সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারের জন্য কমিটি হলে বিবেচনা: শফিকুর রহমান
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
সংবিধান সংশোধন নয়, বরং সংস্কারের জন্য আলাদা কমিটি গঠন হলে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের শীর্ষ নেতারা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই, এটি সংসদের নিয়মিত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব। এটা নিয়মিত কাজ। সরকার বিল আকারে আনবে, আলোচনা হবে, পাস হলে পাস হবে, না হলে হবে না।
তিনি আরো বলেন, সংবিধান সংস্কারের মতো বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য আলাদা কমিটি বা কমিশন প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি দলের কোনো প্রস্তাব এলে তা বিবেচনা করা হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল সংবিধান সংস্কার, আর সে লক্ষ্যেই গণভোট হয়েছে। তাই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। জনগণের দাবি আমরা ছেড়ে দেব না। জনগণ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে জনগণের কথা বলার জন্য।
এ সময় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেটা সংসদে সমাধান হবে, সেটা হবে। আর সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে। তবে তিনি একইসঙ্গে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, আমরা বগলদাবা বিরোধীদল হব না। আমরা এমন কোনো আচরণ করব না, যাতে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়।
শফিকুর রহমান জানান, কোনো ইস্যুতে যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা হলে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে পারেন, তবে তা দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়। তিনি বলেন, আমাদের খুব গরম বিরোধী দল ভাববেন না। আমরা যৌক্তিক বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চাই। এ সময় সংসদে সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে আলোচনার জন্য দেওয়া নোটিশ নিয়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, নোটিশদাতাকে ডেকে বলা হয়েছে, এটা সেনসিটিভ ইস্যু, আপনি উইথড্র করেন। কিন্তু তিনি উইথড্র করেননি। তার অভিযোগ, বিষয়টি কার্যসূচিতে থাকলেও পরে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
মত বিনিময়ে তিনি অর্থবছর জুলাই-জুন থেকে পরিবর্তন করে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জনগণের দাবি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
ঢাকা/এএএম//