রংপুরে পাম্পে তেল নিতে গিয়ে মারা গেলেন শিক্ষক
রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
মেহেদী হাসান
রংপুরে একটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে গিয়ে এক শিক্ষক মারা গেছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর নগরীর মেসার্স সুরমা ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারে ঘটনাটি ঘটে।
মারা যাওয়া শিক্ষকের নাম মেহেদী হাসান (৩৩)। তিনি রংপুর সদর উপজেলার বালাচড়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। রংপুর নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ার বাসিন্দা তিনি।
মেহেদী হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন বলে জানিয়েছেন তার বাবা বেগম রোকেয়া কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ আবদুল মতিন। তবে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাহবুব হোসেন বলেন, “ওই ব্যক্তি হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন।”
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পর্যটন মোটেলের বিপরীত পাশে মেসার্স সুরমা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে যান মেহেদী। তিনি অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের সারিতে ছিলেন না।
সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে সুমনা ফিলিং স্টেশনের বাঁ দিকে ফাঁকা স্থানে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মজনু মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন মেহেদী। সেখানে থেকে হেঁটে খানিক দূর এগুনোর সময় মাটিতে ঢলে পড়েন। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেহেদী হাসানকে ইজিবাইকে করে নিকটবর্তী প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) নেওয়ার কথা বলেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে মেহেদীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুরমা ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারের ব্যবস্থাপক আরাফাত হোসেন বলেন, “আনুমানিক বিকেল ৪টার পরপর গেটে মাস্ক পরা একজন আমাদের কর্মচারীকে কী যেন জিজ্ঞেস করছিলেন। হয়তো তেলের বিষয়ে কোনো তথ্য নিচ্ছিলেন। ওই সময় আমার ফোনে একটি কল আসে। আমি ফোনের দিকে তাকাইলাম, আবার বাইরের দিকে তাকালাম। বাইরে তাকানোর পরে দেখি লোকটা ধপ করে পড়ে গেল।”
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, মেহেদী হাসানের এক স্বজন রাত ৮টার দিকে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে গেছেন।
ঘটনার সময় ওই ফিলিং স্টেশনে তদারকির দায়িত্বে (ট্যাগ অফিসার) ছিলেন রংপুর উপজেলার কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মাহে আলম ও রংপুর মহানগরের কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক সাদ্দাম সরকার। সাদ্দাম বলেন, “উনি (মেহেদী হাসান) হঠাৎ করে পড়ে গেছেন। পড়ে যাওয়ার পরে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না। তাৎক্ষণিকভাবে অটোরিকশায় করে তাকে মেডিকেলে সোপর্দ করা হয়েছিল।”
মেহেদী হাসান রংপুর জিলা স্কুলের ২০১০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন, সহকর্মী ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঢাকা/আমিরুল/মাসুদ
ভারতীয় উপ-মহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন