ছোটবেলায় দুষ্টু প্রকৃতির ছিলাম: প্রধানমন্ত্রী
রবিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তিনি দুষ্টু প্রকৃতির ছিলেন। একসময় বাসার এক কর্মচারীকে বুলিং করার কারণে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাকে শাসন করেছিলেন।
রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাভাবিকভাবে সকলের বাসাতেই বাসার বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করার জন্য মানুষজন থাকে। আমাদের বাসাতেও মানুষজন ছিল—হাউসকিপিংসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করার জন্য। তখন বয়স কম। স্বাভাবিকভাবেই ১২-১৩ বছর বয়সের একজন ছেলে যেমন হয়, আমিও তেমনই ছিলাম। দুষ্টু প্রকৃতির ছেলে, যা ইচ্ছা তাই করার চেষ্টা করছি, যা ইচ্ছা তাই বলার চেষ্টা করছি।”
“স্বাধীনতার পরপর, এখন যেমন আনফরচুনেটলি দেখা যায় যে, সোশ্যাল মিডিয়াতে বুলিং হয়, তখনও বিভিন্ন ধরনের শব্দ ছিল, যেগুলো দিয়ে মানুষকে বুলিং করা যেত। আমরা ছোট ছিলাম, স্কুল থেকে এরকম কিছু শব্দও শিখেছিলাম। তো আমি সেরকম কয়েকটি শব্দ আমাদের বাসার একজন সহকারীকে বলেছিলাম, যিনি বাসার কাজে সহযোগিতা করতেন। অর্থাৎ আমি তাকে একটু বুলিং করেছিলাম।”
তিনি বলেন, “যেভাবেই হোক, আব্বা জিনিসটা জানতে পেরেছিলেন। জানতে পারার পর, যতটুকু আমার মনে পড়ে, উনি আমার কান এভাবে ধরে টেনে আমাকে নিয়ে গেলেন। লোকটা যেখানে সাধারণত কাজের ফাঁকে বসে বিশ্রাম করত, সেখানে নিয়ে গেলেন। তারপর আমাকে বললেন, ওকে সরি বলো। উনি আমাকে বাধ্য করলেন সরি বলার জন্য। যাই হোক, তখন মারের ভয়ে, শাসনের ভয়ে আমি সরি বলেছিলাম।”
ঘটনাটি উল্লেখ করার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উপস্থিত নেতৃবৃন্দ, কর্মী ভাইয়েরা, এই ঘটনাটি আমি আপনাদের সামনে যেভাবে তুলে ধরলাম, কান ধরার স্টাইলটাও দেখালাম, নিশ্চয়ই আপনারা মজা পেয়েছেন। কিন্তু, আমি মজা দেওয়ার জন্য ঘটনাটি বলিনি। আমি ঘটনাটি উল্লেখ করেছি একটি সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষার বিষয় হিসেবে।”
তিনি বলেন, “দেশে ফেরার পরে, প্রায় ১৭ বছর পর, আমি মহাসচিব সাহেব এবং আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলাপ করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা ছোটবেলায় যে পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষাটা পেয়েছিলাম, কোথায় যেন তার একটা অভাব রয়েছে। দেশে ফিরে আসার পরে আমার কাছে এমনটাই মনে হয়েছে। হয়তো আপনারা আরো ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু, আমার মনে হয়েছে, কোথাও একটা অভাব আছে। আমি মনে করি, এই বিষয়টিতে আমাদের নজর দেওয়া উচিত।”
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মূল্যবোধের বিষয়টি নিয়ে কাজ করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এরইমধ্যে সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর আমি আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছিলাম। আমি তাদেরকে কান ধরার ঘটনাটি বলিনি, তবে আমার এই অভিজ্ঞতার কথা বলেছি। আমি তাদের বলেছি যে, মূল্যবোধের একটি ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।”
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক মূল্যবোধ, একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ—মুরুব্বিদের শ্রদ্ধা করা, অসহায়কে সহযোগিতা করা, মানুষের সঙ্গে বিনয়ীভাবে কথা বলা—এই ধরনের ছোট ছোট মূল্যবোধগুলো কীভাবে আবার শিশুদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া যায়, কীভাবে আগামী প্রজন্মের মধ্যে এগুলো গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।”
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/নজরুল/রফিক