ঢাকা     রোববার   ১২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৯ ১৪৩২ || ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ঝিনাইদহ-যশোর ৬ লেন প্রকল্প

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৩, ১২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৪:১১, ১২ এপ্রিল ২০২৬
জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ঝিনাইদহ-যশোর ৬ লেন প্রকল্প

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে থমকে গেছে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নীত করণ প্রকল্পের কাজ।  প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার) ফেজ-১-এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। চলমান এই প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। মেয়াদ কয়েক মাস থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

আরো পড়ুন:

স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও এখনো মূল সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হয়নি। ঝিনাইদহ শহরের বাইপাসের চুটলিয়া মোড় এলাকায় ফ্লাইওভারের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া, ধোপাঘাটা সেতুর জন্য ব্রিজের গার্ডার নির্মাণ এবং কয়েকটি কালভার্টের আংশিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সড়কের মূল অংশে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহগামী ইজিবাইক চালক রাশেদ উদ্দিন জানান, ‍“সড়কটি প্রকল্পের আওতায় যাওয়ার পর থেকে নিয়মিত মেরামত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। ধুলাবালির কারণে যান চলাচল হয়ে পড়েছে ধীরগতির ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে।”

মাজেদা খাতুন নামে এক সরকারি কর্মচারী বলেন, “আমাকে প্রতিদিন কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ যেতে হয়। বাস বা ইজিবাইকে উঠলে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। পুরো রাস্তার অবস্থা ভাঙাচোরা। এভাবে আর কতদিন চলতে হবে তার কোনো ঠিক নেই। আমাদের ছয় লেন দরকার নেই, দুইলেন ছিল সেটাই ভাল। আমরা রাস্তা ভালো চাই।”

ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম অভিযোগ করেন, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া খুবই হতাশাজনক। তিন বছরে মাত্র ২ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এখন ভিক্ষা চাই না, কুকুর ঠেকা অবস্থা হয়ে গেছে।”

উইকেয়ার ফেজ-১-এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী বলেন, “জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা নির্ধারিত জায়গায় কাজ শুরু করতে পারছি না। যেসব স্থানে জমি বুঝে পেয়েছি, সেখানে আংশিক কাজ চলছে। জমি হস্তান্তর পেলে দ্রুতগতিতে বাকি কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।”

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ‍“ঝিনাইদহ-যশোরের এই সড়কটি এখন সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় নেই। এই সড়ক উইকেয়ার প্রকল্পের অধীনে চলে গেছে।”

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, “প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান। কিছু জটিলতা থাকলেও সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করা যাবে।”

ঢাকা/শাহরিয়ার/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়