ঢাকা     রোববার   ৩১ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪৩৩ || ১৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩৪, ৩১ মে ২০২৬  
জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশ—এ দুটো অবিচ্ছেদ্য। একে আলাদা করা যায় না। কারণ, জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্যে দিয়ে যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন রাষ্ট্র হিসেবে একটি অস্তিত্ব লাভ করেছে।”

রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি জনগণের যে আস্থা, সেই আস্থার প্রকাশ হিসেবে দেশের মানুষ যখন নতুন নেতৃত্ব খুঁজছিল, তখন একটি জনতা বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে তাকে আবার দায়িত্ব দিয়েছিল দেশ পুনর্গঠনের। প্রথমটি ছিল দেশের স্বাধীনতার, দ্বিতীয়টি হচ্ছে দেশ বিনির্মাণের।”

তিনি বলেন, “এটা একটা অলৌকিক ঘটনা বলা যেতে পারে যে, প্রতিটি মুহূর্তেই বিএনপির সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে এই মানুষটি সামনে এসেছেন। যখনই মানুষ কর্তব্যবিমূঢ় হয়েছে, ১৯৭১ সালে যখন দিশেহারা, তখন ‘মেজর জিয়া বলছি’। সে ক্ষেত্রে মেজরের কথা কিন্তু গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছে। আবার ঠিক ১৯৭৫ সালে যেন একই অবস্থা, তখন কিন্তু আবার সেই ‘মেজর জেনারেল জিয়া বলছি’। আবার জাতিকে জাগিয়ে তুলেছেন, ঐক্যবদ্ধ করেছেন, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছেন।”

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য মনে হয় আমার, তার মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে—তিনি বাংলাদেশি জাতিকে একটি নতুন পরিচয় দিয়েছিলেন, একটি আইডেন্টিটি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্যে দিয়ে তিনি দেখিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ জাতি অন্যান্য জাতির সঙ্গে এক নয় বা বাংলাদেশের ভূখণ্ড অন্যান্য ভূখণ্ডের সঙ্গে এক নয়। ভাষা এক হলেও সেই পরিচিতিটা তিনি দিয়েছিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্য দিয়ে।”

তিনি বলেন, “পরবর্তীকালে বাংলাদেশ জাতি যে সামনে এগিয়ে যেতে পারে সঠিক নেতৃত্ব দিলে, সেটা তিনি প্রমাণ করেছিলেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ ছিল বিভীষিকাময় সময়। দুঃসময়ে স্বাধীনতা যেন ব্যর্থ হয়ে গেল, এই কথা মনে হচ্ছিল প্রতিমুহূর্তে। এই আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে। সেই জাতিকে, সেই তলাবিহীন ঝুড়িকে আবার টেনে তোলা ওপরে এবং সেখানে একটি সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করা, এটা জিয়াউর রহমান সাহেব তার নেতৃত্ব দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। এই ঐক্যবদ্ধ করাটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় গুণ। বিভাজন করেননি, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।”

বিএনপির মহাসচিব বলেন, “যে কারণেই তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে এসে যে প্রথম ক্যাবিনেট তৈরি করেছিলেন, তাকে বলা হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্যাবিনেট। বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো মানুষগুলোকে নিয়ে তিনি ক্যাবিনেট তৈরি করেছিলেন।”

সংস্কারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজকাল একটি রাজনৈতিক শক্তি, কয়েকটি শক্তি খুব জোর দিয়ে বলে—সংস্কার, সংস্কার, সংস্কার। আমরা কি সংস্কারে বিশ্বাস করি না? সংস্কার করছি না? আমি বারবার যে কথাটা বলি, সংস্কারের জন্ম তো বিএনপি দিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছেন। এটা একটা মেজর সংস্কার ছিল, একটি মৌলিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তন তিনি করেছিলেন।”

“গণমাধ্যমে স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলতে চেয়েছেন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান জরুরি। এভাবেই একটি রাষ্ট্র, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে প্রতিষ্ঠান নির্মাণের মধ্য দিয়ে। সেটাই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব শুরু করেছিলেন এবং অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিলেন।”

জিয়াউর রহমানকে আলোকবর্তিকার সঙ্গে তুলনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “শুধু এইটুকু বলতে চাই যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব আমাদের সামনে সেই আলোকবর্তিকার মতো, যার দিকে তাকিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।”

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের এমন কোনো ক্ষেত্র ছিল না, যে ক্ষেত্রে তার হাত পড়েনি। আপনি কৃষির কথা বলেন, খাল খননের কথা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু, আপনি যদি গবেষণার দিকে যান, বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে যান, দেখবেন প্রত্যেকটাতেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার নাম জড়িয়ে আছে। অর্থাৎ শুরু করেছেন তিনি গবেষণা দিয়ে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ তিনি নিয়ে এসেছেন। যার ফলে বাংলাদেশে তিনি একটি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। যেখানে ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগ তাদের নিজেদের কারণে একটি দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছিল, সেখানে বাংলাদেশ ১৯৮০ সালে উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করে খাদ্য রপ্তানি করেছে। এটা জিয়া সাহেব করেছিলেন।”

জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা ও নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি সততার কথা বারবার বলতে চাই না। এটা একটা অসাধারণ ব্যাপার। কিংবদন্তিতুল্য সততা ছিল তার মধ্যে। তার মধ্যে যে রাষ্ট্রনায়কচিত গুণাবলি ছিল, সেটা ছিল অসাধারণ। তার পরম শত্রুও স্বীকার করত—জিয়াউর রহমানের মধ্যে নেতৃত্বের সমস্ত গুণাবলি ছিল।”

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/নজরুল/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়