদের এই গল্পগুলো যেন সেই চেনা আনন্দকেই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।

ঢাকা/রাহাত/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়