মাছ সবজিতে অস্বস্তি, দেশি ফলে স্বস্তি
রায়হান হোসেন || রাইজিংবিডি.কম
ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ ব্যবসায়ী গ্রামে থাকায় এবং টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে মাছ ও সবজির সরবরাহ কম। তাই আরেক দফা বেড়েছে সবজির দাম। বিক্রেতারা বলছেন বাজারে এখন কেজিপ্রতি ৬০ টাকার নিচে খুব বেশি সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে স্বস্তি দিচ্ছে জ্যৈষ্ঠের রসালো দেশি ফল। এবার আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও আনারসের ভালো ফলন ও সরবরাহ ঠিক থাকার কারণে দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ মে) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানায় যায়, ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ ব্যবসায়ী গ্রামে থাকায় ও বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম। তাই বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম।
এখন বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থাকে ১২০ টাকা। দেশি শশা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গাজর (দেশি) ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ফালি ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচমরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, প্রতি পিস জালি কুমড়া ও লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে মাছের দাম, কমেছে ডিমের
বিক্রেতারা বলছেন বৃষ্টির জন্য মাছ চাষের পুকুর ও ঘের তলিয়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন খামারিরা। তাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে মাছের দাম। এখন বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, আকারভেদে তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আকারভেদে দেশি শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, রূপচাঁদা ১হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, বোয়াল আকার অনুযায়ী ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, এবং ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি।
সরবরাহ ভালো থাকায় কমেছে ডিমের দাম। এই মাসে প্রথম সপ্তাহে ডিম বিক্রি হয়েছিল ১৪০ টাকা ডজন। কিন্তু এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা টাকা ডজন। এছাড়া মুদি বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে থেকে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশি মৌসুমী ফলে স্বস্তি
এবার আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও আনারসের ভালো ফলন এবং ভরপুর সরবরাহের কারণে দাম এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে। ফলে নিত্যপণ্যের চড়া দামে দিশেহারা ক্রেতারা অন্তত ফলের দোকানে এসে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে, দেশি জাম প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি পিস কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে এখন ঈশ্বরদী ও দিনাজপুরের লিচু পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ বোম্বাই বা মাদ্রাজ জাতের ১০০ লিচু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং উন্নত মানের চায়না-৩ জাতের ১০০ লিচু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে রাজধানীর কিছু জায়গায় ৩০০ টাকা কেজি দরে লিচু বিক্রি করতে দেখা গিয়েছে।
বাজারে এখন আকার অনুযায়ী এখন প্রতি পিস আনারস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁপে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় বড় সাইজের তরমুজ প্রতি পিস ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কেজি হিসেবে বিক্রি হলে ৬০ থেকে ৭০ টাকা রাখা হচ্ছে। আমদানিকৃত প্রতি কেজি আপেল মান ও জাতভেদে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মাল্টা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
যা বলছেন ক্রেতা-বিক্রেতা
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি ও ফল নিতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সুইটি রায়। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘ঈদের পর বাজার একটু শিথিল হবে ভেবেছিলাম, কিন্তু বাজারে এসে উল্টো চিত্র দেখছি। ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজিই নেই। আর মাছের বাজারে তো হাত দেওয়াই যাচ্ছে না, সাধারণ চাষের পাঙাশ আর তেলাপিয়াও এখন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি চাচ্ছে। তবে একটা জায়গায় শান্তি পেলাম, ফলের বাজারে। এবার আমের দাম বেশ হাতের নাগালে, ৮০ থেকে ১০০ টাকায় ভালো ল্যাংড়া আর হিমসাগর পাওয়া যাচ্ছে। বাচ্চার জন্য অন্তত এক কেজি আম আর একশ লিচু কিনতে পারলাম।’’
রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে সবজি কিনতে এসেছেন হামিম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টির অজুহাতে বিক্রেতারা প্রতি কেজি সবজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। করলা আর বেগুন কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। আমাদের মতো সীমিত বেতনের চাকরিতে এখন সংসারের হিসাব মেলা না। তবে মৌসুমী ফলের দাম কম থাকায় অন্তত বাচ্চাদের মুখে তুলে দিতে পারছি।’’
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিসুর বেপারি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ ব্যবসায়ী গ্রামে থাকায় সবজির আমদানি কম। এছাড়া বৃষ্টিতে চাষীদের সবজি উৎপাদনে সমস্যা হয়েছে। এখন ক্রেতারা ভাবছেন আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছি, কিন্তু পাইকারি বাজারে মাল নাই। আড়ৎ থেকে আমাদেরই চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে, এখন বাজারে ৬০-৭০ টাকার নিচে কোনো ভালো সবজি বিক্রি করা সম্ভব না।’’
নিউমার্কেটের ফল বিক্রেতা মো. নাঈম মুন্সী বলেন, ‘‘এবার রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা আর দিনাজপুর থেকে ফলের গাড়ি একদম সময়মতো নামছে। আম আর লিচুর ভালো ফলন হওয়াতে পাইকারি বাজারে মালের কোনো সংকট নাই। ফলে আমরাও কম দামে আনতে পারছি। বিক্রিও ভালো।’’
ঢাকা/রায়হান
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী আজ