মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্যামিলি কার্ড নেবেন জখাতুন বিবি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারে আসছেন। সফরকালে তিনি তৃতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কার্ড গ্রহণ করবেন ভিক্ষুক জখাতুন বিবি। এমনটাই জানিয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মীর্জাপুর সুইলপুর গ্রামের বাসিন্দা জখাতুন বিবির বয়স ৫৫ বছর। ৯ বছর আগে স্বামী আরজান মিয়া মারা গেলে নিঃসন্তান এই নারীর ঠাঁই হয় ভাইয়ের বাড়ির এক কোণে। ভাইয়ের অনটনের সংসারে নিজে হয়েছেন বোঝা, তাই বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি । হতদরিদ্র এই জীবনসংগ্রামী নারী এবার পাচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করতে ১৭ জুন মৌলভীবাজার শহর ও শ্রীমঙ্গলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া আর্থিক সুবিধা সচ্ছলতা ফেরাবে বলে প্রত্যাশা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।
বুধবার আকাশপথে সিলেটের এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টায় যাবেন শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের নারীদের হাতে তুলে দেবেন ফ্যামিলি কার্ড। অন্যদিকে, মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২ জনকে এ কার্ড দেবেনে প্রধানমন্ত্রী।
ফ্যামিলি কার্ডপ্রত্যাশী জখাতুন বলেছেন, “আমি অসহায়, ভিক্ষা করে জীবন চালাই। সরকারের এই সহায়তা আমার অনেক কাজে আসবে। ভাইয়ের ভিটায় ঠাঁই নিয়েছি। সেও দিনমজুর। তার টানাটানির সংসার। আমাকে সাহায্য করতে পারে না।”
ভাই রাজা মিয়া বলেন, “আমার বোন নিঃসন্তান। তার স্বামী মারা গেছে। এখন আমার আশ্রয়ে রয়েছে। আমি দিনমজুর। আমার সংসার চালানো কঠিন। আমার বোন উপায় না দেখে ভিক্ষা করতে নেমেছে। ফ্যামিলি কার্ড পেলে হয়ত তার কষ্ট দূর হবে।”
মীর্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আরমান আলী বলেছেন, “আমি যাচাই-বাছাই করে নাম দিয়েছি। আমার ওয়ার্ডে অনেক অসহায় লোকজন আছেন। জখাতুন বড় অসহায়। তার একটা ঘরের বড় প্রয়োজন।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সুয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, “সরকারের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ফ্যামিলি কার্ড সমাজের হতদরিদ্র মানুষরা অনেক সুবিধা পাবেন।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিএনপির নেতারা। সামগ্রিক কাজের তদারকি করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেছেন, “আমরা জখাতুন বিবিকে মঞ্চে আনব। তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তার ফ্যামিলি কার্ড নেবেন।”
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেছেন, “পর্যটন ও চা শিল্পের সম্ভাবনাময় এ জেলার সকল সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আসার খবরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা দাবি উঠছে। মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু, রাজনগরকে পৌরসভা ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেবেন প্রধানমন্ত্রী, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।”
ঢাকা/আজিজ/রফিক