কেজিতে বিক্রি হচ্ছে লিচু, খুশি ক্রেতা-বিক্রেতা
বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত লিচু শ’ হিসেবে কিনতে অভ্যস্ত। কিন্তু, এবার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। গণনার ঝামেলা এড়াতে চালু হয়েছে কেজি হিসেবে লিচু বিক্রি। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই খুশি।
রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ফলপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকজন বিক্রেতা কেজি দরে লিচু বিক্রি করছেন।
কারওয়ান বাজারের লিচু কিনতে এসেছেন গৃহিণী ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আগে একশ’ লিচু কিনতে গেলে বিক্রেতারা তাড়াহুড়ো করে গুনে দিত। বাসায় গিয়ে দেখতাম ৮০-৮৫টার বেশি নেই, তার ওপর গোটা দশেক পচা বের হতো। এখন কেজিতে নেওয়ার সুবিধা হলো, আমি নিজে দেখে ভালো লিচুগুলো বেছে ওজনে নিচ্ছি। দামটাও তুলনামূলক যৌক্তিক মনে হচ্ছে। অন্তত ঠকার কোনো সুযোগ নেই।”
আরেকজন ক্রেতা বেসরকারী চাকরিজীবী মিরাজুল ইসলাম। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, “১০০ লিচুর দাম মান ও জাতভেদে একসঙ্গে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা চাইলে অনেক সময় বাজেট মেলে না। কেজিতে বিক্রি হওয়াতে আমার মতো সাধারণ ক্রেতারা চাইলে আধা কেজি বা এক কেজি লিচুও কিনতে পারছে। গোনার ঝামেলা না থাকায় সময়ও বাঁচছে, এই পদ্ধতিটা খারাপ লাগেনি। শ’ হিসেবে নিলে যা পেতাম, কেজিতে তা পাওয়া যাচ্ছে। মাঝখানে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা দেখে শুনে নিতে পারছি।”
কারওয়ান বাজারে ভ্রাম্যমাণ লিচু বিক্রেতা বজলুর রহমান। তিনি বলেন, “আগে ১০০ লিচুর আটি বাঁধার সময় অনেক ছোট বা দাগি লিচু ভেতরে ঢুকে যেত, যা নিয়ে ক্রেতাদের সাথে প্রায়ই তর্ক হতো। এখন কেজি দরে বিক্রি করায় আমরাও পরিষ্কার, ভালো লিচুগুলো ওজন করে দিতে পারছি। ক্রেতারাও খুশি হয়ে কিনছেন, আমাদেরও বেচাবিক্রি অনেক ভালো হচ্ছে। এখানে কারো লস হওয়ার সুযোগ নেই। দামের হিসেবে করলে কেজি আর শ’ একই।”
আরেক লিচু বিক্রেতা জমাল সিকদার বলেন, “শ’ হিসেবে বিক্রি করলে অনেক সময় ক্রেতারা লিচু গুনতে গিয়ে সময় নষ্ট করতেন, আবার অনেক লিচু নষ্টও হতো। কেজিতে বেচায় সুবিধা হলো ছিঁড়ে যাওয়া বা ডালছাড়া ভালো লিচুগুলোও আমরা আলাদা করে বিক্রি করতে পারছি। এতে আমাদের অপচয় কমেছে। ক্রেতা-বিক্রেতা দুই পক্ষের জন্যই এই নিয়মটা লাভজনক হয়েছে। আমি আজ কেজি বিক্রি করছি মান ও জাতভেদে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।”
ঢাকা/রায়হান/রফিক